প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
ঢাকা জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ফরিদা খানম মন্তব্য করেছেন যে, পরিবেশ সংরক্ষণ ও জীববৈচিত্র্য রক্ষায় জনসচেতনতা তৈরিতে আলোকচিত্র একটি শক্তিশালী মাধ্যম হিসেবে কাজ করতে পারে। তিনি উল্লেখ করেছেন, "একটি আলোকচিত্র প্রকৃতির সৌন্দর্য যেমন তুলে ধরে, তেমনি পরিবেশদূষণের নির্মম বাস্তবতাও মানুষের সামনে স্পষ্টভাবে উপস্থাপন করতে পারে।" এই মাধ্যমে মানুষের চিন্তায় পরিবর্তন আনা এবং পরিবেশ রক্ষায় সামাজিক দায়বদ্ধতা জাগিয়ে তোলা সম্ভব।
বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) বিকেলে বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমিতে জাতীয় পরিবেশ বিষয়ক আলোকচিত্র প্রতিযোগিতা ও প্রদর্শনী ‘ওয়েভস অব লাইফ’-এর সমাপনী ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
অনুষ্ঠানে তিনটি বিভাগে মোট নয়জন বিজয়ী আলোকচিত্রীকে পুরস্কার প্রদান করা হয়। বিভাগগুলো হলো— সামুদ্রিক জীববৈচিত্র্য, জলজ জীবন-জীবিকা ও উপকূলীয় দূষণ এবং জ্বালানি ও পরিবেশ।
ফরিদা খানম বলেন, "বাংলাদেশ নদীমাতৃক ও সমুদ্রবেষ্টিত দেশ। বঙ্গোপসাগর, উপকূলীয় অঞ্চল, নদ-নদী ও জলাভূমি দেশের গুরুত্বপূর্ণ প্রাকৃতিক সম্পদ।" তিনি আরও বলেন, "এসব সম্পদ শুধু পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা করে না, বরং খাদ্যনিরাপত্তা, অর্থনীতি ও অসংখ্য মানুষের জীবন-জীবিকার সঙ্গেও নিবিড়ভাবে সম্পর্কিত।" তবে তিনি সতর্ক করেছেন যে, প্লাস্টিক ও বর্জ্যদূষণ, অপরিকল্পিত সম্পদ আহরণ এবং জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে এই প্রাকৃতিক প্রতিবেশ আজ নানা সংকটের মুখে।
তিনি উল্লেখ করেন, "পরিবেশ সংরক্ষণ শুধু সরকারের দায়িত্ব নয়; এটি রাষ্ট্র, সমাজ ও প্রতিটি নাগরিকের সম্মিলিত দায়িত্ব।" সংকট মোকাবেলায় সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং নাগরিকদের সক্রিয় অংশগ্রহণ জরুরি বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
আলোকচিত্রের গুরুত্ব তুলে ধরে জেলা প্রশাসক বলেন, "অনেক সময় দীর্ঘ বক্তব্য যে বার্তা মানুষের কাছে পৌঁছাতে পারে না, একটি ছবি তা মুহূর্তেই মানুষের হৃদয় ও বিবেককে নাড়া দিতে পারে।" তিনি বলেন, "পরিবেশবিষয়ক আলোকচিত্র প্রকৃতির সৌন্দর্য, জীববৈচিত্র্যের বৈশিষ্ট্য, মানুষের জীবনসংগ্রাম এবং দূষণের বাস্তব চিত্র তুলে ধরে জনমত গঠনে ভূমিকা রাখতে পারে।" তাই আলোকচিত্র ধারণ ও উপস্থাপনায় সত্যনিষ্ঠ, যথাযথ প্রেক্ষাপট ও পেশাগত নৈতিকতা বজায় রাখা জরুরি।
তরুণদের পরিবেশ সংরক্ষণে এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়ে ফরিদা খানম বলেন, "তরুণদের মেধা, সৃজনশীলতা ও প্রযুক্তিগত দক্ষতাকে পরিবেশ রক্ষার কাজে যুক্ত করতে হবে।" তিনি উল্লেখ করেন, "শুধু সমস্যার চিত্র তুলে ধরাই নয়, সমাধানের পথ খুঁজে বের করা এবং সেই বার্তা সমাজের সর্বস্তরে পৌঁছে দেওয়াও প্রয়োজন।" তরুণ আলোকচিত্রী, পরিবেশকর্মী ও গণমাধ্যম একসঙ্গে কাজ করলে পরিবেশ সংরক্ষণের উদ্যোগ আরো গতিশীল হবে।
ঢাকা জেলা প্রশাসনের কার্যক্রম প্রসঙ্গে তিনি বলেন, "পরিচ্ছন্নতা, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, সবুজায়ন ও পরিবেশবিষয়ক জনসচেতনতা বৃদ্ধিতে জেলা প্রশাসন গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছে।" তিনি বলেন, "প্লাস্টিকের ব্যবহার কমানো, যত্রতত্র বর্জ্য না ফেলা, নদী ও জলাশয় দূষণ রোধ এবং বৃক্ষরোপণের মতো উদ্যোগে প্রত্যেক নাগরিকের অংশগ্রহণ প্রয়োজন।"
অনুষ্ঠানে পুরস্কারপ্রাপ্ত আলোকচিত্রীদের অভিনন্দন জানিয়ে জেলা প্রশাসক বলেন, "এ ধরনের আয়োজন কেবল প্রতিযোগিতার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকা উচিত নয়; বরং পরিবেশ সংরক্ষণে সম্মিলিত অঙ্গীকার গড়ে তোলার উপলক্ষ হয়ে উঠতে হবে।"
তিনি আরও বলেন, "উন্নয়নের সঙ্গে পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা, নদী ও সমুদ্রের দূষণ রোধ এবং জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণের মাধ্যমে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি নিরাপদ ও বাসযোগ্য পৃথিবী নিশ্চিত করতে হবে।"
‘ওয়েভস অব লাইফ’ আলোকচিত্র প্রতিযোগিতা ও প্রদর্শনীর আয়োজন করে ওয়াটারকিপার্স বাংলাদেশ, ইয়ুথ ফর ওশান ও মিশন গ্রিন বাংলাদেশ।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন