প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
গাজীপুরের শ্রীপুরে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব সাফারি পার্কে ময়লা-আবর্জনা পরিষ্কার করার বিষয়কে কেন্দ্র করে পার্কের কর্মী ও দর্শনার্থীদের মধ্যে মারামারির ঘটনা ঘটেছে। এই ঘটনায় নারীসহ চার দর্শনার্থী এবং দুই কর্মচারী আহত হয়েছেন। ঘটনার পর পার্কের আউটসোর্সিং কর্মী মো. ফরহাদকে বরখাস্ত করা হয়েছে।
শনিবার (২৯ আগস্ট) দুপুরে পার্কের কোর সাফারি এলাকায় এই মারামারির ঘটনা ঘটে। আহত দর্শনার্থীদের মধ্যে রয়েছেন রাজধানীর বারিধারা নতুন বাজার এলাকার সালমা হোসেন (৪৪), তার দুই ছেলে আহনাফ মাহিন (১৭) ও জারিফ (১৫) এবং তাঁদের গাড়িচালক মো. রাসেল (২৫)। এছাড়া পার্কের আউটসোর্সিং কর্মচারী মোমিন ও মাসুদ রানা আহত হয়েছেন।
ভুক্তভোগী সালমা হোসেন অভিযোগ করেন, শনিবার দুপুরে তিনি দুই ছেলে আহনাফ ও জারিফকে নিয়ে সাফারি পার্কে যান। কোর সাফারির দর্শনার্থীদের ব্যবহৃত বাসের ভেতরে ময়লা-আবর্জনা থাকায় তিনি তা পরিষ্কার করতে বলেন। এ সময় পার্কের কর্মীরা তাঁদের অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেন এবং সঙ্গে থাকা স্টিলের রড দিয়ে তাঁর দুই ছেলেকে মারধর করেন।
এছাড়া সালমা হোসেন আরও অভিযোগ করেন যে, এ সময় তাঁর প্রায় তিন ভরি ওজনের স্বর্ণের চেইন ও মোবাইল ফোন ভাঙচুর করা হয় এবং নগদ ৮০ হাজার টাকা খোয়া যায়।
পার্ক কর্তৃপক্ষের বক্তব্য হলো, ময়লা-আবর্জনা নিয়ে প্রথমে এক কর্মচারীর সঙ্গে দর্শনার্থীদের মধ্যে বাগ্বিতণ্ডা হয়। একপর্যায়ে দর্শনার্থীদের একজন ওই কর্মচারীকে মারধর করেন। পরে বিষয়টি মীমাংসার জন্য তাঁদের পার্ক অফিসে নিয়ে বসতে চাইলে তাঁরা আবারও উত্তেজিত হয়ে হামলা চালান। এতে পার্কের দুই কর্মচারী আহত হন।
গাজীপুর সাফারি পার্কের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. তারেক রহমান বলেন, দর্শনার্থী বাসে ময়লা থাকাকে কেন্দ্র করে এক কর্মচারীর সঙ্গে বাগ্বিতণ্ডার সৃষ্টি হয়। পরে এক দর্শনার্থী ওই কর্মচারীকে মারধর করেন। পরিদর্শন শেষে তাঁদের পার্ক অফিসে নিয়ে আলোচনা করতে চাইলে তাঁরা আবারও উত্তেজিত হয়ে হামলা করেন। এতে পার্কের দুই কর্মচারী আহত হয়েছেন এবং তাঁরা চিকিৎসা নিয়েছেন। যদিও আরও তিনজন আহত হলেও তাঁদের হাসপাতালে নেওয়ার মতো পরিস্থিতি হয়নি। তাঁদের স্থানীয় একটি ক্লিনিকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। এ ঘটনায় থানায় অভিযোগ করার প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।
অন্যদিকে, বন বিভাগের নির্ধারিত ইউনিফর্ম পরা অবস্থায় মো. মমিন নামে এক কর্মচারীকে ওই নারী ও তার সঙ্গে থাকা লোকজন মারধর করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। বন্যপ্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা এম. কে. এম. ইকবাল হোছাইন চৌধুরী বলেন, আমাদের মো. মুমিন নামের একজন স্টাফকে হামলা চালিয়ে আহত করা হয়েছে। তাঁকে শ্রীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। স্টাফকে আহত করার পর বাসে থাকা পর্যটকদের পার্ক অফিসে আনা হয় আলোচনা করার জন্য। এ সময় দুই পক্ষের মধ্যে হাতাহাতি হয়।
তিনি আরও বলেন, এ ঘটনায় বন বিভাগের আউটসোর্সিং স্টাফ মো. ফরহাদকে বরখাস্ত করা হয়েছে। শ্রীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহীনুর আলম বলেন, এ ঘটনায় তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন