প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
যশোরের মণিরামপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মোঃ সম্রাট হোসেন -এর হস্তক্ষেপে অষ্টম শ্রেণির এক মেধাবী ছাত্রীর বাল্যবিবাহ বন্ধ হয়ে গেছে। সোমবার ইউএনও'র এই মহৎ উদ্যোগের জন্য এলাকাবাসী সন্তোষ প্রকাশ করেছেন। বিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, গায়েহলুদে বসা ওই ছাত্রী অষ্টম শ্রেণির জুনিয়র বৃত্তি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করবে।
দূর্বাডাঙ্গা ইউনিয়ন পরিষদের সচিব কোমল চন্দ্র বিশ্বাস জানিয়েছেন, রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) সকালে উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ সম্রাট হোসেন স্যারের নির্দেশনায় খাটুয়াডাংগা গ্রামে পৌঁছান। সেখানে গিয়ে তিনি দেখতে পান, খাটুয়াডাংগা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণির এক মেধাবী ছাত্রীর গায়েহলুদ অনুষ্ঠানের কার্যক্রম চলছে। বিষয়টি নিয়ে ছাত্রীর অভিভাবক, বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক এবং উপস্থিত গণ্যমান্য ব্যক্তিদের সাথে ইউএনও স্যারের নির্দেশনা ও বক্তব্য উপস্থাপন করা হয়। এক পর্যায়ে গায়েহলুদ দেওয়া অপ্রাপ্তবয়স্ক ওই ছাত্রীর বাবা-মা সাদা কাগজে লিখিত অঙ্গীকারবদ্ধ হন। সেখানে উল্লেখ করা হয়, মেয়েকে সুশিক্ষায় শিক্ষিত না করে এবং আঠারো বছর বয়স পূর্ণ না হওয়া পর্যন্ত বিবাহ দিবেন না।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক হযরত আলী জানিয়েছেন, সকালে বিদ্যালয়ে পৌঁছানোর কিছুক্ষণ পরে উপজেলা নির্বাহী অফিসার মহোদয় মোবাইলে তাকে জানান, আপনার প্রতিষ্ঠান সংলগ্ন গ্রামে এক ছাত্রীর বিবাহ হচ্ছে। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে তিনি দেখতে পান, ঘটনাটি সঠিক। এ সময় নির্বাহী কর্মকর্তার নির্দেশনা অনুযায়ী ইউপি সচিব কোমল চন্দ্র বিশ্বাসকে নিয়ে ছাত্রীর বাবা-মায়ের সাথে কথা বলে গায়েহলুদ অনুষ্ঠান বন্ধ করা হয়। প্রধান শিক্ষক আরও জানান, মেয়েটি তার বিদ্যালয় থেকে এবার অষ্টম শ্রেণির জুনিয়র বৃত্তি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করবে এবং সে খুব মেধাবী ছাত্রী। খাটুয়াডাংগা গ্রামের মাওলানা আজিজুর রহমান, আবু সাইদ, রুস্তম আলী, রমজান আলী, জিয়াউর রহমানসহ একাধিক ব্যক্তি জানিয়েছেন, উপজেলা নির্বাহী অফিসার আজ একজন মেধাবী ছাত্রীর ভবিষ্যৎ জীবন রক্ষা করেছেন। বর্তমান ইউএনও'র এমন বাল্যবিবাহ রোধের জন্য এলাকাবাসী সাধুবাদ জানিয়েছেন। উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ সম্রাট হোসেন বলেছেন, এলাকাবাসীর খবর পেয়ে মেধাবী ছাত্রীর বাল্যবিবাহটি বন্ধ করা সম্ভব হয়েছে। তিনি আরও বলেন, এসব নিয়ে একাধিকবার উপজেলার পৌরসভা এবং পাড়া-মহল্লায় সচেতনতামূলক সেমিনার করা হয়েছে। তবে, শতভাগ নির্মূল করতে হলে সকলকে আরও বেশি আন্তরিক ও সচেতন হতে হবে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন