প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
রাজধানীর উত্তরায় ট্রাফিক ব্যবস্থাপনার মানোন্নয়ন, পুলিশ সদস্যদের সার্বিক কল্যাণ নিশ্চিতকরণ এবং পেশাগত দক্ষতা ও কর্মদক্ষতায় উৎসাহিত করার উদ্দেশ্যে একটি বিশেষ কল্যাণ সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বর মাসের পেশাগত পারফরম্যান্স ও কর্মদক্ষতার ভিত্তিতে বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে শ্রেষ্ঠ কর্মকর্তা ও সদস্যদের পুরস্কৃত করা হয়।
বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) উত্তরার ৩ নম্বর সেক্টরের সী শেল রেস্টুরেন্ট অ্যান্ড পার্টি প্যালেসে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) ট্রাফিক উত্তরা বিভাগের উদ্যোগে এই কল্যাণ সভার আয়োজন করা হয়। সভায় কনস্টেবল থেকে অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার (এডিসি) পদমর্যাদার কর্মকর্তা ও সদস্যদের সার্বিক কল্যাণ, পেশাগত দায়িত্ব পালন এবং ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা-সংক্রান্ত বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা করা হয়।
কল্যাণ সভায় সভাপতিত্ব করেন ট্রাফিক উত্তরা বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) মো. শাহজাহান হোসেন, পিপিএম। সভায় সেপ্টেম্বর মাসের পেশাগত পারফরম্যান্স, দায়িত্ব পালনে দক্ষতা ও কর্মক্ষেত্রে অবদানের ভিত্তিতে বিভিন্ন পদমর্যাদার কর্মকর্তা ও সদস্যদের মধ্য থেকে শ্রেষ্ঠদের নির্বাচন করে পুরস্কৃত করা হয়। এই উদ্যোগের মাধ্যমে দায়িত্বশীলতা, পেশাগত উৎকর্ষ এবং জনসেবায় আন্তরিকতাকে উৎসাহিত করার চেষ্টা করা হয়।
পুরস্কারপ্রাপ্তদের মধ্যে শ্রেষ্ঠ ট্রাফিক ইন্সপেক্টর (টিআই) হিসেবে সুজাহ উদ্দিন নির্বাচিত হন। শ্রেষ্ঠ সার্জেন্ট হিসেবে পুরস্কৃত হয়েছেন মারুফ রহমান ভূঁইয়া। শ্রেষ্ঠ সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) নির্বাচিত হন রবিউল ইসলাম এবং শ্রেষ্ঠ কনস্টেবল হিসেবে পুরস্কৃত হন কং-৩৩৫২২ মো. নজরুল ইসলাম।
এছাড়া কর্মক্ষেত্রে বিশেষ অবদান রাখার স্বীকৃতিস্বরূপ বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে আরও ছয়জন পুলিশ সদস্যকে পুরস্কৃত করা হয়। সংশ্লিষ্ট মাসে পেশাগত দায়িত্ব পালনে তাঁদের অবদানকে স্বীকৃতি দেওয়ার জন্য এই উদ্যোগ নেওয়া হয়। সভায় জনবান্ধব ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।
সভায় সভাপতির বক্তব্যে উত্তরার সাধারণ মানুষের জন্য আরও জনবান্ধব, সুশৃঙ্খল ও কার্যকর ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়। তাঁরা বলেন, সড়কে শৃঙ্খলা বজায় রাখা, যানজট নিয়ন্ত্রণ এবং সাধারণ মানুষকে সর্বোচ্চ সেবা দেওয়ার ক্ষেত্রে ট্রাফিক পুলিশের প্রতিটি সদস্যের দায়িত্বশীল ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
এ সময় পেশাগত দক্ষতা বৃদ্ধির পাশাপাশি দায়িত্ব পালনে সততা, নিষ্ঠা, শৃঙ্খলা ও জনসাধারণের সঙ্গে পেশাদার আচরণ বজায় রাখার বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হয়। ট্রাফিক ব্যবস্থাপনায় সেবার মান উন্নত করতে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের আরও আন্তরিকতার সঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানানো হয়। এছাড়াও দায়িত্ব পালনে পুলিশ সদস্যদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার নির্দেশনা দেওয়া হয়।
কল্যাণ সভায় সড়কে দায়িত্ব পালনকালে ট্রাফিক পুলিশ সদস্যদের নিজস্ব নিরাপত্তা নিশ্চিত করার বিষয়টিও গুরুত্বের সঙ্গে আলোচনা করা হয়। ব্যস্ত সড়কে যানবাহন নিয়ন্ত্রণ ও ট্রাফিক শৃঙ্খলা বজায় রাখতে গিয়ে সদস্যদের সতর্কতা অবলম্বন এবং প্রয়োজনীয় নিরাপত্তাবিধি অনুসরণের বিষয়ে দিকনির্দেশনা দেওয়া হয়।
পাশাপাশি কর্মকর্তা ও সদস্যদের সার্বিক কল্যাণ, কর্মপরিবেশ এবং পেশাগত দায়িত্ব পালনের বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা করা হয়। এ ধরনের কল্যাণ সভা পুলিশ সদস্যদের মধ্যে পারস্পরিক সমন্বয়, দায়িত্ববোধ ও কর্মস্পৃহা বৃদ্ধিতে ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হয়।
সভা শেষে ট্রাফিক উত্তরা বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার মো. শাহজাহান হোসেন, পিপিএম বিভিন্ন দিক নির্দেশনা মূলক বক্তব্য দেন। তাঁর বক্তব্যের মধ্য দিয়ে সভার সমাপ্তি ঘোষণা করা হয়।
সংশ্লিষ্টদের মতে, পেশাগত দক্ষতার স্বীকৃতি প্রদান এবং সদস্যদের কল্যাণকে গুরুত্ব দেওয়ার মাধ্যমে ট্রাফিক উত্তরা বিভাগের সেবার মান আরও উন্নত করা সম্ভব হবে। একই সঙ্গে উত্তরার সড়কে শৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং সাধারণ মানুষের নির্বিঘ্ন চলাচল নিশ্চিত করতে এ ধরনের উদ্যোগ ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন