প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
নড়াইল সদরে স্বামীর মরদেহ নিয়ে বাড়ি ফেরার পথে দুর্ঘটনায় স্ত্রীসহ দুইজন নিহত হয়েছেন। বাস ও অ্যাম্বুলেন্সের মুখোমুখি সংঘর্ষে এই ঘটনাটি ঘটে। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন পাঁচজন।
বুধবার (৩ জুন) সকালে সাড়ে ৮টার দিকে ঢাকা-নড়াইল মহাসড়কের সদরের পূর্ব বালিয়াডাঙ্গা গ্রামের (বাদশার গ্যারেজ) এলাকায় এই দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহতদের মধ্যে একজন হলেন পুলিশের উপপরিদর্শক (এসআই) তাহের হোসেনের মা জাহানারা বেগম (৫৫)। তিনি যশোরের পুলেরহাট এলাকার মৃত ইসমাইল হোসেনের স্ত্রী। অন্যজন অ্যাম্বুলেন্সচালক মো. আকবর হোসেন (২৯), তিনি লক্ষীপুরের রামগাতী উপজেলার পূর্ব চর কলা কোপা গ্রামের আব্দুল হাসিমের ছেলে।
পুলিশ এবং প্রত্যক্ষদর্শী সূত্র থেকে জানা যায়, পুলিশ স্টাফ কলেজে কর্মরত পুলিশের উপপরিদর্শক (এসআই) তাহের হোসেনের বাবা ইসমাইল হোসেন বুধবার ভোরে রাজারবাগ পুলিশ হাসপাতালে মারা যান। তারপর তার মরদেহ নিয়ে অ্যাম্বুলেন্সে মা জাহানারা পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের নিয়ে গ্রামের বাড়ি যশোরের উদ্দেশে রওয়ানা দেন।
অ্যাম্বুলেন্সটি যখন সদরের পূর্ব বালিয়াডাঙ্গা গ্রামের এলাকায় পৌঁছে, তখন বিপরীত দিক থেকে আসা বেপরোয়াগতির একটি লোকাল বাসের সঙ্গে মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এই সংঘর্ষের ফলে অ্যাম্বুলেন্সটি দুমড়ে-মুচড়ে গিয়ে ঘটনাস্থলে জাহানারা মারা যান। আহতদের উদ্ধার করে নড়াইল জেলা হাসপাতালে নিয়ে গেলে অ্যাম্বুলেন্সচালক আকবরকেও চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
আহত পুলিশের উপপরিদর্শক তাহের হোসেন এবং তাদের সঙ্গে থাকা সেলিম, মিন্টু, তানভীর ও বাসযাত্রী সায়েরাকে প্রাথমিক চিকিৎসার পর উন্নত চিকিৎসার জন্য যশোর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
অ্যাম্বুলেন্সে অবস্থানরত আনোয়ার কুমার লিটন সময় সংবাদকে জানান, ‘আমরা এসআই তাহেরের বাবার মরদেহ নিয়ে যশোর যাচ্ছিলাম। নড়াইলে পৌঁছালে দ্রুতগতির একটি লোকাল বাস ওভারটেক করতে গিয়ে আমাদের অ্যাম্বুলেন্সের সঙ্গে মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। রাস্তার অবস্থা খারাপ হলে আমাদের অ্যাম্বুলেন্সের গতি কম ছিল। চালক মৃত্যুর হাত থেকে বাঁচাতে চেষ্টা করে যাচ্ছিলেন। কিন্তু লোকাল বাসটি এসে আমাদের ক্ষতিগ্রস্ত করেছে।’
এ বিষয়ে নড়াইল সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) অজয় কুমার কুণ্ডু জানান, অ্যাম্বুলেন্স ও লোকাল বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষের ফলে ঘটনাস্থলেই পুলিশ কর্মকর্তার মা নিহত হন। পরে হাসপাতালে নেয়ার পথে অ্যাম্বুলেন্স চালকও মারা যান। এই ঘটনায় আরও পাঁচজন আহত হয়েছেন। দুর্ঘটনাকবলিত বাসটি জব্দ করা হয়েছে। অভিযুক্ত চালককে আটকের চেষ্টা চলছে। পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন বলেও জানিয়েছেন ওসি।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন