প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের দাউদকান্দি উপজেলার বলদা খাল থেকে মতলব সড়কটির পাঁচ বছরের মেয়াদ উত্তীর্ণ নির্মাণ কাজ নতুন টেন্ডারের মাধ্যমে শুরু হলেও, কাজের গতি অত্যন্ত ধীর। এই কারণে, সড়কটি দিয়ে চলাচলরত কয়েক জেলার সাধারণ যাত্রী ও চালকদের প্রতিনিয়ত চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। প্রতিদিন নোয়াখালী, লক্ষীপুর, চাঁদপুর ও কুমিল্লা জেলার হাজার হাজার যাত্রী ও পণ্যবাহী গাড়ী ঢাকা ও কুমিল্লা যাতায়াত করে। অতি ধীর গতিতে সংস্কার কাজ চলার ফলে জনদুর্ভোগ ক্রমশ তীব্র থেকে অতি তীব্রতর হচ্ছে।
সরেজমিন পরিদর্শনে দেখা গেছে, সড়কটির কাজির কোনা থেকে গোয়ালমারী পর্যন্ত অবস্থা অত্যন্ত খারাপ। রাস্তার কাজিরকোনা ও দৌলতদি অংশে রাস্তার একপাশে প্রায় ১৫ দিন ধরে অর্ধ বাধা রড আরসিসি ঢালাইয়ের জন্য প্রস্তুত করা হয়েছে। অপর পাশ খোলা রাখা হয়েছে যাতায়াতের জন্য। এই সরু অংশ দিয়ে যানবাহন চলাচল করতে গিয়ে দীর্ঘ যানজট সৃষ্টি হচ্ছে। সড়কের কাঁচা অংশের ধুলা ও নির্মাণ সামগ্রীর ধুলা উড়ছে, যা পথচারী ও যানচালকদের চলাচলে অসুবিধা সৃষ্টি করছে। বিভিন্ন স্থানের গর্ত, এবড়োখেবড়ো ও উঁচুনিচু সড়কে গাড়ী আটকে যাওয়ার পাশাপাশি অহরহ অটোরিকশা ও সিএনজি উল্টিয়ে দুর্ঘটনা ঘটছে। কয়করাপুর স্টিলের সেতুর উভয় পাশে যানজট দীর্ঘ সময় ধরে লেগে থাকে।
শ্রীরায়েরচর ব্রিজের সংযোগস্থলের রাস্তার ইট, পাথর ও পিচ ঢালাই উঠে গিয়ে বড় বড় গর্তের সৃষ্টি করেছে। এই কারণে গাড়ি উঠানামার সময় গতি কমে যাওয়ায় দীর্ঘ সময় যানজট লেগে থাকে। বেশ কয়েকটি ব্রিজের এ্যাপরোচে মাটি সরে গেছে, এবং নির্মাণাধীন বেশ কয়েকটি সেতুর রডে মরিচা ধরে ক্ষয় হয়ে গেছে।
এদিকে, এই সড়কটির প্রশস্তকরণ কাজটি দেড় বছরের মেয়াদে সম্পন্ন করার কথা থাকলেও, কাজ শুরু হওয়ার পর পাঁচ বছরেও শেষ হয়নি। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সড়কের নির্মাণ কাজ শেষ না হওয়ায় রাস্তার এই বেহাল দশা সৃষ্টি হয়েছে। এর ফলে, সড়কে চলাচলরত যাত্রীসাধারণসহ স্থানীয়দের দুর্ভোগ বেড়ে চলেছে।
জানা গেছে, ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের বলদাখাল থেকে মতলব সড়কটির দাউদকান্দির শ্রীরায়েরচর পর্যন্ত ১০ কিলোমিটার অংশ ৮৬ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্ধারণ করে ২০২১ সালের শেষের দিকে নির্মাণ কাজ শুরু হয়। সে সময় থেকে দেড় বছরের মধ্যে কাজ শেষ করার কথা থাকলেও, পাঁচ বছরেও কাজ সম্পন্ন হয়নি।
কারণ হিসেবে জানা যায়, নির্মিত সড়কটির ঢুলি নসরুদ্দি ও সোনাকান্দা মাদ্রাসা হতে শ্রীরায়েচর মাজার পর্যন্ত অংশে অনেক বসত বাড়ি, বিল্ডিং ও মাদরাসা অধিগ্রহণ করা হয়েছিল। এই সকল অধিগ্রহণকৃত ভূমির মালিকদেরকে ২০২২ সালে টাকা দেওয়ার কথা থাকলেও তা দেওয়া হয়নি। টাকা না পাওয়ায় সড়কের জন্য ভূমি ছাড়ছিল না জমির মালিকেরা। ফলে, রাস্তার অধিকাংশ নির্মাণ কাজ অসমাপ্ত রেখেই কাজ সম্পূর্ণরূপে বন্ধ হয়ে যায়। অবশিষ্ট কাজ বাস্তবায়নের জন্য ২০২৬ সালে ৩০ কোটি ৫৫ লক্ষ টাকা নতুন টেন্ডারের মাধ্যমে মেসার্স আদ্রিতা কনস্ট্রাকশনকে দেওয়া হয়। রাস্তার বিভিন্ন অংশের প্রায় ২.৫ কিলোমিটার রাস্তা বাস্তবায়নের জন্য এই চুক্তি করা হয়।
শ্রীরায়েরচর খালিশা বাজারের সভাপতি এস এম মনির হোসেন বলেন, "দীর্ঘদিন কাজ বন্ধ থাকার পরে, যদিও রাস্তার কাজ শুরু হয়েছে, তার গতি এতটাই ধীর যে সাধারণ মানুষের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হচ্ছে। দ্রুতগতিতে কাজ করার জোর দাবি জানাচ্ছি।"
গোয়ালমারী বাজারের দোকানদার হালিম মিয়া বলেন, "দীর্ঘদিন কাজ না হওয়ার কারণে বাজারের ভিতর দিয়ে চলমান এই রাস্তায় বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। বৃষ্টি এলে গর্তে পানি জমে যায়, গাড়ি চলাচলের সময় এই কাদা পানি দোকানের বিভিন্ন অংশে এসে পড়ে এবং পথচারীদের জামাকাপড় নষ্ট হয়ে যায়।"
এই সড়কে দীর্ঘদিন যাবত চলাচলরত মো: খোকন মিয়া, রাজু প্রধানসহ অনেক সিএনজি চালক বলেন, "ভাঙ্গাচোরা রাস্তায় সিএনজি চালানোর কারণে এক্সেল, ব্রেক শো দ্রুত নষ্ট হয়ে যায়। অনেক সময় সিএনজি উল্টিয়ে দুর্ঘটনার শিকার হই। যাত্রী ও চালকদের গা-হাত-পা ব্যথা হয়ে যায়। এত ধীর গতিতে কাজ করলে আমাদের দুর্ভোগ আরো বৃদ্ধি পাবে। দ্রুতগতিতে রাস্তার কাজ সম্পন্ন হলে আমরা এই অবস্থা থেকে রেহাই পাবো।"
কাজিরকোনা গ্রামের হাবিবুর রহমান (দোকানদার) বলেন, "অধিকাংশ সময় কয়রাপুর স্টিল ব্রিজের উভয় পাশে দীর্ঘ সময় যানজট থাকার কারণে বলদা খাল সিএনজি স্টেশন ও শ্রীরায়ের চর সিএনজি স্টেশনে কোন সিএনজি থাকে না। এতে অনেক যাত্রী দীর্ঘক্ষণ সিএনজির জন্য অপেক্ষা করতে থাকে। যা একটি বড় ধরনের জনদুর্ভোগ। এত অসুবিধার শর্তেও ধীরগতিতে কাজ সম্পাদন করলে এই রাস্তায় চলাচলরত জনগণের দুর্ভোগ দীর্ঘস্থায়ী হবে।"
সড়ক ও জনপদ বিভাগ কুমিল্লা জেলার উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী শফিকুল ইসলাম "দৈনিক ইনকিলাবকে" বলেন, "ভূমি অধিকরনের জটিলতা সম্পূর্ণ হয়েছে। বলদা খাল থেকে শ্রীরায়েরচর ব্রিজ পর্যন্ত বিভিন্ন অংশের অসমাপ্ত প্রায় ২.৫ কিলোমিটার রাস্তা বাস্তবায়নের জন্য ৩০ কোটি ৫৫ লক্ষ টাকা নতুন টেন্ডারের ভিত্তিতে মেসার্স আদ্রিতা কন্সট্রাকশনকে দেওয়া হয়েছে। আশা করছি আগামী বছরের জুন মাসের মধ্যেই এই নির্মাণ কাজ সমাপ্ত হবে।"
সড়ক ও জনপথ বিভাগ কুমিল্লার নির্বাহী প্রকৌশলী, খন্দকার গোলাম মোস্তফা জানান, "দীর্ঘদিনের প্রতীক্ষিত রাস্তাটি আগামী বছরের মার্চ মাসের মধ্যে নির্মাণের কাজ সমাপ্ত করার ব্যবস্থা গ্রহণ করেছি। ধীর গতিতে কাজ চলছে। প্রশ্নের জবাবে তিনি ইনকিলাবকে বলেন, দ্রুততম সময়ে কাজ সমাপ্ত করার জন্য নির্দেশনা প্রদান করা হবে।"
এ সড়কটির নির্মাণ কাজ দ্রুত সময়ের মধ্যে সম্পূর্ণ না হলে জনদুর্ভোগ দীর্ঘস্থায়ী হবে। তাই সচেতন মহল দ্রুত সড়কটির কাজ সম্পন্ন করার জন্য যথাযথ কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি কামনা করছেন।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন