প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
বিশ্বের বৃহত্তম গ্রিনহাউস গ্যাস নিঃসরণকারী দেশ চীনকে দক্ষিণ এশিয়ার জলবায়ু ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোর কাছে আরো বেশি জবাবদিহি করতে হবে। বিশেষ করে হিমালয় অঞ্চলের হিমবাহ গলে সৃষ্ট বন্যার ঝুঁকি মোকাবেলায় নেপাল ও ভারতের সঙ্গে তাৎক্ষণিক যোগাযোগ, আগাম সতর্কীকরণ ব্যবস্থা গড়ে তোলা এবং জলবায়ু অর্থায়নে কার্যকর ভূমিকা রাখার আহ্বান জানানো হয়েছে। এ আহ্বানটি দ্য ডিপ্লোম্যাটের এক বিশ্লেষণে উঠে এসেছে।
প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, বিশ্বে মোট গ্রিনহাউস গ্যাস নিঃসরণের প্রায় ৩৩ শতাংশই চীনের। দেশটি প্রতি বছর প্রায় ১৩ দশমিক ১ বিলিয়ন টন গ্রিনহাউস গ্যাস নিঃসরণ করে। নিঃসরণের দিক থেকে এশিয়ায় চীন শীর্ষ অবস্থানে রয়েছে, যেখানে দ্বিতীয় অবস্থানে থাকা ভারতের নিঃসরণের পরিমাণ প্রায় ৩ দশমিক ১৫ বিলিয়ন টন।
চীন কেবল বিপুল পরিমাণ কার্বন নিঃসরণের জন্যই নয়, বরং দক্ষিণ এশিয়ার অভিন্ন পরিবেশব্যবস্থার উজানে অবস্থান এবং জলবায়ু প্রযুক্তিতে সক্ষমতার কারণে এ অঞ্চলের কাছে দায়বদ্ধ। দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলো ঐতিহাসিকভাবে জলবায়ু পরিবর্তনে কম ভূমিকা রেখেও তাপপ্রবাহ, বন্যা ও সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধির মতো ঝুঁকির সম্মুখীন রয়েছে।
২০২৬ সালের আগস্টে নেপালে আন্তসীমান্ত হিমবাহ হ্রদ থেকে সৃষ্ট বন্যায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির ঘটনা তুলে ধরে প্রতিবেদনে বলা হয়, চীনের ভূখণ্ডে থাকা প্রায় ২৫টি হিমবাহ হ্রদ নেপাল ও আশপাশের অঞ্চলের জন্য ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। এর আগে ২০২৫ সালের জুলাইয়ে চীনের গিরং কাউন্টি থেকে শুরু হওয়া বন্যায় নেপালে প্রাণহানি ও ক্ষয়ক্ষতি হয়েছিল।
বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, এসব ঘটনায় ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে উজানে, কিন্তু প্রাণহানি ও ক্ষয়ক্ষতির শিকার হচ্ছে ভাটির দেশগুলো। এই কারণে নদীর পানিপ্রবাহসংক্রান্ত তাৎক্ষণিক যোগাযোগ, হিমবাহ পর্যবেক্ষণ এবং যৌথ আগাম সতর্কীকরণ ব্যবস্থা গড়ে তোলা চীনের দায়িত্বের অংশ হওয়া উচিত। তবে এ ধরনের স্বচ্ছ জলবায়ু সহযোগিতায় চীনের অনীহা ভারতের বন্যা ও পানিসংকটের ঝুঁকি বাড়াচ্ছে বলেও বিশ্লেষণে উল্লেখ করা হয়েছে।
চীন নিজেকে বৈশ্বিক দক্ষিণের দেশগুলোর জলবায়ু নেতৃত্বের দাবিদার হিসেবে তুলে ধরলেও জলবায়ু অর্থায়নে তার ভূমিকা আরো জোরালো হওয়া প্রয়োজন। ২০১৩ থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত দেশটি উন্নয়নশীল দেশগুলোর জলবায়ু কার্যক্রমে প্রায় ৪৫ বিলিয়ন ডলার সহায়তা দিয়েছে। তবে জাতিসংঘের জলবায়ু কাঠামো সনদের অধীনে উন্নয়নশীল দেশ হিসেবে চীনের জলবায়ু অর্থায়নে বাধ্যতামূলক কোনো দায়িত্ব নেই। ফলে দেশটির সহায়তা স্বেচ্ছামূলক।
বিশ্লেষণে চীনের জ্বালানি নীতিরও সমালোচনা করা হয়েছে। দেশটি নবায়নযোগ্য বিদ্যুৎ উৎপাদনে বিশ্বের শীর্ষে থাকলেও কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদন সম্প্রসারণ অব্যাহত রেখেছে। ২০২৫ সালে চীন নতুন করে ৭৮ গিগাওয়াট কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা যুক্ত করেছে, যা কয়েক বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ। ফলে নবায়নযোগ্য জ্বালানির অগ্রগতি সত্ত্বেও জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর নির্ভরতা কমছে না।
কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের উৎপাদিত বিদ্যুৎ কেনার নিশ্চয়তা দেওয়ার ফলে এসব কেন্দ্রের কার্যক্রম ও কার্বন নিঃসরণ অব্যাহত থাকছে। এর অর্থনৈতিক সুবিধা চীন পেলেও বাড়তি নিঃসরণের জলবায়ুগত ঝুঁকি বহন করতে হচ্ছে নেপাল, ভুটান ও বাংলাদেশের মতো প্রতিবেশী দেশগুলোকে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবেলায় পশ্চিমা দেশগুলোর ঐতিহাসিক দায় আরো বেশি হলেও ভৌগোলিক অবস্থান ও সক্ষমতার কারণে চীনের দায়িত্বও উপেক্ষা করার সুযোগ নেই। এ ক্ষেত্রে নেপাল ও ভারতের সঙ্গে তাৎক্ষণিক পরিবেশগত তথ্য বিনিময়, আগাম সতর্কীকরণ অবকাঠামো নির্মাণে অর্থায়ন এবং দক্ষিণ-দক্ষিণ জলবায়ু অর্থায়নে সুনির্দিষ্ট অঙ্গীকার জরুরি।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন