প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
লেবাননের সাংবাদিক আমাল খলিলকে লক্ষ্য করে ইসরাইলের পক্ষ থেকে চালানো বিমান হামলা ছিল ইচ্ছাকৃত, যা আন্তর্জাতিক মানবিক আইন অনুযায়ী যুদ্ধাপরাধ হিসেবে বিবেচিত হতে পারে। এ বিষয়ে একটি প্রতিবেদনে এ কথা বলেছে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস ওয়াচ (এইচআরডব্লিউ)।
গত বুধবার (৬ আগস্ট) প্রকাশিত এক তদন্ত প্রতিবেদনে হিউম্যান রাইটস ওয়াচ জানায়, ২২ এপ্রিল দক্ষিণ লেবাননের আত-তিরি শহরে ইসরাইলি হামলার খবর সংগ্রহের সময় আল-আখবার পত্রিকার প্রতিবেদক আমাল খলিল নিহত হয়েছিলেন। এই হামলার সময় তার সঙ্গে থাকা ক্যামেরা অপারেটর জয়নাব ফারাজ গুরুতর আহত হয়েছিলেন।
এইচআরডব্লিউর তদন্তে বলা হয়েছে, হামলার পূর্বে জাতিসংঘের শান্তিরক্ষা মিশন ইউএনআইএফআইএল এবং রেড ক্রস ইসরাইলি বাহিনীকে সাংবাদিকদের উপস্থিতির বিষয়টি জানিয়েছিল। সুতরাং, ওই ভবনে যখন সাংবাদিকরা অবস্থান করছিলেন, তখন এটি ইসরাইলি বাহিনীর জানা ছিল অথবা জানার কথা ছিল।
সংস্থাটি আরও দাবি করেছে, হামলার পর আমাল খলিল সম্ভবত তখনও জীবিত ছিলেন। তবে ইসরাইলি বাহিনী দীর্ঘ সময় ধরে উদ্ধারকর্মীদের ঘটনাস্থলে প্রবেশ করতে দিয়েছিল না। এর ফলে আহত সাংবাদিকদের দ্রুত চিকিৎসা দেওয়ার সুযোগ নষ্ট হয়েছিল।
এইচআরডব্লিউর মধ্যপ্রাচ্যবিষয়ক গবেষক রামজি কাইস একটি বিবৃতিতে বলেন, ‘প্রমাণ স্পষ্টভাবে দেখায় যে ইসরাইলি সামরিক বাহিনী জানত, অথবা তাদের জানা উচিত ছিল যে আমাল খলিল ও জয়নাব ফারাজ বেসামরিক ব্যক্তি। তবুও তারা হামলা চালায় এবং পরে ঘণ্টার পর ঘণ্টা প্যারামেডিকদের তাদের উদ্ধার করতে বাধা দেয়।’
সংস্থাটির মতে, আন্তর্জাতিক মানবিক আইন অনুযায়ী সাংবাদিকরা বেসামরিক ব্যক্তি হিসেবে সুরক্ষিত। যদি তারা সরাসরি যুদ্ধে অংশ না নেয়, সেক্ষেত্রে তাদের লক্ষ্য করে হামলা চালানো বা চিকিৎসা ও উদ্ধারকাজে বাধা দেওয়া আন্তর্জাতিক আইনের গুরুতর লঙ্ঘন হিসেবে বিবেচিত হয়।
এইচআরডব্লিউ সংশ্লিষ্ট ঘটনাটির জন্য স্বাধীন ও নিরপেক্ষ তদন্তের আহ্বান জানিয়েছে। এছাড়াও, দায়ীদের জবাবদিহির আওতায় আনার জন্য আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে সংস্থাটি।
তবে এই প্রতিবেদনের বিষয়ে ইসরাইলি সামরিক বাহিনীর পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। ইসরাইল অতীতে সাংবাদিকদের লক্ষ্য করে হামলার অভিযোগ অস্বীকার করে এসেছে এবং দাবি করেছে, তাদের সামরিক অভিযান আন্তর্জাতিক আইন মেনেই পরিচালিত হয়।
দক্ষিণ লেবাননে ইসরাইল এবং সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর মধ্যে চলমান সংঘাতের মধ্যে সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ ক্রমেই বাড়ছে। আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম ও মানবাধিকার সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, সংঘাতপূর্ণ এলাকায় সংবাদ সংগ্রহ করতে গিয়ে বহু সাংবাদিক প্রাণ হারিয়েছেন বা আহত হয়েছেন।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন