প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
গ্রামবাংলার বাড়ির আঙিনা, বাগান কিংবা টবের পরিচিত ফুল দোপাটি। রঙিন ও আকর্ষণীয় এই ফুল মানুষের দৃষ্টি সহজেই আকর্ষণ করে। বর্ষাকালে সজীব সবুজ পাতার মাঝে লাল, গোলাপি, সাদা ও বেগুনি রঙের ফুল ফুটে উঠলে প্রকৃতিতে ভিন্ন এক সৌন্দর্য যুক্ত হয়। দোপাটি ফুলের ইংরেজি নাম Garden balsam, এছাড়া Rose balsam, Touch-me-not এবং Lady slipper নামেও এটি পরিচিত। এর বৈজ্ঞানিক নাম Impatiens balsamina।
Balsaminaceae পরিবারের অন্তর্ভুক্ত একটি একবর্ষজীবী সপুষ্পক উদ্ভিদ দোপাটি। সাধারণত দোপাটি গাছের উচ্চতা ৪৫ থেকে ৬০ সেন্টিমিটার পর্যন্ত হয়, তবে পরিবেশ ও জাতভেদে এর উচ্চতা কিছুটা বেশি হতে পারে। গাছের কাণ্ড পুরু, নরম এবং রসালো। এই বৈশিষ্ট্যের কারণে সহজেই ভেঙে যেতে পারে। গাছের প্রকৃতি সাধারণত ঝোপালো।
দোপাটি গাছের পাতাগুলো লম্বাটে বা কিছুটা বল্লমাকার। পাতার কিনারা করাতের দাঁতের মতো খাঁজকাটা। সবুজ পাতার সঙ্গে বিভিন্ন রঙের ফুলের সমন্বয় দোপাটি গাছকে অত্যন্ত আকর্ষণীয় করে তোলে। দোপাটি ফুল একক কিংবা দ্বৈত পাপড়ির হতে পারে। ফুলের রং সাদা, গোলাপি, লাল, বেগুনি ইত্যাদি। দ্বৈত পাপড়ির ফুল ছোট গোলাপের মতো দেখতে হয়। এই কারণে বাগানের সৌন্দর্য বাড়াতে এবং বাগানের বর্ডার তৈরিতে দোপাটি গাছ জনপ্রিয়। গরম ও বর্ষাকালে দোপাটি ভালোভাবে বেড়ে ওঠে এবং এই সময় প্রচুর ফুল ফুটতে দেখা যায়। উষ্ণ ও অনুকূল পরিবেশে বছরের অন্য সময়েও ফুল ফুটতে পারে। বীজ থেকে সহজেই এর চারা জন্মানো যায় এবং বাড়ির আঙিনা, বাগান কিংবা টবেও এটি চাষ করা সম্ভব।
তবে দোপাটি ফুলের সবচেয়ে বিস্ময়কর বৈশিষ্ট্য তার ফলের মধ্যে নিহিত। ফল পরিপক্ক হলে সামান্য স্পর্শ বা চাপেই এর ফলের খোসা হঠাৎ ফেটে যায় এবং ভেতরের বীজ চারদিকে ছিটকে পড়ে। বীজ ছড়িয়ে দেওয়ার এই বিস্ফোরণধর্মী পদ্ধতির কারণে ইংরেজিতে দোপাটির একটি প্রচলিত নাম ‘ঞড়ঁপয-সব-হড়ঃ’ রয়েছে।
দোপাটি শুধুমাত্র একটি পরিচিত বাগানফুল নয় বরং বর্ষার প্রকৃতিতে রঙের এক সুন্দর সংযোজন। নরম কাণ্ড, সবুজ পাতা এবং বাহারি রঙের ফুলের সমাহারে এটি বাড়ির আঙিনা ও বাগানের সৌন্দর্য বৃদ্ধি করে। সহজে জন্মানো এবং পরিচর্যা তুলনামূলকভাবে সহজ হওয়ায় গ্রামবাংলার বাড়ির আঙিনা থেকে শহরের টবের বাগান-সবখানেই দোপাটি ফুলের রয়েছে আলাদা কদর। ছবিটি শনিবার সকাল ১১টার দিকে মৌলভীবাজার শহরের ফরেস্ট অফিস রোডের কল্লোল দেবের বাসার ছাদবাগান থেকে তোলা।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন