প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
বরিশালের বাকেরগঞ্জ উপজেলার ১১টি ইউনিয়নে ইউপি সদস্য (মেম্বার) না থাকার কারণে প্রতিদিন হাজারো সাধারণ মানুষ নাগরিক সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। স্থানীয় প্রশাসন ও সামাজিক কার্যক্রমে চরম স্থবিরতা দেখা দিয়েছে, কারণ ওয়ার্ড পর্যায়ে কোনো প্রতিনিধি নেই।
উপজেলার মোট ১৪টি ইউনিয়ন পরিষদের মধ্যে ১১টি ইউনিয়নের মেয়াদ শেষ হওয়ায় সংশ্লিষ্ট ইউপি চেয়ারম্যান ও সাধারণ সদস্যদের দাপ্তরিক পদ শেষ হয়ে যায়। এর ফলে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে উপজেলার বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের প্রধানদের ইউপি চেয়ারম্যানের অতিরিক্ত দায়িত্ব দিয়ে 'ইউনিয়ন প্রশাসক' হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়।
যদিও ইউনিয়ন পর্যায়ে প্রশাসনিক প্রধান বা চেয়ারম্যান নিয়োগ হয়েছে, তবুও প্রতিটি ওয়ার্ডে কোনো ‘ওয়ার্ড প্রশাসক’ বা প্রতিনিধি নিয়োগ না দেওয়ায় মাঠপর্যায়ের নাগরিক সেবায় কাঙ্ক্ষিত গতি ফিরেনি। দীর্ঘ কয়েক মাস ধরে ওয়ার্ড প্রতিনিধি না থাকায় জন্ম নিবন্ধন সংশোধন, ওয়ারিশ সনদ, চারিত্রিক সনদ এবং নাগরিক প্রত্যয়নপত্রের মতো গুরুত্বপূর্ণ সরকারি কাগজপত্রের কাজ স্থবির হয়ে পড়েছে। সাধারণ মানুষ প্রয়োজনীয় সনদের সত্যায়ন না পেয়ে দিনের পর দিন পরিষদে ঘুরেও সেবা পাচ্ছেন না।
ওয়ার্ড পর্যায়ে প্রতিনিধি না থাকার কারণে স্থানীয় দরিদ্র জনগোষ্ঠীর ওপরও প্রভাব পড়েছে। সুবিধাবোগী চিহ্নিতকরণ ও তদারকির অভাবে দরিদ্র ও নিম্ন আয়ের পরিবারগুলো সময়মতো তাদের বরাদ্দকৃত ভিজিডি কার্ডের চালসহ সরকারি খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির সুবিধা পাচ্ছেন না। একই সঙ্গে স্থানীয় মেম্বার না থাকায় গ্রামীণ রাস্তাঘাট সংস্কার ও নতুন অবকাঠামোগত উন্নয়ন প্রকল্প নেওয়া সম্ভব হচ্ছে না, ফলে আঞ্চলিক জরুরি সমস্যাগুলোর সমাধান ব্যাহত হচ্ছে।
স্থানীয়রা জানান, ইউনিয়ন পরিষদের ওয়ার্ড পর্যায়ে কোনো প্রতিনিধি না থাকায় সামাজিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা দুর্বল হয়ে পড়েছে এবং এলাকাগুলোতে অপরাধপ্রবণতা বাড়ছে।
বিদ্যমান নাগরিক ভোগান্তি প্রসঙ্গে বাকেরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মিল্টন চন্দ্র পাল জানান, সাধারণ মানুষের কষ্ট লাঘবে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ইতিমধ্যে ওয়ার্ড প্রশাসকের তালিকা তৈরি করে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হয়েছে। তিনি বলেন, "ওয়ার্ড প্রশাসক নিয়োগ প্রক্রিয়া শেষ হলেই মাঠপর্যায়ের এই দুর্ভোগ কমে আসবে এবং স্বাভাবিক নাগরিক সেবা পুনরায় চালু হবে।"
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন