প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
সাত বছর পর চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং উত্তর কোরিয়া সফরে গিয়েছেন। বিশ্লেষকরা বলছেন, লাল গালিচা, সামরিক অভ্যর্থনা ও সমাজতান্ত্রিক বন্ধুত্বের প্রবাহের আড়ালে যে বিষয়টি ছিল, সেটি হলো আরও ‘বড় বার্তা’। শি উত্তর কোরিয়ার সঙ্গে সম্পর্কের নতুন রূপরেখা তুলে ধরেছেন, যেখানে বাণিজ্য থেকে শুরু করে সামরিক সহযোগিতা পর্যন্ত সব ক্ষেত্রেই ঘনিষ্ঠতার ইঙ্গিত স্পষ্ট হয়েছে।
বিশ্লেষকরা মন্তব্য করেছেন, শি’র এই সফর কেবল দ্বিপাক্ষিক সফর নয়; বরং এটি চীনের বৃহত্তর কৌশলের একটি অংশ, যা যুক্তরাষ্ট্র, রাশিয়া এবং পূর্ব এশিয়ার শক্তির ভারসাম্যকে ঘিরে আবর্তিত হচ্ছে।
প্রায় সাত বছরের বিরতির পর উত্তর কোরিয়া সফরে গিয়ে চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং দেশটির সর্বোচ্চ নেতা কিম জং উনের সঙ্গে বৈঠক করেছেন। এই বৈঠকে বাণিজ্য, কৃষি, অবকাঠামো, বিজ্ঞান-প্রযুক্তি ও স্বাস্থ্য খাতে সহযোগিতা বাড়ানো ছাড়াও কৌশলগত সমন্বয়, সামরিক, কূটনৈতিক এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর মধ্যে যোগাযোগ জোরদার করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। এর ফলে, সম্পর্ককে কেবল রাজনৈতিক ক্ষেত্রেই সীমাবদ্ধ না রেখে বহুমাত্রিক অংশীদারিত্বের দিকে এগিয়ে যাওয়ার বার্তা প্রদান করা হয়েছে।
যাহোক, সফরের সবচেয়ে আলোচিত বিষয় হলো একটি গুরুত্বপূর্ণ শব্দের অনুপস্থিতি। ২০১৯ সালের সফরকালে শি কোরীয় উপদ্বীপকে ‘পারমাণবিক অস্ত্রমুক্ত’ করার জন্য চীনের অবস্থান আবারও স্পষ্ট করেছিলেন। কিন্তু এবার প্রকাশিত বক্তব্যে সেই প্রশ্নটি স্থান পায়নি।
বিশ্লেষকরা এই বিষয়টিকে কিম জং উনের জন্য একটি কূটনৈতিক সাফল্য হিসেবে বিবেচনা করছেন। কারণ উত্তর কোরিয়া ইতোমধ্যে তাদের সংবিধানে নিজেদের পারমাণবিক নীতি অন্তর্ভুক্ত করেছে এবং আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে অস্ত্র কর্মসূচি সম্প্রসারণ অব্যাহত রেখেছে।
এই সফর এমন একটি সময়ে অনুষ্ঠিত হয়েছে, যখন চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে কৌশলগত প্রতিযোগিতা আরো তীব্র হয়েছে এবং উত্তর কোরিয়া রাশিয়ার সাথে সম্পর্ককে উল্লেখযোগ্যভাবে জোরদার করেছে। ইউক্রেন যুদ্ধে পিয়ংইয়ং মস্কোকে সহায়তা দিতে সেনা ও অস্ত্র পাঠিয়েছে এবং ২০২৪ সালে কিম জং উন ও ভ্লাদিমির পুতিন মধ্যে পারস্পরিক প্রতিরক্ষা চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে।
এমন প্রেক্ষাপটে, শি’র সফরকে অনেকেই বেইজিংয়ের পক্ষ থেকে পিয়ংইয়ংকে নিজ প্রভাব বলয়ের কেন্দ্রে ফিরিয়ে আনার প্রচেষ্টা হিসেবে দেখছেন। এছাড়াও, সফরটি যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা প্রেরণ করছে।
ডনাল্ড ট্রাম্প কিম জং উনের সাথে আলোচনা করতে আগ্রহ প্রকাশ করলেও, চীন প্রদর্শন করতে চায় যে উত্তর কোরিয়ার ওপর সবচেয়ে বেশি প্রভাব এখনো বেইজিংয়ের। বিশেষজ্ঞদের মতে, সামরিক এবং নিরাপত্তা সহযোগিতা জোরদারের আহ্বান নির্দেশ করে যে চীন ক্রমশ একটি আঞ্চলিক নিরাপত্তা কাঠামো কল্পনা করছে, যা যুক্তরাষ্ট্র, দক্ষিণ কোরিয়া ও জাপানের জোটের পাল্টা ভারসাম্য তৈরি করতে সক্ষম হতে পারে।
একইসাথে, উত্তর কোরিয়া যেন এমন কোনো পদক্ষেপ না নেয়, যা পুরো অঞ্চলের স্থিতিশীলতাকে ঝুঁকির মুখে ফেলতে পারে, সেটিও নিশ্চিত করতে চায় বেইজিং।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন