প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
কুমিল্লার নাঙ্গলকোটে ক্যান্সারে আক্রান্ত পিতার চিকিৎসার জন্য অর্থ আত্মসাৎ করে ঘর থেকে বের করে দেওয়া এবং বোনদের সম্পত্তি দখল করার চেষ্টা ও হয়রানির অভিযোগ উঠেছে রায়কোট উত্তর ইউনিয়নের উত্তর মাহিনী গ্রামের রুস্তম আলী হাজারীর পুত্র সামছুল আলম, নূরুল আলম, নুরুন্নবী ও খোরশেদের বিরুদ্ধে। অভিযোগে বলা হয়েছে, বোনদের ডাকা সালিশ বৈঠকে গ্রামবাসীর চাপের কারণে পিতা রুস্তম আলী হাজারীকে ঘরে নেওয়া হলেও এক মাস তাদের কাছে থাকার পর বিনাচিকিৎসায় তার মৃত্যু হয় বলে দাবি করেন রুস্তম আলী হাজারীর কন্যা সুফিয়া ও সাজেদা।
এদিকে, রুস্তম আলী হাজারী ক্যান্সার আক্রান্ত হওয়ার পর চিকিৎসার খরচের জন্য জমি বিক্রির বায়না বাবদ পাওয়া টাকা পরিশোধ করতে না পারায়, ওই টাকা গ্রহণের সাক্ষী থাকার অপরাধে কুমিল্লার কারাগারে যেতে হয় সুফিয়া ও সাজেদাকে। বৃহস্পতিবার সকালে ভাইদের বিরুদ্ধে সংবাদ সম্মেলন করেন রুস্তম আলী হাজারীর কন্যা সুফিয়া বেগম ও সাজেদা বেগম। সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন সুফিয়া বেগমের স্বামী আঙ্গুলখোঁড় গ্রামের আব্দুল হান্নান এবং সাজেদা বেগমের স্বামী তিলিপ গ্রামের সিরাজুল হক।
সংবাদ সম্মেলনে সুফিয়া বেগম ও সাজেদা বেগম বলেন, "আমাদের মা পাঞ্জাবের নেছা ২০২০ সালে মারা যাওয়ার পর আমার পিতাকে জিম্মি করে সামছুল আলম, নূরুল আলম, নুরুন্নবী ও খোরশেদ ২৫ শতক জমির মধ্যে ২২ শতক কবলা করে নিয়ে যায়। পরে বাবা আমাদের ২ বোনকে ২ শতক জমি দিয়ে এক শতক নিজের নামে রাখেন। এরই মধ্যে বাবার প্রস্রাবের রাস্তায় ক্যান্সার সনাক্ত হয়। ক্যান্সার রোগের বিষয় জানার পর থেকে আমার ভাইয়েরা বাবাকে ঘর থেকে বের করে দেয়, পরে আমরা তাকে আমাদের বাড়িতে আশ্রয় দেই। সর্বশেষ আমরা আমাদেরকে দেওয়া দুই শতক সম্পত্তিতে একটি ছোট ঘর করে দিয়ে সেখানে বাবাকে রাখি। পরে বাবার চিকিৎসার জন্য জমিটি স্থানীয় একজনের কাছে বিক্রির বায়না করে ১ লাখ টাকা নিয়ে আমাদের ভাই নুরুন্নবীর কাছে রাখি। কিছুদিন পর নুরুন্নবী ৫০ হাজার টাকা খরচ হয়ে গেছে দাবি করে এবং পরে বাকি ৫০ হাজারও আত্মসাৎ করে। পরে এ বায়না টাকার জন্য আমরা ২ বোন জেলে পর্যন্ত গিয়েছি। এখন ভাইয়েরা আমাদের জমিটি দখল করার চেষ্টা করছে ও বিভিন্নভাবে আমাদেরকে হয়রানি করছে।"
সুফিয়া বেগমের স্বামী আব্দুল হান্নান ও সাজেদা বেগমের স্বামী সিরাজুল হক বলেন, "আমাদের শ্বশুরের সব সম্পত্তি তারা কবলা করে নিয়ে তাকে ঘর থেকে বের করে দেয় ও চিকিৎসার টাকা গুলোও আত্মসাৎ করে। এখন তারা আমাদের স্ত্রীদের থানা, আদালত-সহ বিভিন্নভাবে হয়রানি করছে।" অভিযুক্তদের বাড়িতে গিয়ে অভিযুক্ত সামছুল আলমকে পাওয়া গেলেও অন্যদের পাওয়া যায়নি। তবে পিতা রুস্তম আলী হাজারীর চিকিৎসার টাকা আত্মসাৎ করে কেন ঘর থেকে বের করে দেওয়া হয়েছে ও বোনদের জমি দখল করার চেষ্টা ও হয়রানির বিষয়ে প্রশ্ন করলে সামছুল আলম উত্তেজিত হয়ে যান ও বক্তব্য দিতে অপারগতা প্রকাশ করেন।
এ ব্যাপারে নাঙ্গলকোট থানার অফিসার ইনচার্জ শাহিনূর ইসলাম বলেন, "ভুক্তভোগীদের পক্ষ থেকে অভিযোগ দিলে তদন্তপূর্বক আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।"
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন