প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক সংলগ্ন মুন্সীগঞ্জের গজারিয়ায় অতি দুর্ধর্ষ একটি ডাকাতির ঘটনা ঘটে গেছে।
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক সংলগ্ন মুন্সীগঞ্জের গজারিয়ায় এক মহান ডাকাতির ঘটনাটি ঘটেছে। একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের আটজন কর্মকর্তা ও কর্মচারীকে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে এবং তাদের হাত-পা বেঁধে প্রায় সাড়ে পাঁচ ঘণ্টা ধৈর্য ধরে তাণ্ডব চালিয়েছে ডাকাত দল। এ সময় প্রতিষ্ঠানটি থেকে অন্তত ২০ লাখ টাকার মূল্যবান যন্ত্রপাতি ও মালামাল ট্রাকে করে লুট করার ঘটনা ঘটে।
শুক্রবার (১০ জুলাই) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টা থেকে রাত ১টা পর্যন্ত উপজেলার বালুয়াকান্দি ইউনিয়নের মুসলিমনগর এলাকায় ‘দ্যা জিয়া অ্যান্ড ব্রাদার্স’ নামের একটি প্রতিষ্ঠানের স্টোর এবং স্টেক ইয়ার্ডে এই ভয়ঙ্কর ঘটনা ঘটেছে। ব্যস্ত মহাসড়কের পাশে এত দীর্ঘ সময় ধরে ডাকাতির এই ঘটনাটি স্থানীয়দের মাঝে চরম ক্ষোভ এবং মিশ্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করেছে। আরও একটি বিষয় হলো, সিসিটিভি ক্যামেরা অথবা ন্যূনতম নিরাপত্তা নিশ্চিত করা ছাড়া প্রতিষ্ঠানটি পরিচালনা করায় কর্তৃপক্ষের ভূমিকা নিয়েও সমালোচনা হচ্ছে।
ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী নিরাপত্তারক্ষী রিপন মিয়া বলেন, সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে গেটের তালা খোলা ছিল। এমন সময় হঠাৎ কালো মাস্ক পরা চারজন যুবক ভেতরে ঢুকে আসে এবং অস্ত্রের মুখে আমাকে জিম্মি করে ফেলে। তাদের দুজনের হাতে পিস্তল এবং একজনের হাতে ধারালো ছুরি ছিল। আমি কিছু বুঝে ওঠার আগেই তারা বাকি তিন নিরাপত্তারক্ষীকেও কাবু করে ফেলে। এরপর একে একে প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা-কর্মচারীসহ মোট আটজনকে হাত-পা বেঁধে একটি ঘরে আটকে রেখে মারধর করতে থাকে।
ডাকাতি চলাকালীন রাত ৮টার দিকে স্টোরের দায়িত্বে থাকা প্রকৌশলী ফরজাদুর রেজা সেখানে পৌঁছালে তিনিও ডাকাতদের কবলে পড়েন। তিনি বলেন, আমি বাহিরে ছিলাম, গেটে এসে দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষা করার পর ভেতর থেকে একজন গেট খুলে দেয়। কিন্তু আমি তাকে চিনতে পারিনি। ভেতরে পা দেওয়ার সাথে সাথে ১০-১২ জন লোক আমাকে ঝাপটে ধরে বেঁধে ফেলে। আমাকে একটি কক্ষে নিয়ে যাওয়া হয়, যেখানে গিয়ে আমি দেখি বাকি স্টাফদেরও জিম্মি করে রাখা হয়েছে। ডাকাতরা রাত ১টা পর্যন্ত ভেতরে অবস্থান করে মালামাল লুটপাট করে এবং দুটি ট্রাকে করে তা নিয়ে চলে যায়। পরে ডাকাত দল চলে যাওয়ার পর আমরা বন্দিদশা থেকে মুক্ত হই। এরপর জাতীয় জরুরি সেবা নম্বর '৯৯৯'-এ কল দেওয়ার পর গজারিয়া থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। আমাদের প্রায় ২০ লাখ টাকার মালামাল লুট হয়ে গেছে।
শনিবার প্রতিষ্ঠানের পরিচালক সাহাদাত হোসেন দুলাল বলেন, ‘লুট হওয়া মালামাল ও ক্ষয়ক্ষতির সঠিক পরিমাণ নিরূপণ করার কাজ চলছে। এটি শেষ করলেই আমরা থানায় আনুষ্ঠানিক লিখিত অভিযোগ দায়ের করব।’
এ বিষয়ে গজারিয়া থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) মো. সাব্বির হোসেন বলেন, ৯৯৯ থেকে খবর পাওয়ার পর গত রাতেই ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছিল। এখনো থানায় কেউ লিখিত অভিযোগ দায়ের করেনি। অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন