প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় মেজর জেনারেল (অব.) জিয়াউল আহসানের বিরুদ্ধে শতাধিক ব্যক্তিকে গুম ও হত্যার অভিযোগে আজ দ্বিতীয় দিনের মতো সাক্ষ্য দেবেন মামলার প্রধান তদন্ত কর্মকর্তা মো. রফিকুল ইসলাম। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১-এর চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন বিচারিক প্যানেলে আজ তার অসম্পন্ন জবানবন্দি গ্রহণ করা হবে।
গত ৩০ সেপ্টেম্বর মামলার ১৫তম সাক্ষী হিসেবে রফিকুল ইসলামের জবানবন্দি শুরু হয়। সেদিন আংশিক সাক্ষ্য দেওয়ার পর তা শেষ না হওয়ায় ট্রাইব্যুনাল আজকের দিন ধার্য করেন। তদন্ত কর্মকর্তা তার জবানবন্দিতে তদন্তের বিভিন্ন পর্যায়ে পরিদর্শন করা স্থান, সাক্ষীদের জবানবন্দি, সংগ্রহ করা তথ্য-উপাত্ত ও আলামত এবং সেগুলোর সঙ্গে মামলার অভিযোগের সম্পর্ক তুলে ধরছেন।
প্রসিকিউশন জানিয়েছে, তদন্ত কর্মকর্তার জবানবন্দি শেষ হলেই রাষ্ট্রপক্ষের সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ হবে। এরপর আসামিপক্ষ চাইলে সাফাই সাক্ষ্য উপস্থাপন করতে পারবে। উভয় পক্ষের যুক্তিতর্ক শেষে মামলাটি রায়ের জন্য ট্রাইব্যুনালের বিবেচনায় যাবে।
প্রসিকিউটর গাজী এমএইচ তামিম দাবি করেছেন, ১৫ জন সাক্ষীর সাক্ষ্যের মাধ্যমে জিয়াউল আহসানের বিরুদ্ধে আনা সব অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণ করতে সক্ষম হয়েছে রাষ্ট্রপক্ষ। প্রসিকিউটর মিজানুল ইসলাম পূর্বে জানিয়েছিলেন, সাক্ষ্য ও যুক্তিতর্কের কার্যক্রম স্বাভাবিক গতিতে চললে অক্টোবরের মধ্যেই মামলার বিচারিক কার্যক্রম শেষ হতে পারে। তবে রায় ঘোষণার সময় নির্ধারণের এখতিয়ার ট্রাইব্যুনালের।
গত ২৭ সেপ্টেম্বর মামলার ১৩তম সাক্ষী র্যাবের সাবেক কর্মকর্তা মেজর (অব.) সাব্বির রহমানের জেরা শেষ হয়। তিনি বরিশালে র্যাব-৮-এর তৎকালীন ডেপুটি কমান্ডার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন। সাক্ষ্যে তিনি ওই অঞ্চলে কথিত ‘গোলফ অপারেশন’-এর নামে সংঘটিত একাধিক অভিযান ও হত্যাকাণ্ড দেখার দাবি করেন। একই দিনে আরেক সাক্ষী কামরুল ইসলাম তদন্তকালে বিভিন্ন স্থান থেকে জব্দ করা আলামতের তথ্য ট্রাইব্যুনালে তুলে ধরেন।
মামলায় জিয়াউল আহসানের বিরুদ্ধে তিনটি সুনির্দিষ্ট অভিযোগ আনা হয়েছে। প্রথম অভিযোগে ২০১১ সালের ১১ জুলাই রাতে গাজীপুর সদর থানার পুবাইলে সজলসহ তিনজনকে হত্যার কথা বলা হয়েছে। প্রসিকিউশনের অভিযোগ, ঘটনাস্থলে জিয়াউল আহসানের সরাসরি উপস্থিতি ছিল।
দ্বিতীয় অভিযোগে ২০১০ থেকে ২০১৩ সালের মধ্যে বরগুনার পাথরঘাটা উপজেলার চরদুয়ানী ইউনিয়নের চরদুয়ানী খালসংলগ্ন বলেশ্বর নদীর মোহনায় নজরুল, মল্লিকসহ ৫০ জনকে হত্যার অভিযোগ আনা হয়েছে।
তৃতীয় অভিযোগে একই সময়কালে বরগুনার বলেশ্বর নদী এবং বাগেরহাটের শরণখোলাসহ সুন্দরবনের বিভিন্ন এলাকায় তথাকথিত বনদস্যু দমনের অভিযানের আড়ালে মাসুদসহ আরও ৫০ জনকে হত্যার অভিযোগ করেছে প্রসিকিউশন। সব মিলিয়ে মামলায় ১০৪ জনকে গুম ও হত্যার অভিযোগে জিয়াউল আহসানের বিচার চলছে।
তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করে আসামিপক্ষ বলেছে, রাষ্ট্রপক্ষ অভিযোগ প্রমাণের মতো সাক্ষ্য-প্রমাণ উপস্থাপন করতে পারেনি। সর্বশেষ সাক্ষ্যগ্রহণের পরও আসামিপক্ষ দাবি করেছে, তাদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ প্রমাণে সক্ষম কোনো সাক্ষী রাষ্ট্রপক্ষ হাজির করতে পারেনি।
এ মামলায় গত বছরের ১৭ ডিসেম্বর জিয়াউল আহসানের বিরুদ্ধে তিনটি অভিযোগ আমলে নিয়ে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিল করে প্রসিকিউশন। পরে ২৩ ডিসেম্বর তাকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন ট্রাইব্যুনাল-১। বর্তমানে রাষ্ট্রপক্ষের সাক্ষ্যগ্রহণের শেষ ধাপে রয়েছে মামলাটি। তদন্ত কর্মকর্তার জবানবন্দি ও পরবর্তী আইনি ধাপ শেষ হলে রায়ের দিকে এগোবে বিচারিক কার্যক্রম।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন