প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের ৬৮ নম্বর ওয়ার্ডের স্টাফ কোয়ার্টার এলাকায় নির্ধারিত ২৫ জন পরিচ্ছন্নতাকর্মীর পরিবর্তে মাত্র ৭ জন কর্মী দিয়ে কাজ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ রয়েছে, বাকি ১৭ জনের নামে নিয়মিত বেতন উত্তোলন করা হচ্ছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, স্টাফ কোয়ার্টার এলাকায় নিয়ম অনুযায়ী ২৫ জন পরিচ্ছন্নতাকর্মী কাজ করার কথা। প্রত্যেক কর্মীর মাসিক বেতন প্রায় ২৪ হাজার টাকা। কিন্তু বাস্তবে সেখানে মাত্র ৭ জন কর্মী দিয়ে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার কাজ করানো হচ্ছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
অভিযোগ অনুযায়ী, ২৫ জনের স্থলে ৭ জন কর্মী কাজ করলেও বাকি ১৭ জনের নামে বেতন উত্তোলন করা হচ্ছে। অভিযোগে এ অর্থ উত্তোলনের সঙ্গে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের ৬৮ নম্বর ওয়ার্ডের অফিসার মো. রেজাউল এবং তাঁর সহযোগী সরদার মোহাম্মদ জহির উদ্দিনের সম্পৃক্ততার কথা বলা হয়েছে।
প্রত্যেক কর্মীর মাসিক বেতন ২৪ হাজার টাকা হিসেবে ১৭ জনের বেতন বাবদ প্রতি মাসে প্রায় ৪ লাখ ৮ হাজার টাকা উত্তোলনের অভিযোগ রয়েছে। সে হিসাবে বছরে এর পরিমাণ দাঁড়ায় প্রায় ৪৮ লাখ ৯৬ হাজার টাকা।
মুখ খুলতে ভয় কর্মীদের
অভিযোগ রয়েছে, এ বিষয়ে অনেকেই মুখ খুলতে সাহস পাচ্ছেন না। সংশ্লিষ্টদের দাবি, অনিয়মের বিষয়ে কথা বললে চাকরি হারানোর হুমকি দেওয়া হয়। ফলে অনেক কর্মী বিষয়টি নিয়ে প্রকাশ্যে কথা বলতে ভয় পাচ্ছেন।
তবে এসব অভিযোগের সত্যতা যাচাই করতে সংশ্লিষ্ট কর্মীদের হাজিরা খাতা, বেতন বিল, কর্মীদের তালিকা এবং অন্যান্য সরকারি নথি পরীক্ষা করা প্রয়োজন।
অভিযোগ অস্বীকার রেজাউলের
অভিযোগের বিষয়ে ৬৮ নম্বর ওয়ার্ডের অফিসার মো. রেজাউলের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, “আমাদের লোক ঠিকই আছে।” তবে ২৫ জনের পরিবর্তে ৭ জন কর্মী দিয়ে কাজ করানোর অভিযোগ এবং বাকি ১৭ জনের বেতন উত্তোলনের বিষয়ে তিনি বিস্তারিত কোনো তথ্য দিতে রাজি হননি বলে অভিযোগ রয়েছে।
এদিকে, মো. রেজাউলের বিরুদ্ধে সরকারি অর্থের অনিয়মের পাশাপাশি ঢাকায় একাধিক ফ্ল্যাটসহ নামে-বেনামে সম্পদ গড়ে তোলার অভিযোগও উঠেছে। তবে এসব সম্পদের বিষয়ে সুনির্দিষ্ট নথি ও তথ্য যাচাই করা সম্ভব না হওয়া পর্যন্ত অভিযোগগুলোকে নিশ্চিত তথ্য হিসেবে বিবেচনা করা যাচ্ছে না।
ধারাবাহিক প্রতিবেদনে আরও তথ্য
২৫ জনের স্থলে মাত্র ৭ জন পরিচ্ছন্নতাকর্মী দিয়ে কাজ করানো হচ্ছে কি না, বাকি ১৭ জনের নামে বেতন উত্তোলন করা হয়েছে কি না এবং উত্তোলন করা অর্থ কোথায় যাচ্ছে—এসব প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে সংশ্লিষ্ট নথিপত্র যাচাই করা জরুরি।
এ বিষয়ে হাজিরা রেজিস্টার, বেতন বিল, কর্মীদের তালিকা ও সংশ্লিষ্ট সরকারি নথি যাচাই করে ধারাবাহিক প্রতিবেদনে আরও তথ্য তুলে ধরা হবে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন