প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
কক্সবাজারের ইনানী এলাকায় ভ্রমণের সময় এক মারাত্মক অগ্নিকাণ্ডের শিকার হন তিন বান্ধবী। ভাগ্যক্রমে, তাদের মধ্যে দুজন, আইরিন জাহান মীম ও ইমা, প্রাণে বেঁচে ফিরতে সক্ষম হন। তবে, তাদের আরেক বান্ধবী নাসরিন আক্তার মুক্তা বাঁচতে পারেননি। রিসোর্টে আগুন ছড়িয়ে পড়তে দেখে তাকে বাঁচানোর জন্য তারা আপ্রাণ চেষ্টা করলেও ব্যর্থ হন। এরপর প্রিয় বান্ধবীর খোঁজে রিসোর্টের সামনে অপেক্ষা করতে থাকেন তারা।
শনিবার সকাল ৭টা ২৫ মিনিটের দিকে কক্সবাজারের উখিয়ার ইনানী পাটুয়ারটেক এলাকায় মেরিন ড্রাইভের পাশে অবস্থিত ‘টুপটুপ রেস্তো অ্যান্ড রিসোর্টে’ ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড ঘটে। এই ঘটনায় এখন পর্যন্ত ১০ জনের মৃত্যু হয়েছে। নিহতদের সবাই পর্যটক ছিলেন।
নিহত নাসরিন আক্তার মুক্তা সাভারের একটি ইংলিশ মিডিয়াম স্কুলের শিক্ষিকা ছিলেন। তার দুই বান্ধবী আইরিন জাহান মীম ও ইমা প্রাণে বেঁচে গেলেও এই মর্মান্তিক ঘটনায় তাদের প্রিয় বান্ধবীকে হারাতে হয়েছে।
আইরিন জাহান মীম "আমার দেশ"কে বলেন, "সকালে আমি আর ইমা হাঁটতে বের হয়েছিলাম। নাসরিনকেও সঙ্গে যাওয়ার জন্য ডেকেছিলাম। কিন্তু সে আরেকটু ঘুমাবে বলে আমাদের সঙ্গে বের হয়নি। কিছুদূর যাওয়ার পরই আমরা দেখতে পাই, রিসোর্টে আগুন লেগেছে।"
তিনি আরও জানান, "এরপর ইমা নাসরিনের মোবাইল ফোনে বারবার কল দিতে থাকে। আর আমি চিৎকার করে নাসরিনকে নিচে নেমে আসতে বলছিলাম। পরে রিসোর্টের পেছনের দিকে গিয়ে তাকে নিচে লাফ দিতে বলেও ডাকাডাকি করি। কিন্তু নাসরিনের কোনো সাড়া পাইনি। ততক্ষণে বিকট শব্দে পুরো রিসোর্টে দাউ দাউ করে আগুন ছড়িয়ে পড়ে। শেষ পর্যন্ত নাসরিনকে আর বাঁচাতে পারলাম না।"
চোখের সামনে এমন মর্মান্তিক ঘটনা দেখে কান্নায় ভেঙে পড়া ছাড়া দুই বান্ধবীর আর কিছুই করার ছিল না। প্রিয় বান্ধবীকে ফিরে পাওয়ার আশায় তারা রিসোর্টের সামনে অপেক্ষা করতে থাকেন। আগুন নেভানোর পর ফায়ার সার্ভিসের কর্মীদের সঙ্গে রিসোর্টের ভেতরে প্রবেশ করেন তারা। কিন্তু সেখানে নাসরিনকে খুঁজে না পেয়ে হতাশ হয়ে বেরিয়ে আসেন।
তবু আশা ছাড়েননি আইরিন ও ইমা। বান্ধবীকে জীবিত না পেলেও অন্তত তার লাশ খুঁজে পাওয়ার আশায় সারাদিন রিসোর্টের সামনে অপেক্ষা করেন তারা।
শনিবার, ১৭ অক্টোবর, সকালে ঘটে যাওয়া এই অগ্নিকাণ্ডে একসঙ্গে ঘুরতে যাওয়া তিন বান্ধবীর মধ্যে দুজন প্রাণে বেঁচে ফিরলেও নাসরিনের আর ফেরা হলো না। আনন্দের ভ্রমণ মুহূর্তেই রূপ নেয় ভয়াবহ শোকে।
এআরবি
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন