প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
ঢাকা, ৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ : নৌপরিবহন মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম জানিয়েছেন, আগামী দুই মাসের মধ্যে চট্টগ্রাম বন্দরের দখলকৃত সব জায়গা উদ্ধার করে সম্পূর্ণভাবে দখলমুক্ত করা হবে।
আজ জাতীয় সংসদে চট্টগ্রাম-১৫ আসনের বিরোধী দলের সদস্য শাহজাহান চৌধুরীর এক সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে তিনি এই তথ্য জানান।
শাহজাহান চৌধুরী চট্টগ্রাম বন্দরের বিভিন্ন স্থানে অবৈধভাবে লিজ দেওয়া এবং দখলের বিষয়টি তুলে ধরে সেগুলো দ্রুত উদ্ধার করার বিষয়ে জানতে চান।
জবাবে নৌপরিবহন মন্ত্রী বলেন, চট্টগ্রাম বন্দরের কিছু জায়গার লিজ ইতোমধ্যে বাতিল করা হয়েছে। তিনটি জায়গার লিজ বাতিলের পর এর মধ্যে দুটি জায়গা উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। অপর জায়গার বিষয়টি বর্তমানে আদালতে রয়েছে।
তিনি আরও বলেন, চট্টগ্রাম বন্দরের কিছু জায়গা নিয়ে রেল মন্ত্রণালয় ও নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের মধ্যে মালিকানা-সংক্রান্ত জটিলতা বিদ্যমান। সম্প্রতি চট্টগ্রাম সফরের সময় তিনি বিষয়টি বিস্তারিত শুনে প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছেন। আদালতে থাকা বিষয়গুলো আরবিট্রেশনের মাধ্যমে নিষ্পত্তি করা হবে। তিনি আশা প্রকাশ করেন যে, আগামী দুই মাসের মধ্যে চট্টগ্রাম বন্দরের কোনো জায়গা আর দখলমুক্ত থাকবে না।
চট্টগ্রাম বন্দরের কার্যক্রমের অগ্রগতি তুলে ধরে শেখ রবিউল বলেন, বর্তমানে কোনো জাহাজকে পণ্য খালাসের জন্য দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হচ্ছে না। বার্থ বা ডিপ সিতে অবস্থানরত জাহাজ দুই দিনের মধ্যে পণ্য খালাস ও পুনরায় পণ্য লোড করে ছেড়ে যেতে পারছে, যেখানে আগে এ কাজে ৮ থেকে ১০ দিন সময় লাগত।
তিনি উল্লেখ করেন, চট্টগ্রাম ও মোংলা বন্দর বর্তমানে রেকর্ড পরিমাণ রাজস্ব আদায় করছে এবং কনটেইনার ওঠানামা করছে। পতেঙ্গা কনটেইনার টার্মিনাল আন্তর্জাতিক মানে পরিচালিত হচ্ছে। লালদিয়া কনটেইনার টার্মিনালও পিপিপি পদ্ধতিতে উন্নয়ন করা হচ্ছে। সেখানে প্রায় ৮০ কোটি ডলারের বিনিয়োগ আসছে এবং প্রায় ৩ হাজার মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে।
এদিকে, ময়মনসিংহ-৬ আসনের বিরোধী দলের সদস্য মো. কামরুল হাসানের সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে নৌপরিবহন মন্ত্রী জানান, দেশের সাড়ে ৭ হাজার কিলোমিটার নৌপথ ড্রেজিংয়ের মাধ্যমে সচল রাখা হয়েছে এবং আরও প্রায় ১ হাজার ২০০ কিলোমিটার নৌপথে ড্রেজিং কার্যক্রম চলমান রয়েছে।
ঢাকার চারপাশের নদীদূষণ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, দূষণের উৎস চিহ্নিত করে ৪২৪টি স্পট নির্ধারণ করা হয়েছে। রাজধানীর চারপাশে পাঁচটি নদী দূষণমুক্ত করার লক্ষ্যে ওয়াসা, দুই সিটি কর্পোরেশন, নারায়ণগঞ্জ ও গাজীপুর সিটি কর্পোরেশন, বিআইডব্লিউটিএ এবং পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্ট সংস্থা সমন্বিতভাবে কাজ করছে।
ওয়াটার বাস চালুর বিষয়ে তিনি জানান, গত ১০ বছরে এ প্রকল্পে ৫৭ কোটি টাকা লোকসান হয়েছে। তবে বিআইডব্লিউটিএ সমস্যাগুলো চিহ্নিত করে নতুনভাবে উদ্যোগ নিয়েছে। আগামী দুই থেকে তিন মাসের মধ্যে ঢাকার চারপাশের রিং ওয়াটারওয়েতে ওয়াটার বাস চালুর আশা করা হচ্ছে।
সংরক্ষিত নারী আসন-৩৯-এর বিরোধী দলের সদস্য সাবিকুন্নাহারের সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে নদী দখল প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, বিআইডব্লিউটিএ অবৈধ দখল চিহ্নিত করে তালিকা তৈরি করে স্থানীয় প্রশাসনের কাছে উচ্ছেদের জন্য সহযোগিতা চায়। তবে সরাসরি দখল উচ্ছেদের আইনি ক্ষমতা বিআইডব্লিউটিএর নেই। স্থানীয় প্রশাসনের লজিস্টিক সীমাবদ্ধতার কারণে কোথাও কোথাও উচ্ছেদ কার্যক্রম প্রত্যাশিত গতিতে হচ্ছে না।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন