প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
ঈদের ছুটি শেষ হওয়ার পর শনিবার থেকে পোশাক কারখানাগুলো খুলে যাবে। এই কারণে উত্তরাঞ্চল ও দক্ষিণাঞ্চল থেকে কর্মমুখী মানুষ ঢাকায় চলে আসছে।
এই কারণে মহাসড়কে যানবাহনের চাপ কয়েকগুণ বেড়ে গেছে। এসব যানবাহন যমুনা সেতু অতিক্রম করার সময় গত ২৩ ঘণ্টায় সেতুর ওপরে ছোট-বড় মিলে ২৪টি দুর্ঘটনা ঘটেছে। এরমধ্যে ৬টি দুর্ঘটনার সময় উদ্ধার কাজে রেকার ব্যবহার করতে হয়েছে। দুর্ঘটনার কারণে কখনও সেতুর দুই লেন কিংবা এক লেন বন্ধ রাখতে হয়েছে।
যার জন্য সমস্যার সৃষ্টি হয়েছে সেতুর দুই পাড়ে। সেই কারণে শুক্রবার (৫ জুন) সকাল থেকেই সেতুর পশ্চিমপাড়ে যানজট ও দুর্ভোগ সহ্য করতে হয়েছে কর্মমুখী এসব যানবাহন ও মানুষদের।
বিকেলের পর থেকে কিছুটা অবস্থার উন্নতি হলেও সর্বশেষ রাত ৯টার দিকে যমুনা সেতুর উপরে দুইটি বাসের সংঘর্ষে একজনের মৃত্যু হয়েছে।
এ ঘটনার পর যমুনা সেতুর পশ্চিমপাড়ে আবারো প্রায় ১৫ কিলোমিটার যানজট পরিলক্ষিত হয়েছে।
এ বিষয়ে যমুনা সেতু পশ্চিম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আমিরুল ইসলাম জানান, যমুনা সেতুর ৭ নম্বর পিলারের কাছে দুই বাসের সংঘর্ষে একজন নিহত হয়েছেন এবং কয়েকজন আহত হয়েছেন। তবে দুর্ঘটনার কারণে সেতুর ওপর দিয়ে ঢাকামুখী লেনের যান চলাচল সাময়িকভাবে বন্ধ ছিল।
আমিরুল ইসলাম আরও জানান, বৃহস্পতিবার রাত ১২টা থেকে শুক্রবার রাত ১১টা পর্যন্ত গত ২৩ ঘণ্টায় সেতুর ওপরে ছোট-বড় ২৪টি দুর্ঘটনা ঘটে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে শুক্রবার রাত ১১টার পর থেকে সেতুর পূর্বপাড়ের যানবাহন পারাপার বন্ধ রেখে, সেতুর প্রতিটি লেন দিয়ে উত্তরাঞ্চল থেকে ঢাকামুখী যানবাহন পারাপার শুরু করা হয়েছে।
আমরা আশা করছি যে পরিস্থিতি দ্রুত স্বাভাবিক হয়ে আসবে।
সার্বিক পরিস্থিতি সম্পর্কে যমুনা সেতু সাইট অফিসের নির্বাহী প্রকৌশলী সৈয়দ রিয়াজ উদ্দিন বলেন, পশ্চিম টোলপ্লাজা পার হওয়ার পরেই যানবাহন বিকল হওয়া, একটার পিছনে আরেকটার ধাক্কা লাগা সহ নানা কারণে সেতুর ওপরে যানবাহন চলাচল ব্যাহত হতে পারে। সেগুলো দ্রুত নিয়ন্ত্রণ করার চেষ্টা করা হয়। বর্তমানে পরিস্থিতিতে সেতুর উভয় লেনেই যান চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। যেকোনো একটি যানবাহন বিকল হলে পেছনে দীর্ঘ সারি তৈরি হয়। আজ যানবাহনের চাপও অনেক বেশি, তাই সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে।
সিরাজগঞ্জ থেকে ঢাকাগামী বাসের চালক রুবেল শেখ রাত ১১টার দিকে মোবাইলে বলেন, শুক্রবার সকাল ১০টার পর যমুনা সেতু অতিক্রম করার সময় পশ্চিমপাড়ে ৫ ঘণ্টা যানজটে আটকে ছিলাম। কোনাবাড়ি থেকে ফেরার সময় রাত ৮টার সময় টাঙ্গাইলের এলাঙ্গায় এসে সেতুর পূর্বপাড়ে যানজটে আটকে আছি। কখন সেতু পার হতে পারবো সে বিষয়ে ধারণা করতে পারছি না।
সিরাজগঞ্জ জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে মহাসড়কে সার্বক্ষণিক সিসি ও ড্রোন ক্যামেরার মাধ্যমে মনিটরিং করা হচ্ছে। তাদের অফিসিয়াল ফেসবুক পেজে মহাসড়কের আপডেট পরিস্থিতি প্রচার করা হচ্ছে। যানবাহন ও জনদুর্ভোগের কারণে জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে দুঃখ প্রকাশ করা হয়েছে।
এই মহাসড়ক দিয়ে সাধারণ সময়ে ১৭/১৮ হাজার যানবাহন চলাচল করে, কিন্তু ঈদের সময়ে তা বেড়ে ৫০ হাজারের অতিক্রম করে থাকে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন