প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
ঢাকা, ৬ অক্টোবর, ২০২৬ : ২০০৯ সালে যুক্তরাষ্ট্রের একটি সামরিক ঘাঁটিতে গুলি চালিয়ে ১৩ জনকে হত্যা করার দায়ে দণ্ডিত সাবেক মার্কিন সেনা মনোরোগ বিশেষজ্ঞ নিদাল হাসানের ফায়ারিং স্কোয়াডে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের অনুমোদন দিয়েছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। পেন্টাগন সোমবার এই তথ্য জানিয়েছে।
এ খবরটি বার্তা সংস্থা এএফপি’র মাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে।
ফোর্ট হুডের ওই হামলায় ২০ জনেরও বেশি মানুষ আহত হন। যদি হাসানের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়, তাহলে এটি ১৯৬১ সালের পর যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীতে প্রথম ফায়ারিং স্কোয়াডে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হবে।
পেন্টাগনের মুখপাত্র শন পারনেল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে একটি পোস্টে উল্লেখ করেন, প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথের সুপারিশের পর প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দণ্ডিত ‘সন্ত্রাসী’ নিদাল মালিক হাসানের ফায়ারিং স্কোয়াডে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের অনুমোদন দিয়েছেন।
তিনি আরও জানান, সেনাবাহিনীর সচিব মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করার সময় এবং স্থান নির্ধারণ করবেন।
২০১৩ সালে ফোর্ট হুডে আল-কায়েদার আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে চালানো ওই বন্দুক হামলার জন্য সামরিক আদালতের জুরি হাসানকে মৃত্যুদণ্ড দেন।
বিচারের সময় হাসান নিজেই নিজের পক্ষে আইনি লড়াই করার সিদ্ধান্ত নেন। কিন্তু তিনি কোনো সাক্ষী হাজির করেননি, নিজেও সাক্ষ্য দেননি এবং তাঁর বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ অস্বীকার করার কোনো চেষ্টা করেননি। আদালত নিযুক্ত তাঁর আইনজীবীরা আশঙ্কা করেছিলেন যে, তিনি ইচ্ছাকৃতভাবে মৃত্যুদণ্ড পেতে চাইছেন।
যুক্তরাষ্ট্রে জন্ম নেওয়া ফিলিস্তিনি বংশোদ্ভূত মুসলিম হাসান ২০০৯ সালের ৫ নভেম্বর টেক্সাসের বিশাল ফোর্ট হুড সামরিক ঘাঁটির একটি চিকিৎসাকেন্দ্রে গুলি চালান। ওই ঘাঁটি থেকে ইরাক ও আফগানিস্তানে যুদ্ধ করতে মার্কিন সেনাদের পাঠানো হতো।
নিহত ১৩ জনের মধ্যে ১২ জন এবং আহত ৩০ জনই ছিলেন সেনাসদস্য। হামলার জবাব দিতে আসা একজন বেসামরিক পুলিশ কর্মকর্তা হাসানকে গুলি করে আহত করেন, যার ফলে তিনি আংশিকভাবে পক্ষাঘাতগ্রস্ত হন।
হাসানের বিচার চলাকালে আদালতকে জানানো হয় যে, তিনি ইরাক ও আফগানিস্তানে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযান ও দখলনীতির বিরোধিতা করতেন।
এছাড়া, আদালতকে জানানো হয় যে, তিনি অনলাইনে আল-কায়েদার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট উগ্রপন্থী ধর্মীয় বক্তা আনোয়ার আল-আওলাকির সঙ্গে যোগাযোগ করেছিলেন। মার্কিন নাগরিক আওলাকি পরে ইয়েমেনে যুক্তরাষ্ট্রের ড্রোন হামলায় নিহত হন।
যুক্তরাষ্ট্রে ব্যাপক বন্দুক হামনা সাধারণ ঘটনা হলেও সামরিক স্থাপনায় এ ধরনের হামলা তুলনামূলকভাবে বিরল।
২০২৫ সালে জর্জিয়া অঙ্গরাজ্যের একটি মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে এক সেনাসদস্য গুলি চালিয়ে পাঁচ সহকর্মীকে আহত করেন। পরে তাঁকে কাবু করে আটক করা হয়।
২০১৯ সালে হাওয়াইয়ের একটি সামরিক ঘাঁটিতে এক মার্কিন নৌসেনা গুলি চালিয়ে দুজনকে হত্যা ও একজনকে আহত করেন। একই বছর ফ্লোরিডার একটি সামরিক স্থাপনায় সৌদি আরবের এক সামরিক প্রশিক্ষণার্থী তিনজনকে গুলি করে হত্যা করেন।
২০১৫ সালে কুয়েতি বংশোদ্ভূত এক মার্কিন নাগরিক টেনেসি অঙ্গরাজ্যের দুটি সামরিক স্থাপনায় হামলা চালিয়ে চারজন মেরিন সেনা ও একজন নাবিককে হত্যা করেন। এফবিআই পরে জানায়, ওই হামলাকারী একটি ‘বিদেশি সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর’ আদর্শে অনুপ্রাণিত ছিল।
এর দুই বছর আগে, ২০১৩ সালে, যুক্তরাষ্ট্রের রাজধানী ওয়াশিংটনে অবস্থিত নেভি ইয়ার্ডে এক ব্যক্তি গুলি চালিয়ে ১২ জনকে হত্যা এবং আটজনকে আহত করেন। পরে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর গুলিতে তিনি নিহত হন।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন