প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
বান্দরবান, ২১ অক্টোবর ২০২৬ : দুর্গাপূজা এবং সাপ্তাহিক ছুটির কারণে টানা পাঁচ দিনের ছুটির সুযোগে জেলার দর্শনীয় স্থানগুলোতে পর্যটকদের ভিড় ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। হোটেল, মোটেল এবং রিসোর্টগুলোতে কোনো কক্ষ খালি নেই। অনেকেই ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করেও পর্যটন স্পটে যাওয়ার জন্য গাড়ি পাচ্ছেন না। সকালে পর্যটন কেন্দ্রগুলোতে ভিড় কিছুটা কম থাকলেও বেলা বাড়ার সাথে সাথে তা বৃদ্ধি পাচ্ছে।
সরেজমিনে পর্যটন স্পটগুলো পরিদর্শন করে দেখা যায়, অনেক পর্যটক প্রকৃতির সাথে নিজেদের ছবি তুলতে ব্যস্ত। কেউ মেঘলার স্বচ্ছ হৃদে কায়াকিং করছেন, কেউ শৈলপ্রপাতের শীতল জলে গা ভিজাচ্ছেন। কিছু পর্যটক প্রকৃতির নীরবতায় নিমগ্ন হয়ে গান শুনছেন, আবার কেউ আনন্দের সাথে গান গাইছেন।
বান্দরবানের নীলাচলে ঘুরতে আসা সামিয়া জামান বাসসের সাথে আলাপকালে জানান, "বাচ্চাদের স্কুল বন্ধ। তাই বান্দরবানে ঘুরতে এসেছি। অনেক সুন্দর। চারদিকে পাহাড়-পর্বত আর সবুজে ঘেরা।"
ঢাকার গাজিপুর থেকে মেঘলায় ঘুরতে আসা জাহিদ হোসেন বলেন, "আমরা ১২ জন এসেছি। মেঘলায় প্রথম আসলাম। সবুজ পাহাড়ের মাঝখানে হ্রদ। অনেকে সুন্দর। দুই দিন থাকবো। আরো কয়েকটি পর্যটনকেন্দ্র ঘুরবো।"
আজ সকাল ৮টায় স্টেশনে গিয়ে দেখা যায়, চাঁদের গাড়ি, জিপ ও মাইক্রোবাসের জন্য পর্যটকরা ভিড় করেছেন। দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে আসা এসব পর্যটকদের অনেকেই দলবদ্ধ হয়ে গাড়ি ভাড়া করছেন। আবার অনেকে ঘণ্টার পর ঘণ্টা দাঁড়িয়ে থেকে গাড়ির জন্য অপেক্ষা করছেন।
চাঁদের গাড়ির লাইনম্যান কামাল উদ্দিন বাসসকে জানান, পর্যটকদের সেবায় প্রায় ৪২০টি চাঁদের গাড়ি, জিপ ও মাইক্রোবাস প্রস্তুত রয়েছে। বান্দরবানে প্রচুর পর্যটকের আগমন ঘটেছে। খুব সকালে তিনশ’র বেশি গাড়ি স্টেশন ছেড়ে গেছে। তবে বেলা ১১টার পর আর কোনো গাড়ি নেই। অনেকে গাড়ি ভাড়ার জন্য এসেছেন, কিন্তু পাচ্ছেন না। আগামী ২৪ অক্টোবর পর্যন্ত এ পরিস্থিতি অব্যাহত থাকবে।
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে গত ১৮ অক্টোবর, রোববার থেকে ২২ অক্টোবর, বৃহস্পতিবার পর্যন্ত পাঁচ দিনের পূজার ছুটি রয়েছে। এরপর ২৩ ও ২৪ অক্টোবর সাপ্তাহিক ছুটি এবং ২৫ অক্টোবর লক্ষ্মীপূজার ছুটি মিলিয়ে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে টানা ১০ দিনের ছুটি চলমান। এই ছুটিতে পর্যটকের সংখ্যা আরও বাড়বে বলে আশা করছেন পর্যটন ব্যবসায়ীরা।
ঢাকার মিরপুর থেকে আসা শরিফুল ইসলাম জানান, "সকাল থেকে জিপ স্টেশনে দাঁড়িয়ে আছি। আমরা ৫ জন। থানচির তিন্দু রেমাক্রী ও কেওক্রাডং যাবো। কোনো গাড়ি খালি পাচ্ছি না। স্টেশনে জটলা।"
হোটেল হিলটনের ব্যবস্থাপক তপন কান্তি বড়ুয়া বাসসকে বলেন, "২১ থেকে ২৩ তারিখ পর্যন্ত কোনো কক্ষ খালি নেই। আমাদের ৭২ টি কক্ষ রয়েছে। অনেকে কোনো কক্ষ খালি না পেয়ে ফিরে যাচ্ছেন। টানা ছুটির কারণে এ অবস্থা।"
বান্দরবান হোটেল-মোটেল-রিসোর্ট মালিক সমিতির সভাপতি সিরাজুল ইসলাম জানান, টানা ছুটির দিনগুলোতে পর্যটকে ভরপুর থাকে। আগামী শুক্রবার পর্যন্ত এই অবস্থা বজায় থাকবে। এখানে ৭০টির মতো হোটেল রয়েছে।
জেলা হোটেল-মোটেল-রিসোর্ট মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক জসীম উদ্দীন বলেন, জেলা শহর এবং রুমা, থানচি, আলীকদম ও লামা উপজেলায় ছোট বড় প্রায় ২৫০টি হোটেল, মোটেল ও রিসোর্ট রয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠানে ১৩ থেকে ১৪ হাজার পর্যটকের রাত্রি যাপনের ব্যবস্থা আছে।
বান্দরবানের পুলিশ সুপার মো. ওহাবুল ইসলাম খন্দকার জানান, ছুটিকে কেন্দ্র করে প্রত্যেকটি স্পটে পর্যটকরা আসবেন। পর্যটকদের আগমন যাতে নির্বিঘ্ন হয়, সেজন্য যাবতীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন