প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
হবিগঞ্জের মাধবপুরে গেজেটেড বীরাঙ্গনা মাজেদা বেগম ও তাঁর যুদ্ধশিশু মেয়ে শামসুন্নাহারের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি ও হামলার অভিযোগে আদালতে মামলা হয়েছে। মামলার পর থেকে নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন এবং বাড়িতে ফিরতে সাহস পাচ্ছেন না বলে দাবি করেছেন মা-মেয়ে। বর্তমানে তাঁরা উপজেলার চৌমুহনী ইউনিয়নের একটি গ্রামে আশ্রয় নিয়েছেন বলে জানা গেছে। তাঁদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে একটি পক্ষের নির্যাতন ও হয়রানির শিকার হচ্ছেন তাঁরা। এ নিয়ে বিভিন্ন দপ্তরে অভিযোগ দিয়েও প্রতিকার পাননি বলে দাবি তাঁদের।
মাজেদা বেগম ও তাঁর মেয়ে শামসুন্নাহারের বাড়ি উপজেলার আদাঐর ইউনিয়নের সুলতানপুর গ্রামে। মামলার বাদী আনোয়ার হোসেন আমির। মামলা নম্বর সিআর ৭৯৩/২৬। গত ১৪ অক্টোবর হবিগঞ্জের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলাটি দায়ের করা হয়। এতে মাজেদা বেগমের ছেলে কামরুল মিয়াকে ১ নম্বর, মাজেদা বেগমকে ২ নম্বর এবং শামসুন্নাহারকে ৩ নম্বর আসামি করা হয়েছে।
এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত ৫ সেপ্টেম্বর আসামিরা বাদীর বাড়িতে ভাঙচুর ও হুমকি দিয়েছেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে। এ সময় প্রথম আসামি দুই লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন এবং টাকা না দিলে তাঁদের বসবাস করতে দেওয়া হবে না বলে হুমকি দেন বলে এজাহারে উল্লেখ রয়েছে। তবে এসব অভিযোগ এখনো আদালতে প্রমাণিত হয়নি।
মামলাটির তদন্তের দায়িত্ব পেয়েছেন মাধবপুর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. ফারুক মিয়া। গত ২৮ অক্টোবর তদন্তের অংশ হিসেবে পুলিশ আসামিদের খোঁজখবর নিতে গেলে বিষয়টি জানতে পারেন মাজেদা বেগম ও শামসুন্নাহার। এরপর থেকে তাঁরা আরও আতঙ্কের মধ্যে রয়েছেন বলে জানান।
মা-মেয়ের দাবি, জমি নিয়ে বিরোধের জেরে দীর্ঘদিন ধরে তাঁরা নানা সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছেন। এর আগে বিরোধ দেখা দিলে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মেহেদী হাসান ও মুক্তিযোদ্ধা সন্তান কমান্ডের নেতাদের উদ্যোগে বিষয়টি সমাধানের চেষ্টা করা হয়েছিল। কিন্তু বর্তমানে মামলা ও পুলিশি তদন্তের খবর পেয়ে তাঁরা বাড়িতে ফিরতে সাহস পাচ্ছেন না।
মামলার বাদী আনোয়ার হোসেন বলেন, “আমরা ন্যায়বিচারের জন্য আদালতে মামলা করেছি। তারা কিছু হলেই পুলিশ ও সাংবাদিকদের দিয়ে মানুষকে হয়রানি করে। আমরা চাই, মামলাটি সঠিকভাবে তদন্ত করে বিচার করা হোক।”
অন্যদিকে, মামলার আসামি বীরাঙ্গনা মাজেদা বেগম ও তাঁর মেয়ে শামসুন্নাহার বলেন, “দীর্ঘদিন ধরে বসবাস করে আসা জমি থেকে আমাদের বাড়িছাড়া করা হয়েছে। এ নিয়ে আমরাও আদালতে মামলা করেছি। এখন শুনেছি, আমাদের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির অভিযোগে পুলিশ বাড়িতে গেছে। আমরা ভয়ে বাড়িতে ফিরতে পারছি না।”
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই ফারুক মিয়া বলেন, “আমরা তদন্ত শুরু করেছি। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হবে। মামলাটি থানায় দায়ের করা হয়নি, আদালত থেকে তদন্তের জন্য এসেছে।”
মাধবপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সোহেল রানা বলেন, “মামলাটি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করে আদালতে প্রতিবেদন দেওয়া হবে। একজন অভিজ্ঞ কর্মকর্তাকে তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।”
মাধবপুর উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা ইদ্রিস আলী বলেন, “বিষয়টি দুঃখজনক। এটি তাঁদের পারিবারিক বিরোধ কি না, তা খোঁজখবর নিয়ে দেখব। তাঁদের সহযোগিতায় আমাদের পক্ষ থেকে সর্বোচ্চ চেষ্টা থাকবে।”
মুক্তিযোদ্ধা সন্তান কমান্ডের সভাপতি ও বিএনপি নেতা মাহবুবুর রহমান সোহাগ বলেন, “এভাবে চলতে পারে না। স্বাধীন দেশে তাঁরা যেন নির্ভয়ে চলাফেরা করতে পারেন, সেই ব্যবস্থা করব।”
এদিকে, দীর্ঘদিন ধরে চরম অর্থকষ্টে দিন কাটছে বীরাঙ্গনা মাজেদা বেগম ও তাঁর মেয়ের। যুদ্ধশিশু হিসেবে শামসুন্নাহারকে নানা সামাজিক প্রতিকূলতা ও অবহেলার মুখোমুখি হতে হচ্ছে বলে তাঁদের দাবি। কখনো বিভিন্ন বাড়িতে আশ্রয় নিয়ে দিন কাটাতে হয়েছে তাঁদের। শামসুন্নাহার গলার দুরারোগ্য ব্যাধিতে আক্রান্ত। চিকিৎসার সহায়তা চেয়ে বিভিন্ন দপ্তরে আবেদন করেও প্রত্যাশিত সহযোগিতা পাননি বলে জানান তাঁরা। তাঁদের ভাষ্য, সম্প্রতি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে এক বস্তা চাল ছাড়া উল্লেখযোগ্য কোনো সরকারি সহায়তা পাননি।
মামলাটির সুষ্ঠু তদন্ত, জমি নিয়ে বিরোধের প্রকৃত অবস্থা নিরূপণ এবং মা-মেয়ের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন