প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
ঝালকাঠি, ৩০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ : ঝালকাঠিতে আমড়ার হাট বাজার জমে উঠেছে। ভিমরুলীর ভাসমান হাটে বর্তমানে তাজা আমড়ার বিপুল সমারোহ দেখা যাচ্ছে। কৃষি বিভাগের মতে, অন্যান্য ফসলের তুলনায় লাভজনক হওয়ায় এই জেলায় আমড়ার চাষ দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে।
ঝালকাঠি জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক আবদুল্লাহ আল মামুন জানান, এই বছর ঝালকাঠি জেলার চার উপজেলার ৬০৫ হেক্টর জমিতে আমড়ার চাষ করা হয়েছে। উৎপাদন হয়েছে ৪ হাজার ৫শ’ ৯০ (৪৫৯০) মেট্রিক টন আমড়া। বর্তমানে এর বাজার মূল্য প্রায় ১২ কোটি টাকা। ২০২২-২৩ অর্থবছরে ৬০২ হেক্টর জমিতে আমড়ার চাষ করা হয়েছিল, যেখানে উৎপাদন হয়েছিল ৪ হাজার ৭০ (৪০৭০) মেট্রিক টন। দুই বছরের মধ্যে আমড়ার আবাদ বেড়েছে তিন হেক্টর জমিতে এবং উৎপাদন বেড়েছে ৫২০ মেট্রিক টন।
বরিশাল অঞ্চলের আমড়ার জন্য দেশব্যাপী বিপুল চাহিদা রয়েছে। সুস্বাদু এই ফলের অধিকাংশ চাহিদা পূরণ হচ্ছে ঝালকাঠি থেকে। জেলার বিভিন্ন হাটে প্রতিদিনই আমড়ার বেচাকেনা চলে। এর মধ্যে ভিমরুলী গ্রামের ভাসমান হাটটি সবচেয়ে বড়। এই হাট থেকে ঢাকাসহ সারাদেশে পুষ্টিকর এই ফল সরবরাহ করা হয়। চাহিদা ও লাভজনক হওয়ায় প্রতিবছর জেলায় আমড়ার আবাদ বাড়ছে। এই বছর আমড়ার ফলন ভালো হয়েছে। দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে আসা পাইকাররা ভিমরুলীর ভাসমান হাট থেকে ১ হাজার থেকে ১৬শ’ টাকা মণ দরে আমড়া কিনছেন।
আমড়া চাষী ও পাইকারদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, আমড়ার আকার ও রঙ অনুযায়ী দাম নির্ধারণ করা হয়। এজন্য প্রতি মণ আমড়া ১ হাজার থেকে ১৬’শ টাকা পর্যন্ত বিক্রি করা হয়।
আমড়া চাষী অনিমেষ হালদার জানান, তিনি ৬ বিঘা জমিতে আমড়ার চাষ করেছেন। মৌসুমি ফল হিসেবে এবছর আমড়ার বাম্পার ফলন হয়েছে। জমিতে থাকা প্রতিটি গাছ থেকে ৪ হাজার টাকার আমড়া পাওয়া যাবে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, সর্বমোট ৬ বিঘা জমি থেকে ৬ লাখ টাকা অর্জন হবে।
কির্ত্তিপাশা ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান ভবেন্দ্রনাথ হালদার বাসস’কে জানান, পেয়ারা চাষে বর্তমানে লাভ নেই। এবছর অনাবৃষ্টির কারণে পেয়ারা ফলন ভালো হয়নি। যা হয়েছে তাতে আবার অ্যানথ্রাক্স (কালো ছিট পড়া) রোগ দেখা দিয়েছে। পেয়ারা পাকতে শুরু করলে প্রতিদিন গাছ থেকে নামিয়ে বাজারে আনতে হয়। একজন শ্রমিকের খরচ ৭শ’ টাকা, কিন্তু পেয়ারা বিক্রি হয় ৪শ’ টাকায়। এরচেয়ে জমিতে আমড়ার চাষ করলে লাভ বেশি হয়। দু’জন শ্রমিক নিয়োগ করলে তারা ১০/১২টি গাছের আমড়া নামাতে পারে। প্রতিদিন আমড়া নামাতে হয় না, পরিপক্ক হলে একদিনেই সব নামানো সম্ভব। তাছাড়া একটি বাতাবী লেবু (জাম্বুরা) গাছ লাগালেও সেখান থেকে কমপক্ষে ২ হাজার টাকা বিক্রি করা সম্ভব।
স্বরূপকাঠির পাইকার নোমান খান বলেন, ‘ফলন মোটামুটি ভালো। আমরা এখানে চাষীদের থেকে আমড়া কিনে ঢাকায় চালান করি। প্রতিমণ আমড়াতে ২শ’ টাকা লাভ থাকে। এর মধ্যে শ্রমিক, পরিবহন, খাবার খরচ বাদে একশ’ টাকা লাভ হয়।’
ঝালকাঠি কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ পরিচালক কৃষিবিদ মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ আল মামুন বাসস’কে বলেন, ‘কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের সহায়তায় বিভিন্ন কার্যক্রমের মাধ্যমে এবং রোগবালাই ব্যবস্থাপনা বিষয়ে প্রশিক্ষণ ও পরামর্শ দেয়া হচ্ছে। উৎপাদন খরচ কম হওয়ায় এই জেলায় প্রতিবছরই আমড়ার আবাদ বাড়ছে। ফলে শিক্ষিত ও বেকার যুব সমাজের জন্য ব্যবসার সুযোগ সৃষ্টি হচ্ছে। বর্তমানে আমড়া একটি অর্থকরী ফসলে পরিণত হয়েছে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন