প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
ঢাকার ধামরাইয়ে বিএনপি নেতাকর্মীদের ওপর হামলা এবং সংসদ সদস্য মো. তমিজ উদ্দিনকে লক্ষ্য করে হুমকি ও অশালীন বক্তব্য দেওয়ার কারণে ইউপি চেয়ারম্যান মো. রমিজুর রহমান চৌধুরী রোমাকে গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়ে দফায় দফায় বিক্ষোভ মিছিল করেছেন বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনের নেতৃবৃন্দ।
মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) সকালে উপজেলা পরিষদের সামনে কৃষক দল, শ্রমিক দল, স্বেচ্ছাসেবক দল এবং বিভিন্ন দলের নেতাকর্মীরা বিক্ষোভ মিছিল করেন। এর আগে ছাত্রদল ও যুবদলের নেতাকর্মীরাও বিক্ষোভে অংশ নেন। বিক্ষোভকারীদের দাবি ছিল—চেয়ারম্যান রমিজুর রহমান চৌধুরী রোমাকে গ্রেপ্তার করতে হবে। এ ছাড়া প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরে স্মারকলিপি দেওয়া হয়েছে। এ নিয়ে উপজেলা জুড়ে আলোচনা-সমালোচনা চলছে।
জানা গেছে, গত শনিবার (৩ অক্টোবর) বিকেলে সূতিপাড়া ইউনিয়নের বালিথা এলাকায় নিষিদ্ধ সংগঠন আওয়ামী লীগ ও তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে উপজেলা বিএনপির নেতাকর্মীরা মোটরসাইকেল মিছিল শেষে সমাপনী বক্তব্য দেওয়ার সময় চেয়ারম্যান রমিজুর রহমান চৌধুরী রোমার লোকজন বিএনপির নেতাকর্মীদের ওপর হামলা চালায়। হামলায় সূতিপাড়া ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের সাংগঠনিক সম্পাদক শরিফুল ইসলামসহ উভয় পক্ষের বেশ কয়েকজন আহত হন। ওই দিন চেয়ারম্যান রমিজুর রহমান স্থানীয় সংসদ সদস্য তমিজ উদ্দিনকে মারামারির চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দেন এবং তাকে সূতিপাড়ায় আসতে বলেন। তিনি মন্তব্য করেন, "এমপি কিছু কুত্তা পাঠিয়ে দিয়েছেন।" তার এই অশালীন মন্তব্যের ফলে ধামরাইয়ের রাজনৈতিক পরিবেশ উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। চেয়ারম্যানের বক্তব্যের পর থেকেই বিএনপি ও সহযোগী অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা বিক্ষোভ অব্যাহত রেখেছেন।
পরদিন রোববার স্থানীয় সংসদ সদস্য তমিজ উদ্দিন সংবাদ সম্মেলন করেন। সংবাদ সম্মেলনে তমিজ উদ্দিনসহ নেতাকর্মীরা বলেন, ইউপি চেয়ারম্যান রমিজুর রহমান একজন দালাল, আওয়ামী লীগের সঙ্গে আঁতাত করে বিভিন্ন ব্যবসা-বাণিজ্য করে আঙুল ফুলে কলাগাছ হয়েছেন। তিনি একাধিক বাড়ি-গাড়ি গড়ে তুলেছেন। আওয়ামী লীগের পক্ষে মাঠে নির্বাচনে ভোট চেয়েছেন। বক্তব্যে তাকে দালাল, সন্ত্রাসী, চাঁদাবাজ বলা হয়নি, বরং তাকে সন্ত্রাসীদের গডফাদার বলেও মন্তব্য করা হয়।
অন্যদিকে শারদীয় উৎসব দুর্গাপূজা উপলক্ষে উপজেলার আইনশৃঙ্খলা সভায় বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী মহিলা দলের সাধারণ সম্পাদক ও সংরক্ষিত মহিলা আসনের সংসদ সদস্য সুলতানা আহমেদ সূতিপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান রমিজুর রহমান চৌধুরী রোমাকে উদ্দেশ্য করে বলেন, "আমরা ধামরাইয়ে শান্তি চাই। দলের চেইন অব কমান্ড মানতে হবে। কোথাকার কে আমাদের এমপি সাহেবের সাথে চ্যালেঞ্জ করেছে, তাকে বলতে চাই—তোমাকে শায়েস্তা করতে আমার মহিলা দলই যথেষ্ট।"
উল্লেখ্য, বিএনপির নেতাকর্মীদের ওপর হামলার ঘটনায় সূতিপাড়া ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক দেলোয়ার হোসেন বাদী হয়ে চেয়ারম্যান রমিজুর রহমান চৌধুরী রোমাকে প্রধান আসামি করে এবং ১২ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা আরও ৫০-৬০ জনের বিরুদ্ধে মামলা করেন। এ মামলায় সোহেল মাহমুদ নামের একজন আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
এ বিষয়ে ধামরাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. নাজমুল হুদা খান সাংবাদিকদের জানান, এ ঘটনার অভিযোগের ভিত্তিতে চেয়ারম্যান রমিজুর রহমান চৌধুরী রোমাকে প্রধান আসামি করে ১২ জনের নাম উল্লেখ করে একটি মামলা হয়েছে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন