প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
ভারতীয় নৌবাহিনীর বহরে দুটি এমকিউ-৯বি সিগার্ডিয়ান ড্রোন যুক্ত করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
এই দুটি চালকবিহীন বিমান ভাড়ায় নেওয়া হয়েছে ৩০ মাসের জন্য। ভারতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় বলেছে, এই ড্রোনগুলো ভারতীয় নৌবাহিনীর দীর্ঘপাল্লার নজরদারি এবং গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহের সক্ষমতা বৃদ্ধি করবে।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম নির্মাতা প্রতিষ্ঠান জেনারেল অ্যাটমিকসের সঙ্গে চুক্তি করে ভারত। সোমবার নয়াদিল্লিতে চুক্তিটি সাইন করা হয়েছে। এর মূল্য প্রায় ১ হাজার ৯৪৩ কোটি রুপি। প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানায়, নতুন দুটি ড্রোন নিয়মিত নজরদারি ও অনুসন্ধানে ব্যবহার করা হবে ভারতীয় নৌবাহিনীর সামুদ্রিক এলাকায়।
ভারত মহাসাগরীয় অঞ্চলে বিভিন্ন পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ ও অবিলম্বে ব্যবস্থা নেওয়ার ক্ষমতায় এভাবে বৃদ্ধি ঘটবে।
এমকিউ-৯বি সিগার্ডিয়ান হচ্ছে একটি চালকবিহীন বিমান ব্যবস্থা। এটি দীর্ঘ সময়ে এবং উচ্চতায় উড়তে সক্ষম। গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ, নজরদারি, অনুসন্ধানের পাশাপাশি নির্ভুল হামলার জন্যও এই ড্রোন ব্যবহৃত হতে পারে।
ড্রোনটিতে রয়েছে উন্নত সেন্সর ও নানা আধুনিক প্রযুক্তি। এটি একটানা ৩০ ঘণ্টার বেশি সময় আকাশে থাকতে পারে এবং ৪০ হাজার ফুটের বেশি উচ্চতায় উড়তে পারে। দীর্ঘক্ষণ আকাশে থাকার কারণে এটি সমুদ্র ও স্থলভাগের বিস্তৃত এলাকা পর্যবেক্ষণ করতে সমর্থ। সামুদ্রিক টহল ও অনুসন্ধানের জন্য বিশেষ ব্যবস্থাও এতে রয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে সাবমেরিনবিরোধী যুদ্ধের সক্ষমতা।
ভারত এরই মধ্যে জেনারেল অ্যাটমিকসের কাছ থেকে ৩১টি এমকিউ-৯বি ড্রোন কেনার জন্য প্রায় ৩ বিলিয়ন ডলারের একটি চুক্তি করেছে। এই চুক্তি সাবেক প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের প্রশাসনের সময় হলেও এটি হয়। চুক্তি অনুযায়ী, ভারতীয় নৌবাহিনী পাবে ১৫টি এমকিউ-৯বি সিগার্ডিয়ান ড্রোন। ভারতীয় সেনাবাহিনী ও বিমানবাহিনী পাবে আটটি করে ড্রোন। সেনাবাহিনী ও বিমানবাহিনীর জন্য নির্ধারিত ড্রোনগুলোর স্থলভাগে হামলার ও নজরদারির সংস্করণকে স্কাইগার্ডিয়ান বলা হয়ে থাকে। এ ছাড়া জেনারেল অ্যাটমিকসের সাথে ভারত আরো একটি চুক্তি করেছে। এতে দেশের মধ্যে এই চালকবিহীন বিমান ব্যবস্থার রক্ষণাবেক্ষণ, মেরামত এবং বড় ধরনের সংস্কারের জন্য প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম ও সেবা প্রদান করা হবে।
ভারতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় বলেছে, নতুন দুটি ড্রোন ভাড়ায় নেওয়ার ফলে ভারতীয় নৌবাহিনীর সামুদ্রিক এলাকায় নজরদারির সক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়বে। মন্ত্রণালয়ের মতে, এই ড্রোনের মাধ্যমে সমুদ্রের বিশাল এলাকায় নিয়মিত গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ, নজরদারি ও অনুসন্ধান সম্পন্ন করা সম্ভব হবে। ফলে ভারত মহাসাগরীয় অঞ্চলে বিভিন্ন ধরনের গতিবিধি এবং পরিস্থিতি সম্পর্কে দ্রুত তথ্য পাওয়া যাবে। প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় আরও বলেছে, এসব তথ্যের উপর ভিত্তি করে পরিস্থিতির পরিবর্তন দ্রুত শনাক্ত করা সম্ভব হবে এবং যখন প্রয়োজন হবে তখন দ্রুত পদক্ষেপ নিতে সক্ষম হতে হবে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন