প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
দেশকে একটি কল্যাণমুখী রাষ্ট্র হিসেবে গড়ে তোলার প্রতিজ্ঞা জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি দেশবাসীকে অব্যাহত উন্নয়নে বিএনপি সরকারের ওপর আস্থা রাখার আহ্বান জানান।
প্রধানমন্ত্রী তার বক্তব্যে বলেন, বিএনপির রাজনীতির লক্ষ্য হলো এমন রাষ্ট্রব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করা, যার বাস্তবায়নের ফলস্বরূপ দেশের লোকজন, বিশেষ করে গ্রামে বসবাসরত মানুষ উপকৃত হবে।
আজ রবিবার কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়া উপজেলার মির্জাপুর চেয়ারম্যানবাড়ি ঘাট এলাকায় আয়োজিত একটি জনসভায় প্রধানমন্ত্রী এ কথা বলেন।
এ সময়, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান কৃষি, মৎস্য, শিক্ষা, সামাজিক সুরক্ষা, কর্মসংস্থান ও জ্বালানি খাত নিয়ে বিভিন্ন পরিকল্পনার কথা উল্লেখ করেন। এসব উদ্যোগের মূল উদ্দেশ্য হচ্ছে বাংলাদেশের জনগণের ভাগ্য পরিবর্তন।
এর আগে সকাল সাড়ে ১১টায় ‘জাতীয় মৎস্য পক্ষ-২০২৬’ উপলক্ষে পুরাতন ব্রহ্মপুত্র নদে মাছের পোনা অবমুক্ত করার সময় প্রধানমন্ত্রী অংশগ্রহণ করেন। পরে তিনি মাছের পোনা বিতরণ কার্যক্রমে অংশগ্রহণ করেন।
জনসভায় প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, নদীতে অবমুক্ত করা মাছের পোনা বড় হবে, ডিম দেবে এবং বিভিন্ন খাল-বিলে ছড়িয়ে পড়বে। এর সুফল যেন বাংলাদেশের নাগরিকরা পায়, সেটা লক্ষ্য করা হবে।
মৎস্যসম্পদের উন্নয়নের এই উদ্যোগকে বৃহত্তর কল্যাণমূলক রাষ্ট্র গঠনের অংশ বলে চিহ্নিত করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিএনপির রাজনীতির বাস্তবায়নের ফলে দেশের সাধারণ মানুষ এবং গ্রামে বসবাসকারী মানুষের উপকার হবে।
তিনি বলেন, নির্বাচনের পূর্বে বিএনপি খাল খনন কর্মসূচির বিষয়ে কথা বলেছিল। সরকার গঠনের পর দেশের বিভিন্ন জায়গায় খাল খননের কাজ শুরু হয়েছে। এর ফলে কৃষকরা উপকৃত হচ্ছেন এবং বিভিন্ন এলাকার মানুষ পানির সুবিধা পাবেন।
খননকৃত খালের পানির সর্বোচ্চ সদ্ব্যবহার নিশ্চিত করার বিষয়েও গুরুত্ব দেন প্রধানমন্ত্রী।
তারেক রহমান অভিব্যক্তি প্রকাশ করে বলেন, ধীরে ধীরে দেশের বড় বড় নদী ও খালগুলোতে মাছ চাষ শুরু করা হবে। এর ফলে মৎস্যসম্পদের উৎপাদন বৃদ্ধি পাবে এবং দেশের জনগণের জন্য আরও অর্থনৈতিক সুযোগ তৈরি হবে।
নারীদের অনার্স পর্যন্ত শিক্ষা ফ্রি করার পরিকল্পনার কথাও তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, দেশের স্বার্থে নারী শিক্ষাকে অগ্রাধিকার দেওয়ার জন্য বর্তমান সরকার নারীদের অনার্স পর্যন্ত শিক্ষা বিনা মূল্যে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এ ক্ষেত্রে সব খরচ সরকার বহন করবে।
এজন্য শিক্ষার্থীদের মনোযোগ দিয়ে পড়াশোনা করার আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ভবিষ্যতে তাদেরই দেশের হাল ধরতে হবে এবং যারা ভালো ফলাফল করবে, তাদের জন্য উপবৃত্তির ব্যবস্থা করা হবে।
প্রধানমন্ত্রী জানান, দেশের গ্রামগঞ্জে ছড়িয়ে থাকা প্রায় এক কোটি ২০ লাখ প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীর কাছে প্রতিবছর নতুন বইয়ের পাশাপাশি স্কুল ড্রেস ও স্কুল ব্যাগ পৌঁছে দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের।
প্রধানমন্ত্রী আরও ‘ফ্যামিলি কার্ড’ এবং ‘কৃষি কার্ড’ নিয়ে আলোচনা করেন। নারীদের সামাজিক ও অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করার লক্ষ্যে বলেন, প্রত্যেক পরিবারের প্রধান নারী বা মায়ের হাতে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ পৌঁছে দেওয়ার কার্যক্রম শুরু করা হয়েছে।
তিনি জানান, কিশোরগঞ্জ জেলায় ‘ফ্যামিলি কার্ড’ কার্যক্রমের উদ্বোধন করা হয়েছে। কৃষকদের জন্য ‘কৃষি কার্ড’ চালুর পরিকল্পনার বিষয়টিও তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রীর। এর মাধ্যমে কৃষকদের আর্থিক সহযোগিতা ও সার, বীজ ও কীটনাশক প্রদান করা হবে। কৃষকদের উৎপাদন খরচ কমানো এবং কৃষি খাতকে আরও শক্তিশালী করার লক্ষ্য বিশদভাবে উল্লেখ করেন তিনি।
প্রধানমন্ত্রী সমাজের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের জীবনমান উন্নয়নের পরিকল্পনার কথাও তুলে ধরেন। বলেন, দেশের আলেম সমাজ, ইমাম, মুয়াজ্জিন ও খতিবদের জীবনমান উন্নয়নের সময় এসেছে।
তরুণদের খেলাধুলায় সম্পৃক্ত করার ওপরও গুরুত্ব দিয়ে বলেন, সরকার নতুনভাবে স্পোর্টসের ব্যবস্থা করছে যাতে তরুণরা খেলাধুলাকে পেশা হিসেবে নিতে পারে।
তারেক রহমান বলেন, সরকারের মূল লক্ষ্য হচ্ছে বাংলাদেশের জনগণের ভাগ্য পরিবর্তন এবং একটি কল্যাণমুখী রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করা।
রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার গুরুত্ব তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিএনপি জেলায় জেলায় বিশৃঙ্খলা তৈরির চেষ্টা করেছে। সরকার পরিকল্পনা বাস্তবায়নে জনগণের সহযোগিতা কামনা করেন।
তিনি বলেন, দেশের মানুষ স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলেছে এবং এখন কাজ করার সময়।
দেশের অর্থ-সম্পদ লুট করে পাচারের অভিযোগে বলেন, জনগণ এসব ঘটনার বিরুদ্ধে। অবিলম্বে রাষ্ট্র মেরামতের কাজ শুরু করতে হবে।
বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকট নিয়ে বলেন, অতীতে নেওয়া পদক্ষেপের কারণে এই সংকট তৈরি হয়েছে। সরকারের দীর্ঘমেয়াদি সমাধান বর্তমানে চলছে। পরবর্তী নির্বাচনে বিএনপির প্রতি জনগণের আস্থা ধরে রাখতে হবে।
সভায় প্রধানমন্ত্রী দেশের স্বার্থের বিরুদ্ধে কাজ করা এবং বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির অপচেষ্টা প্রতিরোধে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান।
পাকুন্দিয়ার কর্মসূচি শেষে প্রধানমন্ত্রী কটিয়াদি কার্ড হ্যাচারি কমপ্লেক্স পরিদর্শনে যাবেন।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন