প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ মন্তব্য করেছেন যে, বিচার ব্যবস্থায় যারা অবস্থান করেন, আওয়ামী লীগ তাদেরকেও কিনে ফেলে।
তিনি বলেন, "আওয়ামী লীগ যে ইতিহাস সৃষ্টি করে গেছে, সেই ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি আমরা হতে দেব না।" তিনি উল্লেখ করেন, তাদের প্রতিমন্ত্রীর ৫০০ বাড়ি রয়েছে এবং তাদের নেতার ছেলে ইহুদি বিয়ে করে আমেরিকাতে কয়েকটি বিশাল প্রাসাদ গড়ে তুলেছে। স্পিকার বলেন, "এদের যে কি ধন-সম্পত্তি কল্পনা করতে পারবেন না। আসলে এগুলো হলো চোর। চুরি করে আর লুটপাট করে নিয়ে গেছে।"
মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) লালমোহন উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত সংবর্ধনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। এই সংবর্ধনার আয়োজন করে লালমোহন উপজেলা ও পৌরসভা বিএনপি।
তিনি আরও বলেন, "এদের (আওয়ামী লীগ নেতা) টাকার এত শক্তি, এদেরকে শাস্তি দেওয়া খুব মুশকিল। সবকিছু তারা কিনে ফেলে। বিচার ব্যবস্থায় যারা থাকে তাদেরকেও কিনে ফেলে।" তিনি অভিযোগ করেন যে, তাদের বিরুদ্ধে মামলা শক্তভাবে করা হয় না। স্পিকার বলেন, "বিদেশের সরকারগুলোও ভাবে যে, হাজার হাজার কোটি টাকা আমার দেশে আনছে, বিনিয়োগ করছে, মিল-ফ্যাক্টরি করছে, ওরাও চুপ করে বসে থাকে।"
স্পিকার আরও বলেন, "বিশ্বব্যবস্থায় নানা অনৈতিক কাজকর্ম হয়, সেগুলোতে প্রথম সারিতে আছে এই বাংলাদেশের আওয়ামী লীগের নেতারা।" তিনি বলেন, "তারা যে বিশাল লুটপাট করে গেছে, রাজার হালে এরা বিদেশে আছে।" তিনি উল্লেখ করেন, "ভারতে প্রসাদের মধ্যে থাকে, আমেরিকাতেও বড় বড় প্রাসাদ আছে। কানাডার বেগমপাড়া এলাকায় শত শত বাড়ি আছে আওয়ামী লীগের এমপিদের।"
ক্ষমতাসীন দলের নেতাকর্মীদের সংশোধনের আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, "ইতোমধ্যেই দেখেছেন ঢাকায় একজন মহিলা এমপির নাম উঠে এসেছে, তার বিরুদ্ধে অভিযোগ এসেছে একটা হাসপাতাল দখল করার জন্য।" তিনি বলেন, "প্রধানমন্ত্রী তাকে পদত্যাগ করার নির্দেশ দিয়েছেন।"
স্পিকার বলেন, "ইশরাক হোসেন কাজটা ভালোই করেছেন। তিনি পুলিশের উপর যারা গুলিবর্ষণ করে একদল মাদকসেবী, তাদেরকে দমন করতে গিয়েছিলেন। তবে তার হাতে অস্ত্র নেয়াটা ঠিক হয় নাই।"
তিনি বলেন, "আমাদের জন্য এই গত ১৫-১৬ বছর ছিল এক মসীদৃপ্ত কলঙ্কময় অধ্যায়।" তিনি অভিযোগ করেন, "এরকম লুটপাট পৃথিবীর কোনো দেশে রাজনৈতিক নেতারা করতে পারে নাই, যেটা আওয়ামী লীগ, শেখ হাসিনা এবং তার এই সন্ত্রাসী এমপিগুলো গত ১৫ বছরে করে গিয়েছে।"
স্পিকার বলেন, "তত্ত্বাবধায়ক সরকার দেড় বছর ছিল, বিএনপি সরকারেরও তো প্রায় এক বছর হচ্ছে, এখন পর্যন্ত কারও তো বাড়িটাড়ি উঠে নাই।" তিনি বলেন, "সুতরাং আমরা ন্যায়বিচারের একটা দৃষ্টান্ত উপস্থাপন করতে চাই।"
সভায় বক্তব্য দেন লালমোহন উপজেলা বিএনপির সভাপতি জাফর ইকবাল, সাধারণ সম্পাদক সফিকুল ইসলাম বাবুলসহ স্থানীয় নেতারা।
সভায় উপজেলা বিএনপির সভাপতি ও সম্পাদক স্পিকারকে ধানের শীষ প্রতীকের সোনার স্মারক দেন।
এছাড়া ইউনিয়ন পৌর বিএনপি ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের পক্ষ থেকে স্পিকারকে ফুলের শুভেচ্ছা জানানো হয়। সভায় দরিদ্রদের মধ্যে সরকারি সহায়তার চেক বিতরণ করা হয়।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন