প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয় নানা সংকটে ভুগছে, যার মধ্যে আবাসন, শিক্ষক এবং পরিবহন অন্যতম। প্রতিষ্ঠার দুই দশক পেরিয়ে গেলেও, ৭১ শতাংশ শিক্ষার্থী এখনও আবাসন সুবিধা থেকে বঞ্চিত রয়েছে।
এদিকে, শিক্ষকদের অনুমোদিত পদের প্রায় ৫৪ শতাংশ খালি রয়েছে। চিকিৎসাকেন্দ্র থেকেও কাঙ্ক্ষিত সেবা পাওয়া যাচ্ছে না। তবে উপাচার্য জানিয়েছেন, সংকট কমানোর জন্য তারা কাজ করছেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন সমস্যা নিয়ে তিন পর্বের ধারাবাহিক প্রতিবেদনের আজ শেষ পর্ব।
শিক্ষার্থীদের জরুরি চিকিৎসাসেবার জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ে একটি দোতলা মেডিকেল সেন্টার রয়েছে, যার নাম ‘ব্যথার দান’। এখানে ২৪ ঘণ্টা চিকিৎসা সেবা দেওয়ার কথা বলা হলেও, কার্যক্রম সীমাবদ্ধ সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত। সন্ধ্যার পর চিকিৎসাকেন্দ্রের দরজা বন্ধ হয়ে যায়। ১০ হাজারের বেশি শিক্ষার্থীর স্বাস্থ্যসেবা দেওয়ার জন্য এখানে মাত্র চারজন চিকিৎসক কর্মরত আছেন। জনবলসংকটের কারণে ২৪ ঘণ্টা চিকিৎসাসেবা দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না বলে কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। ফলে সন্ধ্যার পর অসুস্থ হলে শিক্ষার্থীদের ক্যাম্পাসের বাইরে যেতে হয়। তাদের ত্রিশাল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স অথবা ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে যেতে হয়।
সম্প্রতি বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস পরিদর্শনকালে ‘ব্যথার দান’ মেডিকেল সেন্টারের কার্যক্রম এবং শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্যসেবা নিয়ে এমন চিত্র দেখা গেছে।
শিক্ষার্থীরা জানাচ্ছেন, সন্ধ্যার পর সবচেয়ে বড় সমস্যা দেখা দেয়। রাতে অসুস্থ হলে মেডিকেল সেন্টারে চিকিৎসক না থাকায় তাদের ক্যাম্পাসের বাইরে যেতে হয়। মানবসম্পদ ব্যবস্থাপনা বিভাগের শিক্ষার্থী শাকিব ভূঁইয়া বলেন, "সন্ধ্যার পর কোনো শিক্ষার্থী হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়লে ক্যাম্পাসে তাৎক্ষণিক চিকিৎসার সুযোগ সীমিত। তখন বাধ্য হয়ে বাইরে যেতে হয়। ক্যাম্পাসেই অন্তত প্রাথমিক চিকিৎসা ও জরুরি সেবা নিশ্চিত করা প্রয়োজন।"
শিক্ষার্থীদের দাবি, রাতেও চিকিৎসক এবং প্রয়োজনীয় ওষুধসহ মেডিকেল সেন্টার চালু রাখতে হবে। বিশেষ করে আবাসিক হলগুলোতে থাকা শিক্ষার্থীদের জন্য রাতের জরুরি চিকিৎসাসেবা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
মেডিকেল সেন্টার থেকে ওষুধ নিতে আসার সময় পরিবেশ বিজ্ঞান ও প্রকৌশল (ইএসসি) বিভাগের ১৯তম ব্যাচের শিক্ষার্থী রত্না আক্তারের সঙ্গে কথা হয়। তিনি বলেন, "এখানে পর্যাপ্ত ওষুধ পাওয়া যায় না, কেবল গ্যাস্ট্রিক বা নাপার মতো কয়েকটি সাধারণ ওষুধ মেলে। সন্ধ্যার পর অসুস্থ হলে কোনো ডাক্তার থাকেন না, চিকিৎসা কেন্দ্রটি পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়। তখন সামান্য চিকিৎসার জন্যও আমাদের ময়মনসিংহে ছুটতে হয়। যাতায়াতের পথে রোগীর অবস্থার চরম অবনতি ঘটে। আমরা চাই চিকিৎসা কেন্দ্রটি ২৪ ঘণ্টা খোলা রাখা হোক, রাতে ডাক্তারের উপস্থিতি নিশ্চিত করা হোক এবং সব ধরনের জরুরি ওষুধের পর্যাপ্ত সরবরাহ বাড়ানো হোক।"
মেডিকেল সেন্টারের অতিরিক্ত চিফ মেডিকেল অফিসার আবুল খায়ের মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন জানান, জনবল কাঠামো অনুযায়ী ৩৪ জন থাকার কথা থাকলেও বর্তমানে চিকিৎসক, নার্স এবং অন্যান্য কর্মীসহ আছেন মাত্র ১১ জন। ফলে ২৪ ঘণ্টা সেবা দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। শিক্ষার্থীদের মুঠোফোন নম্বর দেওয়া আছে, সন্ধ্যার পর কেউ অসুস্থ বোধ করলে টেলিমেডিসিন সেবা দেওয়া হয় এবং প্রয়োজনে অ্যাম্বুলেন্স সুবিধা দিয়ে হাসপাতালে পাঠানো হয়।
মেডিকেল সেন্টারের উপপ্রধান চিকিৎসা কর্মকর্তা ডা. মোছাম্মৎ মমতাজ বেগম বলেন, "বর্তমানে চারজন চিকিৎসক দিয়ে ২৪ ঘণ্টা সেবা চালু রাখা সম্ভব নয়। অন্তত ১০ জন চিকিৎসক প্রয়োজন। বিশেষ করে রাতে এক থেকে দুইজন চিকিৎসক থাকলে জরুরি পরিস্থিতিতে শিক্ষার্থীদের তাৎক্ষণিক চিকিৎসা দেওয়া সম্ভব হবে।"
তিনি আরও জানান, প্রতিদিন মেডিকেল সেন্টারে প্রায় ২০০ থেকে ৪০০ রোগী আসেন। জ্বর, সর্দি, কাশি এবং বিভিন্ন সাধারণ অসুস্থতা নিয়ে শিক্ষার্থীরা বেশি আসেন। তবে চিকিৎসকের পাশাপাশি কখনো কখনো ওষুধেরও সংকট তৈরি হয়। সরবরাহের কাগজপত্র বা ওষুধ আসতে দেরি হলে সাময়িকভাবে কিছু ওষুধের ঘাটতি দেখা দেয়।
এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. মোহাম্মদ মোশাররফ হোসেন বলেন, "১০ হাজারের বেশি শিক্ষার্থীর স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে মেডিকেল সেন্টারে বর্তমানে যে চারজন চিকিৎসক রয়েছেন, তা পর্যাপ্ত নয়। চিকিৎসক সংকটের বিষয়টি আমরা অবগত আছি। এ সংকট নিরসনে আরও চিকিৎসক নিয়োগের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) কাছে চাহিদা পাঠানো হয়েছে। প্রয়োজনীয় জনবল পাওয়া গেলে মেডিকেল সেন্টারের চিকিৎসাসেবার পরিধি বাড়ানো সম্ভব হবে। শিক্ষার্থীরা যেন ক্যাম্পাসেই প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসেবা পান, সে বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন কাজ করছে।
পরিবহনেও সংকট
শিক্ষার্থী, শিক্ষক এবং কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব ২৪টি যানবাহন রয়েছে। তবে স্বাভাবিকভাবে কার্যক্রম চালাতে প্রায় ৩০টি গাড়ি প্রয়োজন বলে কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। প্রায় ৭১ শতাংশ শিক্ষার্থী বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসনের বাইরে থাকায় তাদের ময়মনসিংহ শহর বা আশপাশ থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ে যাতায়াত করতে হয়। পরিবহনসংকটের কারণে প্রতিদিন দুর্ভোগে পড়ছেন শিক্ষার্থীরা।
বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক মোহাম্মদ মোশাররফ হোসেন বলেন, "নতুন গাড়ি কেনার ক্ষেত্রে সরকারি নিষেধাজ্ঞা থাকায় আপাতত ভাড়া করা গাড়ির মাধ্যমে প্রয়োজন মেটানো হচ্ছে। বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও অংশীজনের কাছ থেকেও পরিবহন উপহার চাওয়া হচ্ছে যেন সংকট কাটানো যায়।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন