প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
বরিশালের বাবুগঞ্জে একটি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ডিজিটাল ল্যাব থেকে ১৭টি ল্যাপটপ চুরি যাওয়ার ঘটনা ঘটেছে, যা ১০ দিন পরেও উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ এবং স্থানীয় জনগণের মধ্যে এ বিষয়ে উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে। পুলিশ জানায়, সিসিটিভি ফুটেজ এবং অন্যান্য তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণ করে চুরির সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করার চেষ্টা চলছে।
বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ও থানায় দায়ের করা অভিযোগের সূত্রে জানা গেছে, বাবুগঞ্জ উপজেলার চাঁদপাশা ইউনিয়নের পূর্ব চাঁদপাশা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের আইসিটি ল্যাব থেকে গত ২১ আগস্ট রাতে ১৭টি ল্যাপটপ চুরি হয়। এ ঘটনায় বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোহাম্মদ আলাউদ্দিন এয়ারপোর্ট থানায় অভিযোগ দায়ের করেন।
বিদ্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ঘটনার রাতে বিদ্যালয়ের নৈশপ্রহরী আব্দুর রহিম রাত ১১টার কিছু আগে শারীরিক অসুস্থতার কথা জানিয়ে বিদ্যালয় ত্যাগ করেন। এরপর রাতের কোনো এক সময় দুর্বৃত্তরা ডিজিটাল ল্যাবের গ্রিল ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে ১৭টি ল্যাপটপ নিয়ে যায়।
সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, খালি গায়ে প্যান্ট পরা একজন ব্যক্তি বিদ্যালয়ে প্রবেশ করে ডিজিটাল ল্যাবে যায়। পরে টেবিলে রাখা ল্যাপটপগুলো একে একে নিয়ে বের হয়ে যেতে দেখা যায়। তবে ফুটেজে থাকা ব্যক্তিকে শনাক্ত করতে পুলিশ এখনও সক্ষম হয়নি।
নৈশপ্রহরী আব্দুর রহিম বলেন, তিনি শারীরিক অসুস্থতার কারণে রাত ১১টার কিছু আগে বিদ্যালয় ত্যাগ করেন। পরে রাত ২টার দিকে বিদ্যালয়ের প্রধান ফটকের বাইরে এসে ভেতরে কয়েকজনের কথাবার্তার শব্দ শুনতে পান। দূর থেকে তাদের স্থানীয় তিন যুবক আরিফুর রহমান, নেসার উদ্দিন ও রাহাত হোসেন বলে পরিচয় দেওয়া হয়। বিষয়টি জানার পর তিনি আবার বাড়িতে চলে যান। ভোরে বিদ্যালয়ে এসে ল্যাপটপ চুরির বিষয়টি দেখতে পান এবং প্রধান শিক্ষককে জানান।
এদিকে নৈশপ্রহরীর দেওয়া বক্তব্যের ভিত্তিতে স্থানীয় আরিফুর রহমান, নেসার উদ্দিন ও রাহাত হোসেনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থানায় নেওয়া হয়েছিল। পরে তাদের ছেড়ে দেওয়া হয়। তাদের পরিবারের দাবি, কোনো প্রমাণ ছাড়াই তাদের নাম জড়ানোয় তারা সামাজিকভাবে বিব্রত ও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন।
আরিফুর রহমানের বাবা আনোয়ার হোসেন হাওলাদার বলেন, চুরির ঘটনায় তার ছেলের নাম জড়ানোর কারণে তারা সামাজিকভাবে ক্ষতির মুখে পড়েছেন। তিনি প্রকৃত ঘটনা তদন্ত করে দায়ীদের শনাক্ত করার দাবি জানান।
নেছার উদ্দিন বলেন, তিনি একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী। নৈশপ্রহরীর বক্তব্যের কারণে তিনি ও অন্যরা সামাজিকভাবে বিব্রত হয়েছেন। প্রশাসনের কাছে সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত অপরাধী শনাক্তের দাবি জানান তিনি।
স্থানীয় কয়েকজনের অভিযোগ, নৈশপ্রহরীর দায়িত্ব পালনে গাফিলতির কারণে চোরেরা সুযোগ পেয়েছে। কেউ কেউ নৈশপ্রহরীর ভূমিকা নিয়েও সন্দেহ প্রকাশ করেছেন।
এয়ারপোর্ট থানার অফিসার ইনচার্জ মো. শাখাওয়াত হোসেন বলেন, সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করা হয়েছে। ফুটেজ বিশ্লেষণ এবং স্থানীয় পর্যায়ে গোয়েন্দা তৎপরতার মাধ্যমে চুরির সঙ্গে জড়িতদের শনাক্তের চেষ্টা চলছে।
বাবুগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী আসমা উল হুসনা বলেন, বিদ্যালয়ের ল্যাপটপ চুরির বিষয়টি প্রশাসনকে জানানো হয়েছে। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্টদের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
চুরি যাওয়া ১৭টি ল্যাপটপ এখনো উদ্ধার না হওয়ায় বিদ্যালয়ের ডিজিটাল শিক্ষা কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। বিদ্যালয় সংশ্লিষ্টরা দ্রুত চুরি যাওয়া সরঞ্জাম উদ্ধার এবং ঘটনার প্রকৃত রহস্য উদঘাটনের দাবি জানিয়েছেন।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন