প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
ইন্দোনেশিয়ার পূর্বাঞ্চলে এক শক্তিশালী ৭ দশমিক ৭ মাত্রার ভূমিকম্পে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৪৭ জনে পৌঁছেছে। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও অনেক মানুষ। শনিবার ভোরে আঘাত হানা ভূমিকম্পে শত শত বাড়িঘর এবং বিভিন্ন সরকারি স্থাপনার ক্ষতি হয়েছে। খবর আনাদোলুর।
রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা আনতারার প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, দেশটির জাতীয় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সংস্থা (বিএনপিবি) জানিয়েছে, নিহতদের মধ্যে ২৪ জন মাংগারাই রিজেন্সিতে, ১৭ জন ইস্ট মাংগারাইয়ে, তিনজন সিক্কায়, একজন নাগাদায় এবং একজন এনদেতে মারা গেছেন।
কর্তৃপক্ষের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ভূমিকম্পের ফলে ১৫৭টি বাড়ি মারাত্মকভাবে, ৪১টি বাড়ি মাঝারি ও ১৪৮টি বাড়ি সামান্য ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এছাড়া ৮৭টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, ১৮টি স্বাস্থ্যকেন্দ্র, পাঁচটি উপাসনালয় এবং ছয়টি সরকারি কার্যালয় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
ইন্দোনেশিয়ার আবহাওয়া, জলবায়ু ও ভূ-পদার্থবিদ্যা সংস্থা (বিএমকেজি) বিভিন্ন এলাকায় সুনামির সতর্কতা ঘোষণা করলেও পরবর্তীতে তা প্রত্যাহার করা হয়েছে।
উদ্ধারকারী দলগুলো আহতদের উদ্ধার এবং চিকিৎসা কার্যক্রম অব্যাহত রেখেছে। ক্ষতিগ্রস্ত অঞ্চলে খাদ্য ও প্রয়োজনীয় ত্রাণসামগ্রী পাঠানোর জন্য বিএনপিবি কাজ করছে। ভূমিকম্পের পর প্রায় ২ হাজার মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরানো হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা (ইউএসজিএস) জানিয়েছে, স্থানীয় সময় শনিবার সকাল ৫টা ৫৮ মিনিটে ফ্লোরেস অঞ্চলে ভূমিকম্পটি আঘাত হানে। এর উৎপত্তিস্থল ছিল ভূপৃষ্ঠের মাত্র ১০ কিলোমিটার গভীরে।
মূল ভূমিকম্পের পর ১১১টি আফটার শক অনুভূত হয়েছে, যার মধ্যে একটি ছিল ৬ দশমিক ১ মাত্রার। শক্তিশালী এই কম্পনে বিভিন্ন এলাকার বাসিন্দারা ঘরবাড়ি ছেড়ে রাস্তায় আশ্রয় নেন বলে স্থানীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে।
এদিকে শনিবার উত্তর সুমাত্রা প্রদেশের পেমাতাংসিয়ান্তারের কাছে ৬ দশমিক ৯ মাত্রার আরেকটি ভূমিকম্প আঘাত হানে। তবে এ ঘটনায় হতাহত বা উল্লেখযোগ্য ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি।
অন্যদিকে, শনিবার সুলাওয়েসিতে ৫ দশমিক ৮ মাত্রার আরেকটি ভূমিকম্প আঘাত হানে। জার্মানির জিএফজেড হেলমহোলৎস সেন্টার ফর জিওসায়েন্সেস জানিয়েছে, ভূমিকম্পটির গভীরতা ছিল ৭২ কিলোমিটার। তবে ইন্দোনেশিয়ার বিএমকেজি এর মাত্রা ৬ দশমিক ২ এবং গভীরতা ৪৪ কিলোমিটার বলে জানিয়েছে।
ইন্দোনেশিয়া প্রশান্ত মহাসাগরীয় ‘রিং অব ফায়ার’-এর ওপর অবস্থান করছে। এই ভূমিকম্পপ্রবণ অঞ্চলে সক্রিয় ভূ-চ্যুতি ও অনেক আগ্নেয়গিরি থাকায় দেশটিতে প্রায়ই শক্তিশালী ভূমিকম্প সংঘটিত হয়।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন