প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
পিরোজপুরের মঠবাড়িয়ায় সরকারি বিধিমালা লঙ্ঘন করে বিদ্যালয়ের নতুন, পুরোনো ও অব্যবহৃত সরকারি পাঠ্যপুস্তক ভাঙাড়ির দোকানে বিক্রি করে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে থানায় এজাহার দায়ের করা হয়েছে প্রধান শিক্ষক মো. আকতার হোসেনের বিরুদ্ধে। তিনি বর্তমানে উপজেলার সরকারি হাতেম আলী বালিকা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক হিসেবে কর্মরত রয়েছেন।
শুক্রবার (২৬ জুন) দুপুরে পৌর শহরের বহেরাতলা এলাকার একটি ভাঙাড়ির দোকানের সামনে স্থানীয় জনগণের সহযোগিতায় এক ট্রাক আটক করা হয়, যেখানে বিপুল পরিমাণ বই ছিল। উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কার্যালয়ের হিসাবরক্ষক মো. কবির হোসেন বাদী হয়ে এজাহারটি মঠবাড়িয়া থানায় দায়ের করেন।
অভিযোগের ভিত্তিতে জানা গেছে, শুক্রবার (২৬ জুন) দুপুরে পৌর শহরের ওই এলাকায় হান্নানের ভাঙাড়ির দোকানের সামনে বগুড়াগামী একটি ট্রাকে আনুমানিক ৮ হাজার কেজি নতুন-পুরোনো বই, গাইড বই ও কার্টনের মাধ্যমে বিক্রির জন্য তোলা হচ্ছিল। স্থানীয় লোকজনের সন্দেহ হলে তারা ওই ট্রাক আটক করে এবং তল্লাশি চালালে দেখা যায়, সেখানে ২০২৪ ও ২০২৫ শিক্ষাবর্ষের মাধ্যমিক স্তরের বিপুল পরিমাণ নতুন ও অব্যবহৃত সরকারি পাঠ্যপুস্তক রয়েছে।
ঘটনাস্থলে থাকা জাকারিয়া নামের এক হকারকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে তিনি জানান, তিনি সরকারি হাতেম আলী বালিকা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. আকতার হোসেনের কাছ থেকে বইগুলো কিনেছেন। তিনি তার বক্তব্যও লিখিতভাবে দেন।
এজাহারে আরও উল্লেখ করা হয়েছে যে, গত ২৩ জুন প্রধান শিক্ষক মো. আকতার হোসেন ও তার সহযোগীরা সরকারি বিধিমালা উপেক্ষা করে এবং নিলাম বিজ্ঞপ্তি ছাড়া বিদ্যালয়ের বিজ্ঞানাগার থেকে ষষ্ঠ থেকে নবম শ্রেণির বাংলা, ইংরেজি, বিজ্ঞান, গণিত ও ভোকেশনাল সহ বিভিন্ন বিষয়ের মোট ২ হাজার ৩৭৯টি সরকারি বইমাত্র ৮ হাজার ৮০৫ টাকায় গোপনে হকার জাকারিয়ার কাছে বিক্রি করেন। বইগুলোর মোট ওজন ছিল ৫৮৭ কেজি।
এজাহারে অভিযোগ করা হয়েছে যে, সরকারি কর্মচারী হিসেবে তারা ক্ষমতার অপব্যবহার করেছেন এবং অপরাধজনক বিশ্বাসভঙ্গের মাধ্যমে বই বিক্রির অর্থ আত্মসাৎ করা হয়েছে। এছাড়া বই বিক্রির আগে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কিংবা উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তাকে অবহিত করা হয়নি।
প্রায় এক সপ্তাহ পর, বুধবার (১ জুলাই) উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার নির্দেশে প্রাথমিক স্তরের বইগুলো উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার জিম্মায় দেওয়া হয় এবং গাইড বইগুলো সংশ্লিষ্ট প্রাপকের কাছে ফেরত দেওয়া হয়। অন্যদিকে, মাধ্যমিক স্তরের ২ হাজার ৩৭৯টি সরকারি বই মঠবাড়িয়া থানা পুলিশ দ্বারা জব্দ করা হয়েছে। বাদী জানিয়েছেন, বইগুলো যাচাই-বাছাই ও বিতরণ কার্যক্রম শেষে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তার পরামর্শে থানায় এজাহার দায়ের করতে কিছুটা বিলম্ব হয়েছে।
মঠবাড়িয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. রবিউল ইসলাম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে এবং অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন