প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
জলবায়ু পরিবর্তনসহ বিভিন্ন কারণে বিশ্বজুড়ে দূষণের মাত্রা বাড়ছে। এই প্রভাব থেকে বাংলাদেশও মুক্ত নয়। বিশেষ করে রাজধানী ঢাকা, যেখানে বাতাসের দূষণের মাত্রা যেন কমছে না। টানা কয়েকদিন ধরে ঢাকার বায়ুমান অস্বাস্থ্যকর পর্যায়ে রয়েছে। ছুটির দিনে নগরীর বাতাসের দূষণের মাত্রা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে।
শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) সকাল ৭টা থেকে ৮টা পর্যন্ত আন্তর্জাতিক বায়ুমান পর্যবেক্ষণ সূচকের তথ্য অনুযায়ী, ঢাকার অবস্থান বিশ্বের দূষিত শহরের তালিকায় চতুর্থ। শহরটির বায়ুমানের স্কোর ছিল ১৮১, যা অস্বাস্থ্যকর হিসেবে গণ্য। তবে বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বায়ুমান ওঠানামা করতে পারে।
একই সময়ে তালিকার শীর্ষে থাকা সিঙ্গাপুরের সিঙ্গাপুর শহরেও বায়ুদূষণের ভয়াবহ চিত্র লক্ষ্য করা গেছে। শহরটির বায়ুমান সূচক (একিউআই) ছিল ২৩৬, যা ‘খুব অস্বাস্থ্যকর’ হিসেবে বিবেচিত।
এদিকে, ঢাকার বায়ুমান অস্বাস্থ্যকর হওয়া ছাড়াও তালিকায় আরও ১০টি শহর রয়েছে। এগুলোর মধ্যে রয়েছে- ইন্দোনেশিয়ার জাকার্তা, পাকিস্তানের লাহোর, মালয়েশিয়ার কুয়ালালামপুর, আরব আমিরাতের দুবাই, ইতালির মিলান, ভারতের কলকাতা, মুম্বাই ও দিল্লি, বাহরাইনের মানামা এবং ভিয়েতনামের হেনোয় শহর।
এছাড়া, বায়ুমান সংবেদনশীল গোষ্ঠীর জন্য অস্বাস্থ্যকর শহরের তালিকায় ১৩টি শহর রয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে- ভিয়েতনামের হো চি মিন, ইরাকের বাগদাদ, ইসরাইলের তেল আবিব-ইয়াফো ও জেরুজালেম, ইন্দোনেশিয়ার মেদান, কুয়েতের কুয়েত সিটি, কাতারের দোহা, আজারবাইজানের বাকু, কঙ্গোর কিনশাসা, পাকিস্তানের করাচি, নেপালের কাঠমান্ডু, চীনের হাংজু এবং উজবেকিস্তানের তাসকেন্ত।
একিউআইয়ের মানদণ্ড অনুযায়ী, স্কোর ১৫১ থেকে ২০০-এর মধ্যে থাকলে বায়ুর মানকে অস্বাস্থ্যকর হিসেবে ধরা হয়। এই ধরনের বায়ু সবার স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর হলেও শিশু, বয়স্ক ব্যক্তি এবং শ্বাসকষ্টসহ বিভিন্ন শারীরিক সমস্যায় আক্রান্ত ব্যক্তিদের জন্য ঝুঁকি বেশি।
ঢাকার বায়ুদূষণের পেছনে অপরিকল্পিত নির্মাণকাজ, যানবাহনের ধোঁয়া ও ধুলাবালিসহ বিভিন্ন কারণকে দায়ী করা হচ্ছে। এসব দূষণকারী উপাদান বায়ুর মানের অবনতি ঘটিয়ে নগরবাসীর স্বাস্থ্যের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, শ্বাসকষ্ট, অ্যালার্জি ও ফুসফুসের বিভিন্ন সমস্যা এই বায়ুদূষণের কারণে বৃদ্ধি পেতে পারে। এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় নির্মাণকাজে ধুলা নিয়ন্ত্রণ, যানবাহনের নির্গমন কমানো এবং দূষণ নিয়ন্ত্রণে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা জরুরি। পাশাপাশি, দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা ও পরিবেশবিষয়ক নীতিমালার যথাযথ বাস্তবায়নের মাধ্যমে ঢাকার বায়ুর মান উন্নয়নে উদ্যোগ গ্রহণের প্রয়োজন।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন