প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সম্পর্কের পেছনে একটি উত্তপ্ত ঘটনার নতুন তথ্য প্রকাশ পেয়েছে সদ্য প্রকাশিত একটি বইয়ে। বইটি দাবি করেছে, গাজা যুদ্ধ চলাকালে শান্তি পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনার এক পর্যায়ে ট্রাম্প নেতানিয়াহুকে উদ্দেশ্য করে বলেন, ‘সব ইহুদিই তোমার ওপর বিরক্ত।’ বইটির প্রকাশের পর থেকে যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন বিতর্ক শুরু হয়েছে।
ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য টেলিগ্রাফের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ‘রেজিম চেঞ্জ’ শীর্ষক বইটি নিউইয়র্ক টাইমসের দুই সাংবাদিকের লেখা এবং এতে ট্রাম্পের জামাতা জ্যারেড কুশনার, যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যপ্রাচ্যবিষয়ক দূত স্টিভ উইটকফ এবং নেতানিয়াহুর মধ্যে এক টেলিফোন আলাপের সময় ট্রাম্পের ওই মন্তব্য উঠে আসে।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, আলোচনার সময় ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে ট্রাম্প ঘোষিত ২০ দফা গাজা শান্তি পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা হচ্ছিল। এই পরিকল্পনা প্রায় দুই বছর ধরে চলা ইসরায়েল-হামাস যুদ্ধের পর সামনে আনা হয়েছিল।
মঙ্গলবার প্রকাশিত বইটিতে উল্লেখ করা হয়েছে, কাতারের রাজধানী দোহায় হামাসের একটি লক্ষ্যবস্তুতে ইসরায়েলের বিমান হামলার পর জ্যারেড কুশনার ক্রমশ ক্ষুব্ধ হয়ে উঠেছিলেন। ওই হামলায় কাতারের নিরাপত্তা বাহিনীর এক সদস্য নিহত হন, যা আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ব্যাপক সমালোচনার সৃষ্টি করে।
বইটির ভাষ্য অনুযায়ী, এক পর্যায়ে কুশনার তার এক ঘনিষ্ঠ সহযোগীকে বলেন, ‘আমি আর থাকছি না। ইসরায়েলিরা পাগল হয়ে গেছে।’ তবে পরে তিনি পরিস্থিতিকে ইসরায়েলের ওপর চাপ প্রয়োগের সুযোগ হিসেবে দেখেন, যার ফলে গাজায় যুদ্ধ বন্ধ করা সম্ভব হবে। এরপর কুশনার একটি শান্তি পরিকল্পনার খসড়া প্রস্তুত করেন এবং ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের ফাঁকে কাতারের প্রধানমন্ত্রী শেখ মোহাম্মদ বিন আবদুর রহমান আল থানির সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করেন। পরে ট্রাম্প সেই পরিকল্পনা নেতানিয়াহুর কাছে উপস্থাপন করেন।
বইতে দাবি করা হয়েছে, ফোনালাপের সময় ট্রাম্প নেতানিয়াহুকে বলেন, ‘সবাই তোমার ওপর বিরক্ত, বিবি। সব ইহুদিই তোমার ওপর বিরক্ত। এই ফোনালাপে থাকা দুই ইহুদিও তোমার ওপর বিরক্ত।’ এখানে তিনি সম্ভবত জ্যারেড কুশনার ও স্টিভ উইটকফের কথা উল্লেখ করেছেন, কারণ তারা উভয়েই ওই আলোচনায় উপস্থিত ছিলেন এবং ইহুদি।
বইয়ের বর্ণনা অনুযায়ী, ট্রাম্প আরও বলেন, ‘তুমি এখন আর পিছু হটতে পারবে না। ইসরায়েলের সবচেয়ে ভালো বন্ধু আমি। সবাই তোমাকে ঘৃণা করে, কিন্তু আমি তোমার পাশে থেকেছি। এটি ইসরায়েলের জন্য দারুণ একটি চুক্তি।’
ফোনালাপের দুই দিন পর, ২০২৫ সালের ২৯ সেপ্টেম্বর হোয়াইট হাউসে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে ট্রাম্প এবং নেতানিয়াহু মিলিতভাবে ওই শান্তি পরিকল্পনার ঘোষণা করেন। পরে নভেম্বরে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদও পরিকল্পনাটিকে সমর্থন দেয়।
‘রেজিম চেঞ্জ’ বইয়ে বর্ণিত একাধিক উত্তপ্ত ঘটনার মধ্যে এটি একটি। দ্য নিউইয়র্ক টাইমসের সাংবাদিক ম্যাগি হ্যাবারম্যান এবং জনাথন সোয়ানের লেখা বইটিতে ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদের বিভিন্ন ঘটনার বিবরণ তুলে ধরা হয়েছে, যা যুক্তরাষ্ট্রে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
বইটি ট্রাম্প প্রশাসনের শীর্ষ কর্মকর্তাদের বহু সংবেদনশীল আলোচনা স্থান পেয়েছে। বিশেষ করে এপস্টেইন ফাইল এবং ইরান যুদ্ধ-পরবর্তী পরিস্থিতির মোকাবিলায় অভ্যন্তরীণ আলোচনার বিষয়ও এতে উঠে এসেছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বইটির কিছু অংশ সাম্প্রতিক মাসগুলোতে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত হওয়ার পর হোয়াইট হাউসের পরিস্থিতি কক্ষে কথোপকথনের তথ্য ফাঁস হওয়ার উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন কয়েকজন কর্মকর্তা।
বইতে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, ফেব্রুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্রের ইরানে হামলার আগে ট্রাম্প ও নেতানিয়াহুর মধ্যে প্রশ্নোত্তর এক দফা আলোচনা হয়েছিল। সেখানে নেতানিয়াহু ট্রাম্পকে বলেছিলেন, ইরানে সরকার পরিবর্তনের জন্য উপযুক্ত সময় এসেছে। তবে পরবর্তী এক বৈঠকে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও নাকি নেতানিয়াহুর ওই মূল্যায়নকে ‘সম্পূর্ণ বাজে কথা’ বলে মন্তব্য করেছিলেন বলেও উল্লেখ রয়েছে বইটিতে। এসব ঘটনার বিস্তারিত বিবরণ প্রকাশ পাওয়ায় ট্রাম্প ‘ভীষণ ক্ষুব্ধ’ হয়েছেন।
সূত্র : দ্য টেলিগ্রাফ।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন