প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
একটি সেতুর ওপর অবস্থিত নদী, যেখানে কুমিরের উপস্থিতি রয়েছে—এই স্থানটি সম্ভবত এক নার্সিং অফিসারের নিখোঁজ হওয়ার রহস্য উদ্ঘাটনের মূল চাবিকাঠি হতে পারে। নিখোঁজ হওয়ার কয়েক দিন অতিবাহিত হলেও, তাঁর মৃতদেহ এখনও উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি।
পুলিশের সন্দেহ, বিহারের বাসিন্দা স্নেহলতাকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়েছে এবং উত্তর প্রদেশের ইটাওয়া জেলার পাঁচনাদা এলাকায়, যেখানে প্রচুর কুমির রয়েছে, সেই নদীর জলে ফেলে দেওয়া হয়েছে। অভিযুক্ত ব্যক্তি তদন্তকারীদের জানিয়েছেন যে, তাঁর ধারণা ছিল কুমিরেরা মৃতদেহটি খেয়ে ফেলবে, ফলে দেহটি আর খুঁজে পাওয়ার সম্ভাবনা থাকবে না।
স্বীকারোক্তির ভিত্তিতে নদীর দিকে পুলিশ: বৃহস্পতিবার পুলিশ অভিযুক্ত সত্যপ্রকাশকে প্রায় ৬০ কিলোমিটার দূরে পাঁচনাদায়—যেখানে পাঁচটি নদীর মিলনস্থল রয়েছে—নিয়ে যায়, যাতে নিখোঁজ ওই নারীর মৃতদেহ খুঁজে বের করা যায়। ন্যাশনাল ডিজাস্টার রেসপন্স ফোর্স (এনডিআরএফ)-এর সহায়তায় এই তল্লাশি অভিযান পরিচালিত হয়। সূত্র অনুযায়ী, জিজ্ঞাসাবাদের সময় সত্যপ্রকাশ স্বীকার করেছে যে, সে স্নেহলতাকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করেছে এবং একটি সেতু থেকে তাঁর লাশ নদীতে ফেলে দিয়েছে, এই ভেবে যে কুমিরেরা তা খেয়ে ফেলবে। পুলিশ মনে করছে, হয়তো কুমিরেরা তাঁর দেহাবশেষ খেয়ে ফেলেছে, তবে এখনো পর্যন্ত কোনো মৃতদেহ উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি।
সম্পর্ক, সন্তান এবং ক্রমবর্ধমান বিবাদ: বিহারের বাসিন্দা স্নেহলতার পরিচয় ঘটে মধ্যপ্রদেশের ভিন্ডের জোশি নগরের বাসিন্দা সত্যপ্রকাশের সঙ্গে একটি বেসরকারি কলেজে, যেখানে স্নেহলতা পড়াশোনা করতেন এবং সত্যপ্রকাশ সেখানে কাজ করতেন। পরবর্তীতে তারা ‘লিভ-ইন’ সম্পর্কে জড়ান। সত্যপ্রকাশ পূর্বে বিবাহিত ছিলেন। প্রায় ১০ মাস আগে স্নেহলতা তাদের এক পুত্রসন্তানের জন্ম দেন। পুলিশ জানিয়েছে, সন্তানকে কেন্দ্র করে এবং স্নেহলতার পক্ষ থেকে সত্যপ্রকাশকে স্বামী হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার দাবিকে কেন্দ্র করে তাদের মধ্যে বিবাদ বৃদ্ধি পেতে থাকে।
নিখোঁজ হওয়ার আগে কেনাকাটার প্রতিশ্রুতি: ৮ অক্টোবর, সত্যপ্রকাশ কানপুর যাওয়ার কথা বলে এবং কেনাকাটা করানোর প্রতিশ্রুতি দিয়ে স্নেহলতাকে সঙ্গে নিয়ে যায়। এরপর থেকে তাঁকে আর কোথাও দেখা যায়নি। পরবর্তীতে সত্যপ্রকাশ নিজেই ভিন্ড সিটি কোতোয়ালি থানায় একটি ‘মিসিং পার্সন’ বা নিখোঁজ সংক্রান্ত অভিযোগ দায়ের করে এবং তাঁকে খুঁজে বের করার জন্য প্রচারপত্রও ছাপায়। তবে স্নেহলতার নিখোঁজ হওয়ার ঘটনায় সত্যপ্রকাশের ভূমিকা নিয়ে সন্দেহ হওয়ায় পুলিশ তাকে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করে। এরপরই সে স্নেহলতাকে হত্যার কথা স্বীকার করে বলে অভিযোগ রয়েছে। পরিবারের কঠোর পদক্ষেপের দাবি
ঘটনাটি জানার পর বিহারের নালন্দা থেকে স্নেহলতার পরিবার ভিন্ডে পৌঁছায়। তারা সন্দেহভাজন ব্যক্তির বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছে। স্নেহলতার লাশের সন্ধান এখনো চলছে। তদন্তকারীরা জানার চেষ্টা করছেন, তাকে নদীতে ফেলে দেওয়ার অভিযোগের পর ঠিক কী ঘটেছিল। সূত্র: দ্য টাইমস অব ইন্ডিয়া।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন