প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স (এআই) প্রযুক্তির দ্রুত উন্নয়ন এবং আধিপত্যের কারণে বিশ্বজুড়ে একটি নতুন অর্থনৈতিক ও ভূ-রাজনৈতিক প্রতিযোগিতা শুরু হয়েছে। সাম্প্রতিক এক বিশ্লেষণে দেখা গেছে, এআই খাতের শীর্ষ ১০টি পাবলিক কোম্পানির সম্মিলিত বাজারমূল্য ২৫ ট্রিলিয়ন (২৫ লাখ কোটি) ডলার অতিক্রম করেছে, যা বিশ্বের প্রায় সব দেশের জিডিপির চেয়ে বেশি।
এআই প্রযুক্তির নীতিমালার প্রয়োজনীয়তা এবং এর বিকাশের গতি কমানো নিয়ে মার্কিন রাজনীতি ও বৈশ্বিক অঙ্গনে বিতর্ক যখন তুঙ্গে, তখন এ খাতের বিশাল অর্থনৈতিক সাম্রাজ্যের চিত্র সামনে এসেছে। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার এক প্রতিবেদনে এআই শিল্পের অভ্যন্তরীণ ইকোসিস্টেম এবং সবচেয়ে দামি কোম্পানিগুলোর তালিকা তুলে ধরা হয়েছে।
এআই শিল্পের মূল কাঠামো
প্রতিবেদন অনুযায়ী, পুরো এআই বাজারটি মূলত তিনটি স্তরের ওপর ভিত্তি করে দাঁড়িয়ে আছে:
১. হার্ডওয়্যার ও চিপস: এআই মডেল চালানোর জন্য প্রয়োজনীয় সেমিকন্ডাক্টর ও জিপিউ (GPU) ডিজাইন করে এনভিডিয়া (Nvidia), ব্রডকম ও এএমডি-র মতো প্রতিষ্ঠান। বিশ্ববাজারের ৭০ শতাংশেরও বেশি উন্নত চিপ তৈরি বা ম্যানুফ্যাকচার করে তাইওয়ানের টিএসএমসি (TSMC)।
২. ক্লাউড ও কম্পিউট: কাঁচা চিপকে প্রসেসিং পাওয়ারে রূপান্তর করে বৈশ্বিক ক্লাউড অবকাঠামো প্রদান করে গুগল (অ্যালফাবেট), মাইক্রোসফট (অ্যাজুর) ও অ্যামাজন (এডব্লিউএস)।
৩. সফটওয়্যার ও অ্যাপ্লিকেশন: ব্যবহারকারীদের জন্য সরাসরি এআই মডেল তৈরি করে ওপেনএআই (OpenAI), অ্যানথ্রোপিক (Anthropic), মেটা (Meta) এবং এক্সএআই (xAI)।
বাজারমূল্যে শীর্ষে যারা
পাবলিক কোম্পানিগুলোর মধ্যে বর্তমান বিশ্ববাজারে ৫.১ ট্রিলিয়ন ডলার বাজারমূল্য নিয়ে শীর্ষে রয়েছে এআই চিপ নির্মাতা প্রতিষ্ঠান এনভিডিয়া (Nvidia)। ৪.৮৬ ট্রিলিয়ন ডলার বাজারমূল্য নিয়ে দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে অ্যাপল (Apple) এবং পরবর্তীতে রয়েছে অ্যালফাবেট (গুগল), মাইক্রোসফট ও অ্যামাজন।
অন্যদিকে, বেসরকারি এআই কোম্পানিগুলোর মধ্যেও রয়েছে বিলিয়ন ডলারের মূল্যায়ন। ক্লদ (Claude) এআই-এর নির্মাতা প্রতিষ্ঠান অ্যানথ্রোপিক (Anthropic)-এর বর্তমান মূল্যায়ন প্রায় ৯৬৫ বিলিয়ন ডলার, যা চলতি বছরের শেষেই শেয়ার বাজারে (IPO) তালিকাভুক্ত হতে পারে। চ্যাটজিপিটি নির্মাতা ওপেনএআই (OpenAI)-এর মূল্যায়ন ৮৫২ বিলিয়ন ডলার এবং ইলন মাস্কের এক্সএআই (xAI)-এর মূল্যায়ন ২৫০ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে।
নিরাপত্তা বনাম জাতীয় স্বার্থের প্রতিযোগিতা
সম্প্রতি অ্যানথ্রোপিকের সিইও দারিও আমোদেই এআই প্রযুক্তির অনিয়ন্ত্রিত বিস্তার রোধে কঠোর নীতিমালার দাবি জানান। তবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এই সুরক্ষার দাবিকে সরাসরি খারিজ করেছেন। ট্রাম্পের মতে, এআই বিকাশের গতি কমানো মানে প্রতিদ্বন্দ্বী দেশ চীনকে সুযোগ করে দেওয়া। তার ভাষায়, "যে এআই রেসে জিতবে, সে-ই সার্বিকভাবে জয়ী হবে।"
বিশ্বজুড়ে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার নিয়ন্ত্রণ এবং কোটি কোটি ডলারের বিনিয়োগ এখন কেবল প্রযুক্তির প্রতিযোগিতা নয়, বরং বিশ্ব অর্থনীতি পরিচালনার মূল শক্তিতে পরিণত হয়েছে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন