প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
পটিয়ার চাঞ্চল্যকর ঘটনায় ৯ মাসের অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রী তানিয়া কামাল নিহাতকে (২০) হত্যার অভিযোগে তার স্বামী নুর উদ্দিন (২৩) গ্রেপ্তার হয়েছেন। পুলিশ জানিয়েছে, নুর উদ্দিন আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, স্ত্রীর সঙ্গে অন্য এক ব্যক্তির সম্পর্ক থাকার সন্দেহ এবং ওই ব্যক্তির সঙ্গে মোবাইল ফোনে কথা বলার কারণে তাদের মধ্যে বিরোধের জেরে এই হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে। নিহতের ননদ জোৎস্না আক্তারকেও (২৮) গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে মামলার এজাহারে উল্লেখিত অন্য আসামিরা এখনও পলাতক রয়েছে। তাদের গ্রেপ্তারের জন্য পুলিশ অভিযান চালাচ্ছে।
মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) পটিয়া সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে বিচারক বেগম তাররাহুম আহম্মেদের কাছে ফৌজদারি কার্যিবধির ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দেন নুর উদ্দিন। পুলিশ জানায়, তার জবানবন্দির বরাত দিয়ে, দাম্পত্য কলহের একপর্যায়ে স্ত্রীকে ধাক্কা দিলে তিনি দেয়ালে লেগে মেঝেতে পড়ে যান। এরপর নুর উদ্দিন তার গলা চেপে ধরার কথা স্বীকার করেছেন।
মামলার বিবরণ ও পুলিশের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, সোমবার (২৬ অক্টোবর) ভোর রাত সাড়ে ৩টার দিকে চট্টগ্রামের পটিয়া উপজেলার হাবিলাসদ্বীপ ইউনিয়নের চরকানাই এলাকার মোনাফ হাজীর পাড়ায় স্বামীর বসতঘরের শয়নকক্ষে এ হত্যাকাণ্ড ঘটে। নিহত তানিয়া কামাল নিহাত ৯ মাসের অন্তঃসত্ত্বা ছিলেন। সংসারের কলহের কারণে তার মৃত্যুতে পরিবার ও স্থানীয়দের মধ্যে শোক এবং ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। অনাগত সন্তানকে নিয়ে নতুন জীবনের অপেক্ষায় থাকা তরুণীর এমন পরিণতি এলাকায় আলোচনা সৃষ্টি করেছে।
মামলার প্রধান আসামি ও নিহতের স্বামীর দেওয়া আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি অনুযায়ী, পুলিশ জানায়, স্ত্রীর সঙ্গে অন্য এক ব্যক্তির সম্পর্ক থাকার সন্দেহ থেকেই নুর উদ্দিনের মধ্যে ক্ষোভ তৈরি হয়। ওই ব্যক্তির সঙ্গে মোবাইল ফোনে কথা বলা নিয়ে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে বিরোধ চলছিল। এই বিরোধের জেরেই হত্যাকাণ্ডটি ঘটেছে কি না, তা খতিয়ে দেখছেন তদন্ত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
এ ঘটনায় মঙ্গলবার বিকেলে পটিয়া থানা পুলিশের পাঠানো সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, পারিবারিক কলহের কারণে তানিয়াকে তার স্বামী নুর উদ্দিন, ননদের স্বামী মো. খোকন (৪২), ননদ জোৎস্না আক্তারসহ অজ্ঞাতনামা আরো দুই থেকে তিনজন মিলে হত্যা করেছেন বলে এজাহারে অভিযোগ করা হয়েছে।
নিহতের বাবা মো. কামালের পক্ষ থেকে এজাহার পাওয়ার পর মঙ্গলবার পটিয়া থানায় এ হত্যা মামলাটি করা হয়। মামলায় একাধিক ব্যক্তির বিরুদ্ধে একই উদ্দেশ্যে হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগ আনা হয়েছে।
এদিকে, ঘটনার খবর পাওয়ার পর চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ সুপার মো. মাসুদ আলমের নির্দেশনায় পটিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জিয়াউল হকের নেতৃত্বে অভিযান চালানো হয়। সোমবার সকাল সাড়ে ৭টার দিকে নিহতের স্বামীর বাড়ি থেকে নুর উদ্দিন ও ননদ জোৎস্না আক্তারকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। মঙ্গলবার দুপুরে নুর উদ্দিনকে আদালতে হাজির করা হলে তিনি স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন বলে জানিয়েছে পুলিশ। পরে গ্রেপ্তার দুজনকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
এ ঘটনায় অন্য অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার এবং হত্যাকাণ্ডের পেছনের পুরো ঘটনা উদ্ঘাটন এখন পুলিশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিশেষ করে হত্যাকাণ্ডের সময় কারা উপস্থিত ছিলেন, প্রত্যেকের ভূমিকা কী ছিল এবং ঘটনার আগে-পরে কী ঘটেছিল, তা তদন্তের মাধ্যমে বেরিয়ে আসবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
পটিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জিয়াউল হক বলেন, এ ঘটনায় গ্রেপ্তার দুজনকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। মামলার পলাতক আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত অন্যদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।
তিনি আরো বলেন, মামলার তদন্ত অব্যাহত রয়েছে। গ্রেপ্তার স্বামীর জবানবন্দি, এজাহারে করা অভিযোগ এবং অন্য আসামিদের সম্পৃক্ততার বিষয়গুলো তদন্ত করে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন