প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
যুক্তরাষ্ট্রের নিউ মেক্সিকো অঙ্গরাজ্যের একটি আদালত ফেসবুক ব্যবহারকারীদের ব্যক্তিগত তথ্যের গোপনীয়তা লঙ্ঘনের কারণে মেটাকে ২৫ বিলিয়ন ডলার জরিমানা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। এটি কোম্পানিটির বিরুদ্ধে এ পর্যন্ত সবচেয়ে বড় জরিমানা হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে।
স্থানীয় সময় বুধবার (২১ অক্টোবর) নিউ মেক্সিকোর আদালতের বিচারক ফ্রান্সিস ম্যাথিউ এই রায় দেন। আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।
বিচারক রায়ে উল্লেখ করেন, ‘ফেসবুক ব্যবহারকারীদের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল, তারা নিজেদের তথ্যের ওপর নিয়ন্ত্রণ রাখতে পারবেন। কিন্তু এ প্রতিশ্রুতি ছিল মিথ্যা।’
গত মাসে একটি জুরি বোর্ডের রায়ে জানানো হয়, নিউ মেক্সিকোর ভোক্তা সুরক্ষা আইন লঙ্ঘনের জন্য মেটা ৪ কোটি ৩০ লাখের বেশি ঘটনার দায়ী। নিউ মেক্সিকোর অ্যাটর্নি জেনারেল রাউল তোরেজ বলেন, এটি যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে কোনো কোম্পানির বিরুদ্ধে অঙ্গরাজ্য পর্যায়ে দেওয়া সবচেয়ে বড় জরিমানার রায়গুলোর মধ্যে একটি।
এক সংবাদ সম্মেলনে তোরেজ বলেন, ‘সিলিকন ভ্যালির জন্য এ রায় একটি সংকেত হওয়া উচিত। এটি একটি দ্ব্যর্থহীন বার্তা।’
মেটার আইনজীবী ম্যাট নিকোলসন আদালতে যুক্তি দেন, ৪০ বিলিয়ন ডলারের মতো জরিমানা হবে ‘বিবেককে নাড়া দেওয়ার মতো’। অন্যদিকে নিউ মেক্সিকোর আইনজীবী র্যান্ডি ম্যাকগিন বলেন, ‘যেসব টেক জায়ান্ট নিজেদের আইনের ঊর্ধ্বে মনে করে এবং যা খুশি তা-ই করতে পারে বলে ভাবে, তাদের বিরুদ্ধে দাঁড়ানো জরুরি।’
চলতি মাসের শুরুতে অনুষ্ঠিত শুনানিতে নিকোলসন বলেন, ‘জুরি বোর্ড এমন কোনো সিদ্ধান্ত দেয়নি যে নিউ মেক্সিকোর কোনো বাসিন্দা এসব বক্তব্য শুনেছেন বা দেখেছেন কিংবা এসব বক্তব্যের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন।’
রায়ের পর সাংবাদিকদের তোরেজ জানান, জরিমানার পুরো অর্থ অঙ্গরাজ্যের শিক্ষা খাতের জন্য গঠিত একটি তহবিলে জমা হবে।
নির্ধারিত জরিমানার পরিমাণ ২০১৯ সালে যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল ট্রেড কমিশনের (এফটিসি) ফেসবুককে করা ৫ বিলিয়ন ডলারের জরিমানার চেয়ে অনেক বেশি।
নিউ মেক্সিকোর অভিযোগ, ব্যক্তিগত তথ্য কারা দেখতে পারে এবং নিজেদের প্ল্যাটফর্মে ক্ষতিকর কনটেন্ট কীভাবে নিয়ন্ত্রণ করা হয়, সে বিষয়ে ব্যবহারকারীদের বিভ্রান্ত করেছে মেটা। জুরি বোর্ডের মতে, গোপনীয়তা ও কনটেন্ট নিয়ন্ত্রণ নিয়ে মেটা ও এর শীর্ষ কর্মকর্তাদের দেওয়া ২৯টি বক্তব্যের মধ্যে ২৬টি বিভ্রান্তিকর ছিল।
তবে মেটা এ রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করার পরিকল্পনা করেছে। আপিলের মাধ্যমে জরিমানার চূড়ান্ত পরিমাণ কমে আসতে পারে।
মেটার প্রধান আইন কর্মকর্তা সিজে মাহোনি এক বিবৃতিতে বলেন, কোম্পানিটি আপিলে জয় পাওয়ার বিষয়ে আত্মবিশ্বাসী। মাহোনি বলেন, ‘এই রায় এবং অ্যাটর্নি জেনারেলের এ মামলা পরিচালনার পদ্ধতি নিউ মেক্সিকো অঙ্গরাজ্যে ব্যবসা করাকে প্রায় অসম্ভব করে তুলেছে। মূলত, এ মামলার মাধ্যমে অনলাইনে মানুষ কী বলতে পারবেন, সে বিষয়ে নতুন নিয়ম কার্যকর করতে বক্তব্যের ওপর কর আরোপের চেষ্টা করা হচ্ছে।’
২০২১ সালের মামলাটি আংশিকভাবে ক্যামব্রিজ অ্যানালিটিকা-সংক্রান্ত তথ্য প্রকাশের সূত্র ধরে করা হয়। যুক্তরাজ্যভিত্তিক রাজনৈতিক পরামর্শক প্রতিষ্ঠানটি বর্তমানে বিলুপ্ত। অভিযোগ অনুযায়ী, প্রতিষ্ঠানটি ফেসবুকের ৮ কোটি ৭০ লাখ পর্যন্ত ব্যবহারকারীর ব্যক্তিগত তথ্য তাদের সম্মতি ছাড়াই সংগ্রহ করেছিল। পরে এসব তথ্য ব্যবহার করে লক্ষ্যভিত্তিক রাজনৈতিক বিজ্ঞাপন তৈরি করা হয়। প্রতিষ্ঠানটির গ্রাহকদের মধ্যে ছিল যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ২০১৬ সালের নির্বাচনী প্রচারশিবির।
নিউ মেক্সিকোতে ছয় মাসের মধ্যে এটি মেটার দ্বিতীয় আইনি পরাজয়। এর আগে গত মার্চে একটি জুরি বোর্ডের রায়ে বলা হয়, ফেসবুক, ইনস্টাগ্রাম ও হোয়াটসঅ্যাপে তরুণদের নিরাপত্তা নিয়ে ব্যবহারকারীদের বিভ্রান্ত করেছে কোম্পানিটি। ওই মামলায় মেটাকে ৩৭৫ মিলিয়ন ডলার দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়।
পরে কিশোর-কিশোরীদের মানসিক স্বাস্থ্য সুরক্ষায় গঠিত একটি অঙ্গরাজ্য তহবিলে আরও ৫৬৭ মিলিয়ন ডলার দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয় মেটাকে। পাশাপাশি তরুণ ব্যবহারকারীদের সুরক্ষায় বিভিন্ন পদক্ষেপ বাস্তবায়নেরও নির্দেশ দেওয়া হয়।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন