প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
বিশ্ববাজারে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) খাতের শেয়ারগুলোর দরপতনের প্রভাব চীনের প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোর ওপর সবচেয়ে বেশি পড়েছে। দেশটির প্রযুক্তিনির্ভর স্টার৫০ সূচক গত ছয় মাসে প্রায় ৪০ শতাংশ কমে গেছে। এর ফলে প্রযুক্তিতে বৈশ্বিক নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে চীনের পরিকল্পনা চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন হয়েছে।
একটি প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে যে, চীনের প্রধান চিপ নির্মাতা প্রতিষ্ঠান মেটাএক্স ইন্টিগ্রেটেড সার্কিটস সাংহাই এবং মুর থ্রেডস টেকনোলজির শেয়ার মূল্যও একই সময়ে প্রায় অর্ধেক কমে গেছে। হার্ডওয়্যারনির্ভর আরেক সূচক চিনেক্সট ৩৬ শতাংশ কমেছে।
চলতি বছরের শুরুতে পরিস্থিতি ছিল ভিন্ন। চীনা সরকারের প্রযুক্তি খাতকে এগিয়ে নেওয়ার উদ্যোগ এবং বিশ্বব্যাপী এআইয়ের চাহিদা বৃদ্ধির প্রত্যাশায় বিনিয়োগকারীরা চীনের প্রযুক্তি শেয়ারে ব্যাপক বিনিয়োগ করেছিলেন। এর ফলে স্টার৫০ সূচক এপ্রিল থেকে জুনের মধ্যে প্রায় ৭৫ শতাংশ বেড়ে গিয়েছিল, যা দক্ষিণ কোরিয়ার কসপি সূচকের চেয়ে বেশি ছিল।
কিন্তু পরে কোম্পানিগুলোর ভবিষ্যৎ আয় এবং এআই প্রযুক্তির চাহিদা নিয়ে বিনিয়োগকারীদের উদ্বেগ বাড়তে শুরু করে। উচ্চ মূল্যায়নে থাকা শেয়ারগুলোর ওপর বিক্রির চাপ সৃষ্টি হয়। এর ফলে চীনের প্রযুক্তি শেয়ারবাজারে বড় ধরনের দরপতন দেখা দেয়।
গাভেকাল ক্যাপিটালের পোর্টফোলিও ব্যবস্থাপক লিওনিদ মিরোনভ মন্তব্য করেছেন, "দীর্ঘ সময় ধরে প্রযুক্তি শেয়ারের দরপতন চলতে থাকলে চীনের এআই খাতের লক্ষ্য অর্জন কঠিন হয়ে পড়বে।" তিনি আরও বলেন, "ছয় মাসের বেশি সময় বাজার দুর্বল থাকলে কোম্পানিগুলোর জন্য নতুন অর্থ সংগ্রহ করা কঠিন হবে।" একই সঙ্গে প্রযুক্তিগত অগ্রগতিতে বিনিয়োগকারীদের আস্থার ঘাটতিও প্রকাশ পাবে।
বিদেশি বিনিয়োগকারীদের অর্থ প্রত্যাহার
বিশ্লেষক জেসন লিয়াও ও মারভিন চেনের এক বিশ্লেষণে দেখা যায়, দ্বিতীয় প্রান্তিকে বিদেশি বিনিয়োগকারীরা চীনের প্রযুক্তি শেয়ারে বিপুল অর্থ বিনিয়োগ করেছিলেন। কিন্তু পরে যুক্তরাষ্ট্র ও দক্ষিণ কোরিয়া সহ বিশ্ববাজারে এআই হার্ডওয়্যার খাতের শেয়ারগুলোতে দরপতন শুরু হলে চীনের মূল ভূখণ্ডের শেয়ারবাজারে এর প্রভাব আরও বেশি পড়েছে।
হংকংয়ের মাধ্যমে বিদেশি বিনিয়োগকারীদের চীনের স্থানীয় শেয়ারবাজারে বিনিয়োগের সুযোগ দেওয়ার একটি ব্যবস্থার আওতায় তৃতীয় প্রান্তিকে আনুমানিক ৯০ বিলিয়ন ইউয়ান বা ১৩৫০ কোটি ডলার প্রত্যাহার করা হয়েছে। এটি এক বছরে সর্বোচ্চ অর্থ প্রত্যাহারের ঘটনা। এপ্রিল থেকে জুনের মধ্যে আসা বিদেশি বিনিয়োগের অর্ধেকেরও বেশি এতে উল্টো পথে চলে গেছে।
সাম্প্রতিক দরপতনে চীনের নতুন তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলোর শেয়ারও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। মেমোরি চিপ নির্মাতা সিএক্সএমটি করপোরেশনের শেয়ার জুলাইয়ে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত হওয়ার পর সর্বোচ্চ দরের তুলনায় ২৭ শতাংশ কমেছে। রোবট নির্মাতা ইউশু টেকনোলজির শেয়ারও আগস্টে প্রাথমিক গণপ্রস্তাবের (আইপিও) পর সর্বোচ্চ দরের তুলনায় প্রায় ৫০ শতাংশ হারিয়েছে।
দরপতনের পরও শেয়ার ব্যয়বহুল
সাম্প্রতিক দরপতনের পরও চীনের এআই-সংশ্লিষ্ট শেয়ারের মূল্যায়ন নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে। স্টার৫০ সূচকের শেয়ারগুলো বর্তমানে ভবিষ্যৎ মুনাফার তুলনায় ৪০ গুণের বেশি দরে লেনদেন হচ্ছে। দক্ষিণ কোরিয়ার কসপি সূচকের এ অনুপাত পাঁচ গুণের কম এবং নাসডাক ১০০ সূচকের ক্ষেত্রে ২১ গুণ।
গ্যাম ইনভেস্টমেন্ট ম্যানেজমেন্টের তহবিল ব্যবস্থাপক জিয়ান শি কর্তেসির মতে, বর্তমান দরপতনকে কারিগরি সংশোধন হিসেবে দেখা যেতে পারে, সস্তায় শেয়ার কেনার সুযোগ হিসেবে নয়। তার ধারণা, উচ্চ সম্ভাবনাময় অনেক প্রযুক্তি কোম্পানির শেয়ার আরো ৩০ থেকে ৫০ শতাংশ কমলে তবেই উল্লেখযোগ্য দরকষাকষির সুযোগ তৈরি হতে পারে।
সূত্র : এজ মালয়েশিয়া
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন