প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
বরিশাল সদর উপজেলার ০৯ নম্বর টুংগীবাড়িয়া এবং ০৮ নম্বর চাঁদপুরা ইউনিয়নে একই পরিবারের দুই ভাইয়ের বিসিআইসি সার ডিলারশিপ লাভ করা নিয়ে স্থানীয় কৃষক, ব্যবসায়ী ও সচেতন মহলের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। রাজনৈতিক প্রভাব ও মিথ্যা তথ্য প্রদানের মাধ্যমে আইন ও নীতিমালা অমান্য করে এই নিয়োগ দেওয়া হয়েছে বলে গুরুতর অভিযোগ উঠে এসেছে।
অভিযোগে জানা যায়, বরিশাল সদর উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক বাবুল খন্দকারের ছোট দুই ভাই সিরাজ খন্দকার ও শাহ আলম খন্দকার পৃথক দুটি ইউনিয়নে সরকারি সার ডিলারশিপ লাভ করেছেন। প্রশাসনিক কড়াকড়ি ও সরকারি নীতিমালা বহাল থাকা সত্ত্বেও একই পরিবারের দুই সদস্য কীভাবে এই সুযোগ পেলেন এবং ডিলার নিয়োগে স্বজনপ্রীতি ও রাজনৈতিক পরিচয় ভূমিকা রেখেছে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
স্থানীয় একাধিক সূত্রে জানা গেছে, খন্দকার পরিবারের মূল বাড়ি ভোলা জেলায়। বাবার চাকরি সূত্রে পরিবারটি বহুকাল আগে বরিশাল সদর উপজেলার টুংগীবাড়িয়া ইউনিয়নে স্থায়ীভাবে বসতি স্থাপন করে। সেখানে বড় ভাই বাবুল খন্দকারের রাজনৈতিক অবস্থান ও প্রভাবকে কাজে লাগিয়ে ছোট ভাই সিরাজ খন্দকার টুংগীবাড়িয়া ইউনিয়নের জন্য সরকারি সার ডিলারশিপ বাগিয়ে নেন।
অন্যদিকে, মেজ ভাই শাহ আলম খন্দকার সংলগ্ন ০৮ নম্বর চাঁদপুরা ইউনিয়নের কুন্দিয়ালপাড়া গ্রামের বাসিন্দা হিসেবে নিজের পরিচয় পত্র ও কাগজপত্র তৈরি করেন। সেখানে তিনি ‘খন্দকার স্টোর’ নামে একটি প্রতিষ্ঠানের অনুকূলে চাঁদপুরা ইউনিয়নের সার ডিলারশিপ বাগিয়ে নেন বলে অভিযোগ। স্থানীয়দের দাবি, মূল ঠিকানা গোপন ও ভুয়া তথ্য উপস্থাপনের মাধ্যমে দুই ইউনিয়নে ডিলারশিপ ভাগিয়ে নেওয়া হয়েছে।
কৃষি মন্ত্রণালয় কর্তৃক প্রণীত ‘সার ডিলার নিয়োগ ও সার বিতরণ সংক্রান্ত সমন্বিত নীতিমালা-২০২৫’ এবং পরবর্তী হালনাগাদ নির্দেশনায় ডিলার নিয়োগ প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা ও ডিলার সিন্ডিকেট ভাঙার তাগিদ দেওয়া হয়েছে। এই নীতিমালায় স্পষ্ট উল্লেখ রয়েছে যে, একই পরিবারের একাধিক সদস্য কোনোভাবেই সার ডিলারশিপ বা বিক্রয় প্রতিনিধি হতে পারবেন না।
নীতিমালার এই শর্ত চ্যালেঞ্জ করে পূর্বে হাইকোর্টে রিট করা হলে স্থিতাবস্থা (স্ট্যাটাসকো) জারি করা হয়েছিল। কিন্তু ২০২৬ সালের ৭ অক্টোবর সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের চেম্বার আদালত হাইকোর্টের নির্দেশ স্থগিত করে সরকারি নীতিমালাই বহাল রাখেন। ফলে একই পরিবারের একাধিক সদস্যের সার ডিলারশিপ পাওয়ার সুযোগ পুরোপুরি আইনিভাবে বন্ধ রয়েছে।
আইনজ্ঞদের মতে, বর্তমান আইনি বাস্তবতায় একই পরিবারের দুই ভাইয়ের নামে পৃথক দুই ইউনিয়নে ডিলারশিপ বহাল থাকা পুরোপুরি নীতিমালার পরিপন্থী।
এ বিষয়ে স্থানীয় কৃষকরা আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, সরকার-নির্ধারিত মূল্যে প্রান্তিক কৃষকের দোরগোড়ায় সার পৌঁছানো একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সেবা। কিন্তু এক পরিবারের হাতে দুটি ইউনিয়নের সার সরবরাহ ও বিক্রির দায়িত্ব চলে গেলে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি বা সিন্ডিকেটের আশঙ্কা থেকে যায়।
স্থানীদের প্রশ্ন— ১. একই পরিবারের দুই ভাই দুটি পৃথক ইউনিয়নে ডিলারশিপের জন্য আবেদন করার পর যাচাই-বাছাই প্রক্রিয়ায় তাঁদের পারিবারিক সম্পর্ক কেন আড়াল হলো? ২. আবেদনকারীদের স্থায়ী ঠিকানা, ব্যবসায়িক অভিজ্ঞতা, নিজস্ব গুদামঘর ও ব্যাংকিং যোগ্যতার শর্তসমূহ সরজমিনে কীভাবে অনুমোদন পেল? ৩. নিয়োগ প্রক্রিয়ায় কোনো অনৈতিক লেনদেন বা রাজনৈতিক প্রভাব কাজ করেছে কি না?
সচেতন মহল দ্রুত নিরপেক্ষ তদন্ত কমিটি গঠন করে এই নিয়োগ বাতিল এবং যোগ্য ও বঞ্চিত আবেদনকারীদের মধ্য থেকে নিয়ম মেনে নতুন ডিলার নিয়োগের জোর দাবি জানিয়েছেন।
সকল অভিযোগ অস্বীকার করে ডিলারশিপ পাওয়া খন্দকার শাহ আলম এবং খন্দকার সিরাজ যৌথভাবে জানান, “আমাদের বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগ সত্য নয়। আমরা সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তর থেকে আহ্বান করা দরপত্রে অংশ নিয়ে সমস্ত নিয়ম-নীতি, কাগজপত্র ও আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করেই ডিলারশিপ পেয়েছি। এখানে কোনো অনিয়ম বা ভুয়া তথ্য দেওয়ার সুযোগ নেই।”
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন