প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তর মাঠপর্যায়ে পরিবার পরিকল্পনা, মা ও শিশু স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রমে গতি আনতে ২৩টি কর্মসূচি গ্রহণ করছে।
এই কর্মসূচিগুলি আগামী নভেম্বর থেকে ২০২৭ সালের অক্টোবর পর্যন্ত জাতীয় থেকে ইউনিয়ন পর্যায়ে বাস্তবায়নের পরিকল্পনা করা হয়েছে। তরুণ-কিশোর-কিশোরী, নবদম্পতি ও পুরুষদের পাশাপাশি গর্ভবতী ও প্রসূতি মা, বস্তিবাসী, ভাসমান এবং বিভিন্ন অনগ্রসর জনগোষ্ঠীকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হবে।
বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরে অনুষ্ঠিত ‘মাঠপর্যায়ের কার্যক্রমের গতিশীলতা আনয়নের লক্ষ্যে পরিবার পরিকল্পনা, মা ও শিশু স্বাস্থ্য সেবা প্রচার-প্রচারণা ও ক্যাম্পেইন বাস্তবায়ন কর্মপরিকল্পনা’ শীর্ষক সেমিনারে এক বছরের এই কর্মপরিকল্পনা উপস্থাপন করা হয়েছে।
নবদম্পতি ও পুরুষদের জন্য পরিবার পরিকল্পনায় নতুন কর্মপরিকল্পনা অনুযায়ী, হাট ক্যাম্পেইন, র্যালি ও সমন্বয় সভা বাদে বিভিন্ন সচেতনতামূলক কার্যক্রমের মাধ্যমে এক বছরে প্রায় ২৭ লাখ ৩০ হাজার মানুষকে সম্পৃক্ত করার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে। নভেম্বর মাসে মহিলা সংসদ সদস্যদের নিয়ে জাতীয় পর্যায়ে ওরিয়েন্টেশনের পাশাপাশি ৬৪ জেলা ও ৫০৩ উপজেলায় প্রচার কার্যক্রম পরিচালিত হবে। ডিসেম্বর মাসে ইউনিয়ন পর্যায়ে হাট ক্যাম্পেইন এবং উপজেলা পর্যায়ে আন্তঃমন্ত্রণালয় ও বিভিন্ন দপ্তরের সমন্বয় সভা অনুষ্ঠিত হবে।
পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক (অতিরিক্ত সচিব) ডা. জিন্নাত রেহানা বলেন, ২০২২ সালে দেশে জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার ২ দশমিক ১৫ শতাংশে নেমে এলেও ২০২৫ সালে তা বেড়ে ২ দশমিক ৪ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার কমে গেলে তা আবার হঠাৎ বেড়ে যাওয়া উদ্বেগের বিষয়। গত দুই বছর আগে আমাদের যে অপারেশনাল পরিকল্পনা ছিল, সেটি বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর মাঠপর্যায়ে প্রয়োজনীয় কার্যক্রম যথাযথভাবে পরিচালনা করা সম্ভব হয়নি। এটি এখন একটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। প্রচার-প্রচারণা ও জনসম্পৃক্ততা বাড়িয়ে এ পরিস্থিতি মোকাবিলা করতে হবে।
তিনি আরও বলেন, পরিবার পরিকল্পনার পাশাপাশি বাল্যবিয়ে, অনাকাঙ্ক্ষিত গর্ভধারণ, মাতৃ ও শিশুমৃত্যু কমানো এবং কিশোর-কিশোরীদের প্রজননস্বাস্থ্য বিষয়ে সচেতনতা তৈরিতে অধিদপ্তর কাজ করছে। জনগণের কাছে সঠিক তথ্য ও সেবা পৌঁছে দিতে ডিজিটাল মাধ্যম, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও গণমাধ্যমকে আরও কার্যকরভাবে ব্যবহার করতে হবে। বিশেষ করে দুর্গম ও সেবাবঞ্চিত এলাকার মানুষের কাছে সহজবোধ্য ভাষায় তথ্য ও সেবা পৌঁছে দেওয়া জরুরি।
মহাপরিচালক আরো বলেন, শুধু তথ্য পৌঁছে দিলেই হবে না, তা মানুষের বোধগম্য করে উপস্থাপন করতে হবে। এ ক্ষেত্রে গণমাধ্যম, গবেষক, চিকিৎসক ও সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞদের অভিজ্ঞতা ও উদ্ভাবনী ধারণা কাজে লাগানো হবে।
সেমিনারে প্রধান অতিথি ছিলেন স্বাস্থ্য শিক্ষা ও পরিবার কল্যাণ বিভাগের সচিব এ কে এম বেনজামিন রিয়াজী। সভাপতিত্ব করেন পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক (অতিরিক্ত সচিব) ডা. জিন্নাত রেহানা। সেমিনারে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের ডিন (ভারপ্রাপ্ত) এবং পপুলেশন সায়েন্সেস বিভাগের অধ্যাপক ও সাবেক চেয়ারম্যান প্রফেসর ড. মোহাম্মদ মঈনুল ইসলাম, একই বিভাগের অধ্যাপক প্রফেসর ড. আমিনুল হকসহ মন্ত্রণালয় ও অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা বক্তব্য দেন।
স্বাস্থ্য শিক্ষা ও পরিবার কল্যাণ বিভাগ, পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তর, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পপুলেশন সায়েন্সেস বিভাগ, বিভিন্ন সরকারি প্রতিষ্ঠান, গণমাধ্যম, এনজিও ও উন্নয়ন সহযোগী সংস্থার প্রায় ৫০ প্রতিনিধি সেমিনারে অংশ নেন।
অংশগ্রহণকারীদের পাঁচটি দলে ভাগ করে গ্রুপ ওয়ার্কও অনুষ্ঠিত হয়। এতে মাঠপর্যায়ে কর্মসূচি বাস্তবায়ন, অংশীজনদের সমন্বয়, প্রচার কৌশল এবং প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর কাছে সেবা ও তথ্য পৌঁছানোর বিষয়ে মতামত নেওয়া হয়। এসব সুপারিশ পর্যালোচনা করে কর্মপরিকল্পনাটি চূড়ান্ত করা হবে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন