প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
দেশের পুঁজিবাজারে বড় মূলধনি, অবকাঠামোগত ও বহুজাতিক কোম্পানিকে তালিকাভুক্ত করার জন্য প্রাথমিক গণপ্রস্তাব (আইপিও) বিধিমালা সংশোধনের উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)। নতুন খসড়ায় অবকাঠামো ও মূলধননিবিড় কোম্পানির জন্য কাঠামোগত শর্ত এবং মুনাফায় থাকার বাধ্যবাধকতায় শর্ত শিথিল করা হয়েছে, পাশাপাশি কম শেয়ার ছেড়ে বড় মূলধন উত্তোলনের সুযোগ রাখা হয়েছে।
‘বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (পাবলিক অফার অব ইকুইটি সিকিউরিটিজ) রুলস, ২০২৫’-এর সংশোধনীর খসড়া বিএসইসির ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হয়েছে, যাতে সর্বসাধারণ ও অংশীজনদের মতামত আহ্বান করা হয়েছে। খসড়ার উপর লিখিত মতামত আগামী ২ নভেম্বরের মধ্যে প্রদান করা যাবে।
বড় ও অবকাঠামো খাতের জন্য বিশেষ সুবিধা হিসেবে বিদ্যুৎ, জ্বালানি, টেলিকমিউনিকেশন, স্বাস্থ্যসেবা, পানি সরবরাহসহ বড় প্রকল্পে নিয়োজিত প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য ‘ক্যাপিটাল-ইন্টেনসিভ কোম্পানি’ নামে নতুন সংজ্ঞা অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এসব কোম্পানির আইপিও আসার ক্ষেত্রে মুনাফার শর্তে শিথিলতা প্রদান করা হয়েছে। সাধারণ কোম্পানির ক্ষেত্রে আইপিওতে আবেদনের সময় সর্বশেষ আর্থিক বছরে মুনাফায় থাকা বাধ্যতামূলক হলেও, ন্যূনতম ৫০০ কোটি টাকা মোট সম্পদ থাকা ক্যাপিটাল-ইন্টেনসিভ কোম্পানি, রেগুলেটেড কোম্পানি ও নতুন (গ্রিনফিল্ড) কোম্পানিকে বিএসইসি এই শর্ত থেকে ছাড় দিতে পারবে। তবে তালিকাভুক্তির দুবছরের মধ্যে মুনাফায় আসার কর্মপরিকল্পনা জমা দিতে হবে।
কম শেয়ার ছেড়ে আইপিওর সুযোগ
প্রাক-আইপিও নিট সম্পদ ৫০০ কোটি টাকা বা তার বেশি হলে, ঐ কোম্পানিকে প্রচলিত ১০% শেয়ার ছাড়ার বাধ্যবাধকতার পরিবর্তে ন্যূনতম ৫% শেয়ার ছাড়ার অনুমোদন দেওয়া যাবে।
‘হাইব্রিড মোড’ ও অফার ফর সেল
যেসব কোম্পানির বার্ষিক টার্নওভার বা মোট সম্পদ ৫০০ কোটি টাকার বেশি, বিটিআরসি নিবন্ধিত (ন্যূনতম ৩০০ কোটি টাকা নিট সম্পদ) অথবা সংখ্যাগরিষ্ঠ বিদেশি মালিকানাধীন, তারা বাজারে নতুন শেয়ার ছাড়ার পাশাপাশি বিদ্যমান শেয়ারহোল্ডারদের শেয়ার অফলোডের সমন্বয়ে ‘হাইব্রিড মোড’-এ আসতে পারবে।
আইপিও আবেদনের আগের দুবছরের মধ্যে মূলধন উত্তোলনের সাধারণ আইনি বিধিনিষেধ পিপিই (পিপিপি) প্রকল্প, সরকারি ও বিদেশি সংখ্যাগরিষ্ঠ শেয়ার থাকা কোম্পানির ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে না।
উচ্চ সম্পদশালী বিনিয়োগকারীদের আইপিও কোটা বাতিল করা হয়েছে। বিদ্যমান ২০২৫ সালের বিধিমালার উচ্চ সম্পদশালী ব্যক্তি বিনিয়োগকারী শ্রেণির জন্য বিশেষ পাঁচ শতাংশ সংরক্ষিত কোটা খসড়া বিধিমালায় সম্পূর্ণ বিলুপ্ত করা হয়েছে।
সাধারণ ও প্রবাসী কোটা বৃদ্ধি
ফিক্সড প্রাইস ও বুক বিল্ডিং পদ্ধতিতে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত কোম্পানির আইপিওতে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের কোটা বৃদ্ধি করা হয়েছে। ফিক্সড প্রাইস পদ্ধতিতে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের জন্য বরাদ্দের পরিমাণ ৬০% থেকে বাড়িয়ে ৬৫% করার প্রস্তাব করা হয়েছে। অপরদিকে বুক বিল্ডিং পদ্ধতিতে প্রাতিষ্ঠানিক যোগ্য বিনিয়োগকারীদের কোটা ৪০% থেকে কমিয়ে ৩৫% এবং সাধারণ বিনিয়োগকারীদের কোটা ৩৫% থেকে বাড়িয়ে ৪০% করার প্রস্তাব করা হয়েছে। এছাড়া প্রবাসী বাংলাদেশিদের কোটা ৭% থেকে বাড়িয়ে ১০% এবং কর্মচারীদের কোটা ৩% থেকে বাড়িয়ে ৫% করা হয়েছে।
প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারী শ্রেণির
লক-ইন শিথিল
বুক বিল্ডিং পদ্ধতিতে প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের বরাদ্দের ৫০% শেয়ার প্রথম দিনেই লেনদেনযোগ্য থাকবে। বাকি শেয়ারের মধ্যে ২৫% শেয়ারে ৬০ দিন এবং অবশিষ্ট ২৫% শেয়ারে ৯০ দিনের লক-ইন থাকবে।
প্রি-আইপিও নিরপেক্ষ অডিট
আর্থিক বিবরণী ও প্রসপেক্টাসের তথ্যের নির্ভুলতা নিশ্চিত করতে আইপিও আবেদনের আগে বিএসইসির প্যানেলভুক্ত নিরপেক্ষ অডিটর দিয়ে ‘প্রি-আইপিও ভেরিফিকেশন’ অডিট সম্পন্ন করা বাধ্যতামূলক করার নিয়ম আনা হয়েছে।
বুয়েট দ্বারা লটারি নিরীক্ষা
সাধারণ ও এনআরবি বিনিয়োগকারীদের শেয়ার বরাদ্দের লটারি ব্যবস্থা সম্পূর্ণ স্বয়ংক্রিয় করার পাশাপাশি এর অ্যালগরিদম বুয়েট দ্বারা পরীক্ষিত হওয়ার বাধ্যবাধকতা রাখা হয়েছে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন