প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টু আজ রাজধানীর আগারগাঁওয়ে পরিবেশ অধিদপ্তরে আয়োজিত ‘শব্দ দূষণ নিয়ন্ত্রণে সমন্বিত ও অংশীদারিত্বমূলক প্রকল্প’-এর সমাপনী কর্মশালায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তৃতা দেন।
মন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টু বলেছেন, বায়ুদূষণ এবং শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণে সবাইকে একত্রিতভাবে কাজ করতে হবে। তিনি আরও জানান, বিশেষ করে শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণে সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, পূর্বে উল্লেখিত সংশ্লিষ্ট সংস্থা এবং সাধারণ মানুষের সম্মিলিত সহযোগিতা খুবই প্রয়োজন।
আজকের কর্মশালার প্রধান অতিথির বক্তৃতায় মন্ত্রী আরও জানান, শব্দদূষণ লোকের স্বাস্থ্যঝুঁকি বৃদ্ধি করছে, এই বিষয়টি সমাজে আরও বেশি করে বুঝানো প্রয়োজন। শব্দদূষণের কারণে বিভিন্ন ধরনের শারীরিক ও মানসিক সমস্যা হতে পারে, যেমন মাথাব্যথা, শ্রবণশক্তি হ্রাস, মেজাজ খিটখিটে হওয়া, মনোযোগের বিঘ্ন এবং অনিদ্রা। শিশু এবং বয়স্ক ব্যক্তিদের জন্য এটি সবচেয়ে বেশি ক্ষতিকর।
মন্ত্রী আরও বলেন, একজন চালক যে হর্ন ব্যবহার করছেন, সেটিই তার বৃহত্তম ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়ায়। সড়কে অতিরিক্ত হর্নের কারণে ট্রাফিক পুলিশ সদস্যরাও ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন।
শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণে একটি প্রকল্প নেওয়ার মাধ্যমে সম্পূর্ণরূপে সমস্যা সমাধান করা সম্ভব নয় উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ), বাংলাদেশ পুলিশ এবং সংশ্লিষ্ট সব প্রতিষ্ঠান ও সাধারণ মানুষের সক্রিয় অংশগ্রহণ অতীব গুরুত্বপূর্ণ।
শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণের জন্য অভিন্ন ও নিয়মিত উদ্যোগ অব্যাহত রাখতে পারলে বাংলাদেশকে একটি শব্দদূষণমুক্ত দেশ হিসেবে গড়ে তোলা সম্ভব হবে, বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
কর্মশালায় আবদুল আউয়াল মিন্টু জানান, বিভিন্ন এলাকা পাইলট প্রোগ্রামের মাধ্যমে ‘নীরব এলাকা’ হিসেবে ঘোষণা করার কার্যক্রম চলমান রয়েছে। বর্তমানে গুলশান, বনানী, বারিধারা এবং নিকেতন এলাকা ও হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কাছের সড়কের লা মেরিডিয়ান হোটেল থেকে উত্তরা স্কলাস্টিকা সেকেন্ডারি স্কুল পর্যন্ত নীরব এলাকা হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে।
এছাড়া, বাংলাদেশ সচিবালয়, আগারগাঁও প্রশাসনিক এলাকা এবং দেশের সকল সিটি কর্পোরেশনের হাসপাতাল, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও প্রশাসনিক এলাকায় ‘নীরব এলাকা’ ঘোষণা করা হয়েছে।
প্রকল্প পরিচালক ফরিদ আহমেদ জানান, প্রকল্পের আওতায় ২ হাজার ৫০০টি মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করে ৭ হাজার ২৯৭টি মামলায় ১ কোটি ৮ লাখ ১৩ হাজার ১৫৭ টাকা জরিমানা আদায় এবং ৬ হাজার ৯৮৬টি হাইড্রোলিক হর্ন জব্দ ও ধ্বংস করা হয়েছে।
তিনি জানান, ‘শব্দদূষণ (নিয়ন্ত্রণ) বিধিমালা, ২০২৫’ জারির মাধ্যমে ট্রাফিক সার্জেন্ট ও তদূর্ধ্ব কর্মকর্তাদের ক্ষমতা প্রদান করায় শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণে আইন প্রয়োগ কার্যক্রমকে আরও শক্তিশালী করা হয়েছে।
পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. রায়হান কাওছার বলেন, রেল, বিমান, যানবাহন ও বিভিন্ন যন্ত্রপাতির পরিচালনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের প্রশিক্ষণের আওতায় আনা হলে শব্দদূষণ কমানো সম্ভব।
অনুষ্ঠানের সভাপতিত্ব করেন পরিবেশ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ড. মো. লুৎফর রহমান। এছাড়াও বিআরটিএ'র পরিচালক (অপারেশন) মীর আহমেদ তারিকুল ওমর, ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ট্রাফিক) মো. আনিছুর রহমান, পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয় এবং পরিবেশ অধিদপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, বিভিন্ন বেসরকারি সংস্থার প্রতিনিধি এবং গণমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
কর্মশালা শেষে মন্ত্রী ‘সার্ভে রিপোর্টস অন নয়েজ লেবেল মেজারমেন্ট ইন ৬৪ ডিস্টিক্স টাউন’ শীর্ষক বইয়ের মোড়ক উন্মোচন করেন।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন