প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের খুলনা বিভাগীয় পর্যায়ের আন্ত কলেজ ক্রীড়া প্রতিযোগিতা উৎসবমুখর পরিবেশে শুরু হয়েছে। এ প্রতিযোগিতায় খুলনা বিভাগের ৩৩টি কলেজ থেকে জেলা পর্যায়ে প্রথম স্থান ও স্বর্ণপদক পাওয়া ১ হাজার ১২৬ জন শিক্ষার্থী-অ্যাথলেট অংশগ্রহণ করছেন। তাদের মধ্যে ৭৮২ জন ছাত্র এবং ৩৪৪ জন ছাত্রী রয়েছেন।
প্রতিযোগিতার উদ্বোধন বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) সকালে খুলনার সরকারি ব্রজলাল (বিএল) কলেজের মাঠে বেলুন উড়িয়ে করা হয়। জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস-চ্যান্সেলর অধ্যাপক ড. এ এস এম আমানুল্লাহর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জাতীয় সংসদের হুইপ এবং খুলনা-৩ আসনের সংসদ সদস্য রকিবুল ইসলাম বকুল।
জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের শারীরিক শিক্ষা ও সংস্কৃতিবিষয়ক দপ্তর কর্তৃক আয়োজিত এই প্রতিযোগিতা ‘লার্নিং উইথ হ্যাপিনেস’ কর্মসূচির অংশ হিসেবে অনুষ্ঠিত হচ্ছে। ফুটবল, ক্রিকেট, ভলিবল, কাবাডি, সাঁতার ও অ্যাথলেটিকসসহ মোট ৬৬টি ইভেন্টে শিক্ষার্থীরা প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।
প্রধান অতিথি রকিবুল ইসলাম বকুল বলেন, "গতানুগতিক শিক্ষা ও কার্যক্রম দিয়ে বর্তমান বিশ্বে দেশকে এগিয়ে নেওয়া সম্ভব নয়।" তিনি উল্লেখ করেন, "বিশ্ব এখন হাতের মুঠোয়। তাই সময়ের সঙ্গে তাল মিলিয়ে শিক্ষার্থীদের আধুনিক ও দক্ষতাভিত্তিক শিক্ষা গ্রহণ করতে হবে।" তিনি জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান প্রশাসনের দক্ষতাভিত্তিক কোর্স চালুর উদ্যোগকে সময়োপযোগী ও প্রশংসনীয় হিসেবে উল্লেখ করেন।
তিনি আরও বলেন, "কর্মমুখী ও আধুনিক শিক্ষায় শিক্ষিত তরুণ প্রজন্মই ভবিষ্যতে বিশ্বজুড়ে নিজেদের জায়গা করে নেবে এবং দেশকে এগিয়ে নেবে।" তিনি বলেন, "দেশব্যাপী জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংস্কৃতিক ও ক্রীড়া প্রতিযোগিতার এই আয়োজন সরকারের অগ্রাধিকারমূলক ‘লার্নিং উইথ হ্যাপিনেস’ কর্মসূচিরও একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ।"
হুইপ বলেন, "শিক্ষার্থীদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশে খেলাধুলা ও সাংস্কৃতিক চর্চার কোনো বিকল্প নেই।" তিনি উল্লেখ করেন, "খেলাধুলা শুধু শরীর সুস্থ রাখে না, শিক্ষার্থীদের আত্মবিশ্বাস, শৃঙ্খলা ও প্রতিযোগিতার মানসিকতা তৈরি করে।" তিনি বলেন, "মাঠে নিয়ম মেনে খেলা এবং প্রতিপক্ষকে সম্মান করার অভ্যাস জীবনের অন্যান্য ক্ষেত্রেও একজন তরুণকে দায়িত্বশীল করে তোলে।" বর্তমান সময়ে তরুণদের সুস্থ ও ইতিবাচক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত রাখার কোনো বিকল্প নেই বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
সভাপতির বক্তব্যে ভাইস-চ্যান্সেলর অধ্যাপক ড. এ এস এম আমানুল্লাহ বলেন, "শিক্ষার্থীদের শুধু শ্রেণিকক্ষের পড়াশোনার মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখলে তাদের পূর্ণাঙ্গ বিকাশ সম্ভব নয়।" তিনি বলেন, "খেলাধুলা একজন শিক্ষার্থীকে শৃঙ্খলা, সময়ানুবর্তিতা, দলগতভাবে কাজ করা এবং জয়-পরাজয় মেনে নেওয়ার শিক্ষা দেয়।" তিনি আরও বলেন, "এছাড়া নেতৃত্ব দেওয়ার আত্মবিশ্বাসও তৈরি করে।"
তিনি উল্লেখ করেন, "জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার পাশাপাশি খেলাধুলা, সংস্কৃতি ও অন্যান্য সহশিক্ষা কার্যক্রমে যুক্ত করার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে।" ‘লার্নিং উইথ হ্যাপিনেস’ কর্মসূচির মূল লক্ষ্য হলো আনন্দের সঙ্গে শেখার এমন একটি পরিবেশ তৈরি করা, যেখানে শিক্ষার্থীরা নিজেদের প্রতিভা বিকাশের সুযোগ পাবে।
এদিকে, উদ্বোধন উপলক্ষে সকাল থেকেই সরকারি বিএল কলেজ মাঠে উৎসবের আমেজ বিরাজ করছিল। বিভিন্ন কলেজের শিক্ষার্থী-অ্যাথলেট, শিক্ষক ও ক্রীড়াপ্রেমীদের উপস্থিতিতে মাঠজুড়ে ছিল প্রাণচাঞ্চল্য। প্রতিযোগীদের মধ্যে ছিল নিজেদের সেরাটা দেওয়ার প্রত্যয়, আর দর্শকদের মধ্যে ছিল খেলোয়াড়দের উৎসাহ দেওয়ার উচ্ছ্বাস। তিন দিনব্যাপী এ প্রতিযোগিতা আগামী ১০ অক্টোবর ফাইনালের মধ্য দিয়ে শেষ হবে। বিভিন্ন ইভেন্টে বিভাগীয় পর্যায়ে প্রথম হয়ে স্বর্ণপদক পাওয়া শিক্ষার্থীরা পরবর্তী সময়ে জাতীয় পর্যায়ের চূড়ান্ত ক্রীড়া প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়ার সুযোগ পাবেন।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন