প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
চট্টগ্রামের জঙ্গল সলিমপুরে যৌথ বাহিনী হঠাৎ করে বিশেষ অভিযান শুরু করেছে। বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) বিকেল বেলা এই অভিযানটি পরিচালিত হয়। অভিযানের সময় পুলিশ, এপিবিএন এবং বিজিবির বিপুল সংখ্যক সদস্য উপস্থিত ছিলেন।
এই অভিযানটি তিনটি টিমে বিভক্ত হয়ে পরিচালনা করা হয়েছে। তবে পুলিশ জানিয়েছে, অভিযানে কোনো অপরাধীকে আটক করা সম্ভব হয়নি। পুলিশ কর্মকর্তাদের মতে, সন্ত্রাসীদের প্রথম ও দ্বিতীয় সারির সদস্যরা জঙ্গল সলিমপুরে নেই।
অভিযান শেষে চট্টগ্রামের পুলিশ সুপার মো. মাসুদ আলম মন্তব্য করেন, জঙ্গল সলিমপুরের আলীনগর যৌথ বাহিনীর ক্যাম্পে পুলিশ, বিজিবি ও এপিবিএন সদস্যরা অবস্থান করছেন। এলাকাটি বড় ও দুর্গম হওয়ায় এখানে বিভিন্ন ধরনের তথ্য সংগ্রহ করা হয়। এটি একটি অপরাধপ্রবণ এলাকা। সন্ত্রাসী কার্যক্রম পরিচালনাকারী এবং সাম্রাজ্য বিস্তারকারী ব্যক্তিদের সম্পর্কে তথ্য নিয়ে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হয়। এর আগে এই এলাকায় বিশেষ অভিযান পরিচালিত হয়েছে।
পুলিশ সুপার আরও জানান, আজকের অভিযানে তিনটি টিমে বিভক্ত হয়ে কাজ করা হয়েছে। উদ্দেশ্য ছিল সাধারণ মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপন করা এবং তাদের একটি বার্তা দেওয়া—তাদের ক্ষতি হয় এমন কিছু করার জন্য আসা হয়নি। তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্যই আমরা এখানে এসেছি। মানুষের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি করা হয়েছিল যে তাদের উচ্ছেদ করা হবে, কিন্তু এমন কিছু করা হবে না। তারা নিজেদের মতো করে নিরাপদে থাকতে পারে। আমরা তাদের সহায়তা করব।
তিনি বলেন, এই এলাকায় যারা বিভিন্ন অপরাধের সঙ্গে জড়িত এবং অস্থিতিশীল পরিবেশ তৈরি করতে চায়, তাদের জন্য একটি বার্তা হচ্ছে—যদি তারা এখানে আসেন বা থাকেন, তাহলে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আমরা বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়েছি কিন্তু কাউকে পাওয়া যায়নি। এখানে সন্ত্রাসীদের প্রথম বা দ্বিতীয় সারির সদস্যরা নেই। তারা পলাতক অবস্থায় রয়েছে। কিছু সদস্য রাতে হয়তো ফিরে আসতে পারে। তৃতীয় বা চতুর্থ সারির সদস্যদের চিহ্নিত করার কাজ চলছে। নিয়মিত গ্রেপ্তার করা হচ্ছে।
পুলিশ সুপার বলেন, অভিযানের মাধ্যমে একটি বার্তা দেওয়া হয়েছে—যদি কেউ কোনো ধরনের অপচেষ্টা করে, তাহলে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইন প্রয়োগ করা হবে। একবারে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করা হবে।
অভিযানের সময় পুরো এলাকা পুরুষশূন্য হয়ে গেছে। কেন এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে—এই প্রশ্নের জবাবে পুলিশ সুপার মো. মাসুদ আলম বলেন, এটি আতঙ্কের ফল হতে পারে। তবে আমরা অনেকের সঙ্গে কথা বলেছি এবং তারা জানিয়েছেন, অনেক বাসিন্দা বিদেশে অবস্থান করছেন। আবার কেউ কেউ বাইরে কাজ করছেন এবং রাতে ফিরে আসতে পারেন। এ বিষয়ে আমরা কাজ করছি।
তিনি আরও বলেন, আমরা একটি শান্তির বার্তা দিতে চাই। সন্ত্রাসীরা যেন অপরাধ করতে না পারে। যদি তারা অপরাধ করে, তাহলে বাসিন্দাদের আমাদের জানানোর জন্য উৎসাহিত করা হচ্ছে। এখানে যেন দেশের অন্যান্য অংশের মতো নিরাপদে বসবাস করা যায়, যাতে কোনো সমস্যা না হয়।
পুলিশ সুপার জানান, তিনটি রাস্তার কাজ করছে সেনাবাহিনী। রাস্তা নির্মাণ সম্পন্ন হলে আমাদের চলাচল বৃদ্ধি পাবে। এরপর আর কোনো কানাঘুষা থাকবে না। যারা শীর্ষ পর্যায়ে রয়েছে, তারা পলাতক। নতুন কাউকে গড়ে উঠতে দেওয়া হবে না। যদি কেউ গড়ে উঠতে চায়, তাহলে তাদের অঙ্কুরেই ধ্বংস করা হবে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন