প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
বরিশালের আগৈলঝাড়ায় একাধিক মামলার আসামি রিয়াজ ফকিরকে চুরির মামলায় বুধবার সন্ধ্যায় গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
থানার জেল হাজতে বসে রিয়াজ ফকির নিজের মাথায় নিজে আঘাত করে অজ্ঞান হয়ে পরে। বৃহস্পতিবার বিকেলে রিয়াজ ফকিরের মৃত্যুর গুজব এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে, তার আত্মীয়-স্বজনসহ শতাধিক লোকজন মিছিল করে থানার ভিতরে ঢুকে হামলা করে।
এই হামলায় পুলিশ ও মিছিলকারীদের মধ্যে হামলা-পাল্টা হামলায় উভয় পক্ষের ১২ জন আহত হয়েছে। ডিউটি অফিসারসহ ছয়জন পুলিশ এবং মিছিলকারীদের তিনজনকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। আহত প্রতিপক্ষের কিছু সদস্য গোপনে চিকিৎসা নিচ্ছেন।
এ ঘটনায় থানায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে। আহত ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার বাকাল ইউনিয়নের ফুল্লশ্রী গ্রামের মো. ছিদ্দিক ফকিরের ছেলে রিয়াজ ফকিরকে (২৬) একটি চুরির মামলায় বুধবার সন্ধ্যায় গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
গ্রেপ্তারের পরে, রিয়াজকে থানার জেল হাজতে রাখার পর নিজের মাথায় আঘাত করে অজ্ঞান হয়ে পড়ে। বুধবার রাত ১১টায় তাকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছিল। রিয়াজের জ্ঞান ফিরে না আসায় গভীর রাতে তাকে বরিশাল শের-ই বাংলা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়।
বৃহস্পতিবার দুপুরের পরে চিকিৎসাধীন রিয়াজ ফকিরের মৃত্যুর গুজব এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে, সেখানে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। রিয়াজের আত্মীয়-স্বজনসহ শতাধিক লোক বৃহস্পতিবার বিকেলে মিছিল করে থানায় গিয়ে হামলা করে। হামলার সময় থানার ডিউটি অফিসার এএসআই আ. হালিমকে মারধর করা হয়।
আত্মরক্ষার জন্য পুলিশ মিছিলকারীদের উপর হামলা করে। হামলায় রিয়াজের মা নাছরিন বেগম, বোন শারমিন আক্তার, মমতাজ বেগমসহ ছয়জন আহত হয়। গ্রেপ্তার আতঙ্কে আহত অনেকে গোপন চিকিৎসা নিচ্ছেন।
এছাড়া, মিছিলকারীদের হামলায় থানার ডিউটি অফিসার এএসআই আ. হালিম, কনস্টেবল লিমন মিয়া, ফরহাদ হোসেন, মনির হোসেন, আলামিন হোসেন ও মেহেদী হাসান আহত হন। গুরুতর আহত অবস্থায় ডিউটি অফিসার এএসআই আ. হালিমকে বরিশাল শের-ই বাংলা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। রিয়াজের বোন শারমিন আক্তার ও স্থানীয় মমতাজ বেগমকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।
এই ঘটনার পর থেকে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে বরিশাল থেকে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়ন করা হয়েছে। এ ব্যাপারে রিয়াজ ফকিরের মা নাছরিন বেগম ও পিতা সিদ্দিক ফকির সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, "আমার ছেলেকে রাস্তা থেকে বিনা অপরাধে পুলিশ ধরে নিয়ে মারধর করেছে। যার জন্য গুরুতর আহত অবস্থায় বরিশাল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে।" বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা সাতটা পর্যন্ত রিয়াজ ফকির বরিশাল শেবাচিম হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে।
এ বিষয়ে আগৈলঝাড়া থানার ওসি মোহাম্মাদ মাসুদ খান বলেন, "চুরির মামলায় রিয়াজ ফকিরকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। সে জেল হাজতে বসে বুধবার রাতে নিজেই মাথায় আঘাত করে অজ্ঞান হয়ে পড়লে, তাকে বরিশাল শেবাচিম হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। যার কারণে পরিকল্পিতভাবে রিয়াজের আত্মীয়-স্বজনসহ শতাধিক লোকজন মিছিল নিয়ে থানায় হামলা করে পুলিশ সদস্যদের মারধর করে আহত করে।" থানায় হামলাকারীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও তিনি (ওসি) উল্লেখ করেন।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন