প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
বাংলাদেশ ব্যাংক কর্তৃক বেসরকারি ব্যাংকে এন্ট্রি পর্যায়ের কর্মকর্তা-কর্মচারী নিয়োগের ক্ষেত্রে লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষার আয়োজন বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। এছাড়া, নিয়োগের পর শিক্ষাগত ও পেশাগত সনদের যাচাই এবং যদি জাল সনদ শনাক্ত হয়, তাহলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বিরুদ্ধে কঠোর প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) বাংলাদেশ ব্যাংকের ব্যাংকিং প্রবিধি ও নীতি বিভাগ (বিআরপিডি) এ সংক্রান্ত একটি প্রজ্ঞাপন জারি করে। নতুন নির্দেশনার উদ্দেশ্য হলো ব্যাংকিং খাতে শৃঙ্খলা, সুশাসন ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা এবং মেধার ভিত্তিতে নিয়োগ কার্যকর করা।
প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়েছে, যেসব এন্ট্রি পদে পূর্ব অভিজ্ঞতার প্রয়োজন নেই, যেমন- ম্যানেজমেন্ট ট্রেইনি অফিসার, সিনিয়র অফিসার, প্রবেশনারি অফিসার, ট্রেইনি অ্যাসিস্ট্যান্ট অফিসার, জুনিয়র অফিসার ও ক্যাশ অফিসার—এসব পদে নিয়োগের জন্য প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষা আয়োজন করতে হবে।নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি ব্যাংকের নিজস্ব ওয়েবসাইট এবং চাকরির ওয়েবসাইটের পাশাপাশি দেশের অন্তত দুটি জাতীয় দৈনিকে প্রকাশ করতে হবে।
সশরীরে উপস্থিতি অথবা অনলাইনে নৈর্ব্যক্তিক কিংবা লিখিত পরীক্ষার পর অবশ্যই মৌখিক পরীক্ষা গ্রহণ করতে হবে। পরীক্ষার ফলাফলের ভিত্তিতে যোগ্য ও মেধাবী প্রার্থীদের নির্বাচন করতে হবে।এন্ট্রি পদ ছাড়া অভিজ্ঞ প্রার্থীদের উচ্চতর পদে সরাসরি নিয়োগের জন্যও অন্তত মৌখিক পরীক্ষাসহ প্রতিযোগিতামূলক নিয়োগ পদ্ধতি অনুসরণ করতে হবে।
নতুন কর্মকর্তা-কর্মচারীরা ব্যাংকে যোগদানের এক বছরের মধ্যে তাদের সর্বশেষ শিক্ষাগত যোগ্যতার সনদ সংশ্লিষ্ট শিক্ষা বোর্ড, বিশ্ববিদ্যালয় বা প্রতিষ্ঠান থেকে যাচাই করাতে হবে।
বর্তমানে কর্মরত ব্যাংকারদের শিক্ষাগত সনদের সত্যতা আগামী ৩১ মার্চ ২০২৭-এর মধ্যে যাচাই সম্পন্ন করতে হবে। চাকরিতে পদোন্নতি অথবা আর্থিক ও অন্যান্য সুবিধা পাওয়ার জন্য জমা দেওয়া পেশাগত বা নতুন শিক্ষাগত সনদও সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান থেকে যাচাই করে কর্মীর ব্যক্তিগত নথিতে সংরক্ষণ করতে হবে। পরামর্শক বা উপদেষ্টা ছাড়া চুক্তিভিত্তিক কর্মকর্তা নিয়োগের ক্ষেত্রেও একই নিয়ম প্রযোজ্য হবে।
অন্য ব্যাংক বা প্রতিষ্ঠান থেকে উচ্চতর পদে যোগদান করা কোনো ব্যাংকারের সনদ পূর্বের প্রতিষ্ঠানে যাচাই করা থাকলে এবং তার প্রত্যয়নপত্র থাকলে—নতুন ব্যাংককে আবার শিক্ষা বোর্ড বা বিশ্ববিদ্যালয়ে সনদ যাচাইয়ের জন্য পাঠাতে হবে না। তবে কর্মীকে অব্যাহতি দেওয়ার সময় দেওয়া ছাড়পত্রে কোন কোন সনদ যাচাই করা হয়েছে, তা স্পষ্টভাবে উল্লেখ করতে হবে।
নিয়োগের সময় অথবা চাকরিরত অবস্থায় যদি কোনো কর্মকর্তা-কর্মচারীর শিক্ষাগত সনদ ভুয়া বা জাল প্রমাণিত হয়, তাহলে তার বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক কঠোর প্রশাসনিক ব্যবস্থা নিতে ব্যাংকগুলোকে নির্দেশ দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক।
এছাড়া, প্রতিটি ব্যাংককে আগামী ৩১ মার্চের মধ্যে পরিচালনা পর্ষদের অনুমোদন নিয়ে একটি যুগোপযোগী ও সমন্বিত মানবসম্পদ ব্যবস্থাপনা নীতিমালা প্রণয়ন বা হালনাগাদ করতে বলা হয়েছে।
নীতিমালায় নিয়োগ ও পদোন্নতি, ছুটি, আচরণবিধি, যৌন হয়রানি প্রতিরোধ, হুইসেলব্লোয়ার নীতি, স্বার্থের সংঘাত নিরসনসহ মোট ১৮টি নির্দিষ্ট বিষয় অন্তর্ভুক্ত করতে হবে।
বাংলাদেশ ব্যাংক জানাচ্ছে, এসব নির্দেশনার মাধ্যমে ব্যাংকের মানবসম্পদ ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি বাড়ানোর পাশাপাশি আমানতকারীদের স্বার্থ সুরক্ষা এবং ব্যাংকিং খাতে স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করা হবে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন