প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় ২৬ আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের আদেশ আজ, যা রাজধানীর উত্তরায় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন চলাকালে মীর মাহফুজুর রহমান মুগ্ধসহ ১১ জনকে হত্যার ঘটনায় সম্পর্কিত।
আদেশের তারিখ হিসেবে আজকের দিন নির্ধারণ করা হয়েছিল আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২-এর চেয়ারম্যান বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন বিচারিক প্যানেলের মাধ্যমে। এর আগে ১৬ সেপ্টেম্বর অভিযোগ গঠনের জন্য দিন ধার্য ছিল, কিন্তু তা পিছিয়ে ২৩ সেপ্টেম্বর নির্ধারণ করা হয়। পরে আবারও তারিখ পরিবর্তন করে ১১ অক্টোবর নির্ধারণ করা হয়।
ঢাকা-১৮ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য হাবিব হাসানসহ ২৬ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের বিষয়ে আজ আদেশ হওয়ার কথা রয়েছে।
১৬ সেপ্টেম্বর ট্রাইব্যুনালে রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেন প্রসিকিউটর গাজী এম এইচ তামিম। এ সময় চিফ প্রসিকিউটর আমিনুল ইসলাম, প্রসিকিউটর জহিরুল আমিন ও তারেক আবদুল্লাহ উপস্থিত ছিলেন। আসামিপক্ষে শুনানিতে অংশ নেন অ্যাডভোকেট এম লিটন আহমেদ। পলাতক আসামিদের পক্ষে বক্তব্য উপস্থাপন করেন স্টেট ডিফেন্স আইনজীবী আমির হোসেন ও এম হাসান ইমাম। এছাড়া স্টেট ডিফেন্স শহিদুল ইসলামসহ অন্যান্য আসামিদের আইনজীবীরাও শুনানিতে অংশ নেন।
মামলায় মোট ২৮ জনকে আসামি করা হয়েছে, যাদের মধ্যে পুলিশ সদস্য ও আওয়ামী লীগের নেতাকর্মী রয়েছেন। আটজন গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে আছেন, বাকি ১৮ জন পলাতক।
গ্রেপ্তার আট আসামির মধ্যে রয়েছেন, ডিএমপির উত্তরা বিভাগের সাবেক অতিরিক্ত উপপুলিশ কমিশনার (এডিসি) মির্জা সালাহউদ্দিন, উত্তরা পূর্ব থানার সাবেক ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মজিবুর রহমান, আজমপুর পুলিশ ফাঁড়ির সাবেক কনস্টেবল হোসেন আলী, উত্তরা পশ্চিম থানা আওয়ামী লীগের সভাপতি মনোয়ার ইসলাম চৌধুরী রবিন, যুবলীগ সভাপতি দেলোয়ার হোসেন রুবেল, আওয়ামী লীগ নেতা সোহেল রানা, ওয়ার্ড স্বেচ্ছাসেবক লীগের সহসভাপতি শাহ আলম এবং তুরাগ থানা এলাকার আওয়ামী লীগ কর্মী ইরফানুল হক গাজী।
পলাতক আসামিদের মধ্যে রয়েছেন, ঢাকা-১৮ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য মোহাম্মদ হাবিব হাসান, পুলিশের সাবেক কমিশনার হাবিবুর রহমান, ডিএমপির উত্তরা বিভাগের সাবেক উপ-পুলিশ কমিশনার কাজী আশরাফুল আজীম, সাবেক অতিরিক্ত উপপুলিশ কমিশনার মো. তোহিদুল ইসলাম, সাবেক সহকারী পুলিশ কমিশনার সুমন কর, উত্তরা পশ্চিম থানার সাবেক ওসি বি এম ফরমান আলী, উত্তরা পূর্ব থানার সাবেক পুলিশ পরিদর্শক (অপারেশনস) মাহমুদুল হাসান, সাবেক কনস্টেবল আবু ছায়েম, সাবেক এসআই খালেদ আনোয়ার ও সাবেক এএসআই মো. রোকনুজ্জামান।
এছাড়া ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের সাবেক কাউন্সিলর জাহাঙ্গীর হোসেন ওরফে যুবরাজ, ফরিদ আহমেদ, ডিএম শামীম, আনিছুর রহমান নাঈম ও আফছার উদ্দিন খান, আওয়ামী লীগ নেতা আলাউদ্দিন আল সোহেল, উত্তরা পশ্চিম থানা ছাত্রলীগের সাবেক সহসভাপতি মুরতাফা বিন ওমর ওরফে সাথিল এবং তুরাগ থানা যুবলীগ নেতা জাকির হোসেন ওরফে মিঠুও পলাতক আসামিদের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত।
মামলার অভিযোগ অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ১৮ জুলাই রাজধানীর উত্তরার ৩ নম্বর সেক্টরে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন চলাকালে আহতদের হাসপাতালে নিতে সহযোগিতা করার পাশাপাশি আন্দোলনকারীদের মধ্যে পানি ও বিস্কুট বিতরণ করছিলেন বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব প্রফেশনালসের (বিইউপি) শিক্ষার্থী মীর মাহফুজুর রহমান মুগ্ধ। এই সময় তিনি গুলিবিদ্ধ হন এবং পরে আন্দোলনকারীদের কয়েকজন তাঁকে উত্তরা ক্রিসেন্ট হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
রাষ্ট্রপক্ষের অভিযোগ, ২০২৪ সালের ১৮ ও ১৯ জুলাই উত্তরায় মুগ্ধসহ ১১ জনকে গুলি করে হত্যা করা হয়। এ ঘটনায় মামলায় পৃথক দুটি অভিযোগ আনা হয়েছে।
প্রথম অভিযোগে বলা হয়, ১৮ জুলাই উত্তরার ৩ নম্বর সেক্টরে মুগ্ধকে গুলি করে হত্যা করা হয়। একই দিন জাহিদুজ্জামান তানভীন, শেখ ফাহমিন জাফর, মো. শাকিল হোসেন, মো. সাব্বির হোসেন ও সজিব সরকারকে গুলি করে হত্যার অভিযোগ রয়েছে। এ ছাড়া একটি সাঁজোয়া যান বা এপিসির পেছনের চাকায় পিষ্ট করে উবারচালক মোখলেসুর রহমান দুর্জয়কে হত্যার অভিযোগও করা হয়েছে।
দ্বিতীয় অভিযোগে বলা হয়, ১৯ জুলাই উত্তরায় রিদোয়ান শরীফ, মো. ছাব্বির ইসলাম, মো. আসাদুল্লাহ ও নাঈমা সুলতানাকে গুলি করে হত্যা করা হয়।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন