প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থা (ডব্লিউএমও) জানিয়েছে যে, একটি ‘অতি শক্তিশালী’ এল নিনো সৃষ্টি হচ্ছে। এই এল নিনো আগামী বছরের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত স্থায়ী হতে পারে। এর ফলে বিশ্বজুড়ে তাপমাত্রা এবং বৃষ্টিপাতের ধরন পরিবর্তিত হতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, শক্তিশালী এল নিনোর কারণে আসন্ন শীতে ঠান্ডা কম অনুভূত হতে পারে।
বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিত এক সংবাদ সম্মেলনে ডব্লিউএমওর মহাসচিব সেলেস্তে সাউলো বলেন, ‘এল নিনো এখন সম্পূর্ণরূপে তৈরি হয়ে গেছে এবং এটি আরও শক্তিশালী হবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। বিশ্বজুড়ে মানুষের জীবন এবং অর্থনীতির ওপর এটি বড় ধাক্কা দিতে পারে। খরা এবং বন্যার কারণে আমরা ইতিমধ্যেই ক্ষয়ক্ষতি দেখতে পাচ্ছি। এল নিনো শক্তিশালী হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে এই ক্ষতি আরও বাড়বে বলে আমাদের ধারণা।’
এল নিনো একটি প্রাকৃতিক প্রক্রিয়া, যা তখন তৈরি হয় যখন প্রশান্ত মহাসাগরের নিরক্ষীয় অংশের পানি অত্যন্ত গরম হয়ে যায়। এর প্রভাবের কারণে বিশ্বজুড়ে আবহাওয়ায় পরিবর্তন ঘটে। তাপপ্রবাহ, ভারী বৃষ্টি এবং তাপমাত্রার চরম ওঠানামার জন্য এল নিনো দায়ী থাকে।
প্রশান্ত মহাসাগরের নিনো ৩.৪ অঞ্চলের পানির তাপমাত্রা পর্যবেক্ষণ করে এল নিনোর তীব্রতা নির্ধারণ করা হয়। মে থেকে জুলাই মাসে এই তাপমাত্রা স্বাভাবিকের চেয়ে দেড় ডিগ্রি সেলসিয়াস বেশি ছিল। জুলাই মাসে তা বেড়ে দুই ডিগ্রি সেলসিয়াসেরও বেশি হয়ে যায়। এটি নির্দেশ করে যে, এল নিনো দ্রুত শক্তি অর্জন করছে।
এই গ্রীষ্মে ইউরোপে সাম্প্রতিক দশকগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বেশি তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে। বিশ্বের বিভিন্ন আবহাওয়া সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, আগস্ট মাসে পৃথিবীর বিভিন্ন স্থানে রেকর্ড তাপমাত্রা দেখা গেছে।
ডব্লিউএমওর প্রধান বলেন, এই এল নিনো বর্তমানে সবার সামর্থ্যের শেষ সীমায় চাপ সৃষ্টি করছে। চরম আবহাওয়া মোকাবিলার জন্য বড় ধরনের প্রস্তুতি এবং সমন্বয় প্রয়োজন হবে।
তিনি আরও বলেন, ‘ডব্লিউএমওর ৫০ বছরের ইতিহাসে জাতীয় আবহাওয়া এবং জলবিজ্ঞান সংস্থাগুলোর নিয়ে এত বড় মাপের কোনো প্রস্তুতি আগে কখনো নেওয়া হয়নি। এই সংস্থাগুলো মানুষের জীবন এবং জীবিকা রক্ষায় পূর্বাভাস এবং সেবা দেওয়ার ক্ষেত্রে সামনের সারিতে থাকে।’
ডব্লিউএমও জানায়, ভারত মহাসাগরের ডাইপোল (আইওডি) সেপ্টেম্বর থেকে নভেম্বরের মধ্যে তৈরি হতে পারে। এল নিনোর মতো এটি একটি প্রাকৃতিক প্রক্রিয়া, তবে এটি ভারত মহাসাগরে ঘটে। এর প্রভাব বাংলাদেশেও পড়বে, তা বলাই বাহুল্য।
ডব্লিউএমও জানায়, ‘আইওডির পজিটিভ পর্যায়ও তৈরি হবে বলে আশা করা হচ্ছে। এর মৌসুমি গড় মান হবে শূন্য দশমিক নয় ডিগ্রি সেলসিয়াস।’
আইওডির পজিটিভ পর্যায় এল নিনোর প্রভাব কিছুটা কমাতে পারে। আগস্টের শেষ দিকে আইওডি কিছুক্ষণের জন্য পজিটিভ পর্যায়ের দিকে ঝুঁকেছিল, তবে পরে আবার নিরপেক্ষ অবস্থায় ফিরে যায়। এর ফলস্বরূপ তীব্র গরমের শঙ্কা বাড়ছে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন