প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
বিগত ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের দুর্নীতিবাজদের জমানো অপ্রদর্শিত অর্থকে ব্যাংকিং ব্যবস্থায় ফিরিয়ে আনতে, মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ এবং কালো টাকার উৎস বন্ধকরণে ৫০০ ও ১০০০ টাকার নোট সাময়িকভাবে বাতিলের প্রস্তাব প্রদান করেছেন বিএনপির সংসদ সদস্য এ এম মাহবুব উদ্দিন খোকন।
আজ রবিবার, জাতীয় সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এ প্রস্তাবটি উত্থাপন করেন। মাহবুব উদ্দিন এ বিষয়ে বলেন, বর্তমানে অনেক মানুষ ব্যাংকে টাকা না রেখে নগদ অর্থ নিজেদের বাসায় সংরক্ষণ করছেন। যাঁরা অতীতে টাকা বিদেশে পাচার করতে চেয়েছিলেন অথবা স্বৈরাচারী শাসনের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন, তাঁরাও বিপুল পরিমাণ নগদ অর্থ জমা রেখেছেন। ফলে, প্রচুর টাকা ব্যাংকের বাইরে রয়ে গেছে।
তাহলে ৫০০ ও ১০০০ টাকার নোট বাতিলের সে প্রস্তাব দিয়ে মাহবুব উদ্দিন খোকন জানান, যদি সরকার এই নোটগুলো বাতিল করে এবং দুই মাসের মধ্যে ব্যাংকে জমা দেওয়ার সুযোগ দেয়, তবে যাঁদের ট্যাক্স ফাইলে ওই অর্থের হিসাব নেই, তাঁরা ২৫ শতাংশ কর দিয়ে সেটি বৈধ করতে পারবেন। এর ফলে বাজেট–ঘাটতি কমবে, ব্যাংকিং খাতে তারল্য বাড়বে, ব্যাংকগুলোর শক্তি বৃদ্ধি পাবে, এবং সেই অর্থ বিনিয়োগ ও উৎপাদনমুখী খাতে প্রয়োগ করা সম্ভব হবে।
মাহবুব উদ্দিন দাবি করেন, বর্তমানে বাংলাদেশের প্রয়োজনের তুলনায় অনেক বেশি ব্যাংক বিদ্যমান। তিনি বলেন, ‘এমপি হলেই একটা ব্যাংক লাগবে, নেতা হলেই একটা লিজিং কোম্পানি লাগবে—এ সংস্কৃতি বন্ধ করতে হবে। এত ব্যাংকের প্রয়োজন নেই। জনগণের টাকা দিয়ে দুর্বল ব্যাংক টিকিয়ে রাখা হচ্ছে।’ এই সংসদ সদস্য ব্যাংকের সংখ্যা কমিয়ে ব্যাংকিং খাতকে আরও কার্যকরী করার জন্য আহ্বান জানান।
তিনি টাকা পাচারকেই দেশের অন্যতম বড় সমস্যা হিসেবে চিহ্নিত করে বলেন, স্বাধীনতার পর থেকে বিদেশে পাচার হওয়া অর্থ ফিরিয়ে আনার বিষয়ে অনেকবার বলা হলেও বাস্তবে একটি টাকাও ফেরানো সম্ভব হয়নি। কারণ, আন্তর্জাতিক আর্থিক ব্যবস্থায় প্রবেশের পর সেই অর্থ ফিরিয়ে আনা অত্যন্ত কঠিন।
মাহবুব উদ্দিন আরও বলেন, ‘টাকারও একটি স্বভাব থাকে। মানুষ যেখানে নিরাপত্তা অনুভব করে, সেখানেই টাকা রাখে। আমাদের এমন একটি আর্থিক ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে, যাতে দেশের লোকজন বিদেশে টাকা না পাঠিয়ে দেশেই বিনিয়োগ করতে আগ্রহী হয়। শুধু আইন করলেই হবে না, পুরো সিস্টেম পরিবর্তন করতে হবে। সিঙ্গাপুর, দুবাই, কানাডা ও থাইল্যান্ডে মানুষ আস্থার সঙ্গে অর্থ রাখে। কারণ, সেখানে সেই পরিবেশ তৈরি করা হয়েছে।’
এ পাক্ষিক, নতুন বিএনপি সরকারের প্রথম বাজেট বাস্তবায়নের অন্যতম চ্যালেঞ্জ হিসেবে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও বেকারত্বের বিষয়টি তুলে ধরেন তিনি। তিনি বলেন, কোটি কোটি যুবককে বেকার রেখে আইনশৃঙ্খলার উন্নতি আশা করা যায় না। কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং যুবকদের জন্য কাজের সুযোগ বৃদ্ধি করতে হবে।
মাহবুব উদ্দিন খোকন আরও বলেন, এবারের বাজেট ঘাটতির থাকলেও এটি অস্বাভাবিক নয়। পৃথিবীর অনেক দেশেই ঘাটতির বাজেট হয়ে থাকে এবং বাংলাদেশেও অতীতে প্রায় সব বাজেটই ঘাটতির ছিল।
বক্তব্যে তিনি অব্যাহত রাখেন, প্রধানমন্ত্রী ও অর্থমন্ত্রীর নেতৃত্বে মাত্র তিন মাসের মধ্যে একটি বিধ্বস্ত অর্থনৈতিক পরিস্থিতিতে এই বাজেট প্রণয়ন করা হয়েছে। লুটপাটের অর্থনীতি থেকে দেশকে উদ্ধারের প্রচেষ্টার মধ্যে বাজেটটি এসেছে। এজন্যই বাজেট নিয়ে বড় ধরনের সমালোচনা দেখা যাচ্ছে না।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন