প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের একের পর এক হামলার পরেও, ইরান ভূগর্ভস্থ স্থাপনাগুলোতে মজুত রাখা উপাদান ব্যবহার করে আবারও ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র তৈরি শুরু করেছে। মার্কিন ও মধ্যপ্রাচ্যের কর্মকর্তারা দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নালকে জানিয়েছেন, দক্ষিণ-পূর্ব ইরানের খোজিরসহ একাধিক ভূগর্ভস্থ কেন্দ্রে এই কার্যক্রম চলছে। এ ঘটনার মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল কর্তৃক তেহরানের সামরিক শক্তি ধ্বংসের যে দাবি করা হয়েছিল, তা এখন বড় প্রশ্নের সম্মুখীন হয়েছে।
বর্তমানে ইরান তরল ও কঠিন- উভয় ধরনের জ্বালানিচালিত ক্ষেপণাস্ত্র সংযোজন করছে। হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত অবকাঠামো এড়াতে নতুন ভূগর্ভস্থ কেন্দ্র তৈরি করা হচ্ছে। সাবেক সিআইএ বিশ্লেষক জিম ল্যামসন মন্তব্য করেছেন, যুদ্ধের পূর্বে ইরান বিভিন্ন যন্ত্রাংশ ভূগর্ভে সারিবদ্ধভাবে মজুত করেছিল। এই উপাদানগুলো ব্যবহার করে তারা কয়েক শ থেকে কয়েক হাজার ক্ষেপণাস্ত্র তৈরি করতে সক্ষম। যদিও মার্কিন নৌ-অবরোধের কারণে আন্তর্জাতিক বাজার থেকে কাঁচামাল ও কঠিন জ্বালানির উপাদান সংগ্রহ করা কঠিন হচ্ছে, সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, ইরানের অস্ত্রাগারে এখনো হাজার হাজার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র বিদ্যমান।
এ বছরের এপ্রিলে, মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ এবং পেন্টাগন দাবি করেছিল যে, ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন শিল্পভিত্তির ৯০ শতাংশ ধ্বংস করা হয়েছে। তবে বিশ্লেষক তাল ইনবারের মতে, কেবল বোমা মেরে ইরানের মতো সুবিশাল ও ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদন সক্ষমতা চিরতরে নির্মূল করা সম্ভব নয়। যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক মিসাইল ডিফেন্স অ্যাডভোকেসি অ্যালায়েন্সের তথ্য অনুযায়ী, ইরান প্রত্যাশার চেয়েও দ্রুত গতিতে পুনর্গঠন চালাতে সক্ষম।
আরব ও ইসরাইলি কর্মকর্তারা উদ্বেগ প্রকাশ করছেন যে, লড়াই আরও দীর্ঘায়িত হতে পারে। যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনৈতিক চাপ যত বাড়ছে, ইরানের পক্ষ থেকে সংঘাতের তীব্রতা ও পরিসর বাড়ানোর ঝুঁকিও তত বৃদ্ধি পাচ্ছে। গত কয়েক দিনে, ইরান মার্কিন যুদ্ধজাহাজ লক্ষ্য করে একাধিক হামলা চালিয়েছে। যদিও এসব হামলায় কোনো জাহাজ সরাসরি আঘাতপ্রাপ্ত হয়নি, সেগুলো অল্পের জন্য রক্ষা পেয়েছে।
বুধবার, জর্ডানের একটি বিমানঘাঁটিতে একযোগে ব্যাপক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে ইরান। ওই ঘাঁটিতে মার্কিন সেনাসদস্যরা অবস্থান করছেন। ভিডিও ফুটেজে দেখা গেছে, নিক্ষিপ্ত ক্ষেপণাস্ত্রগুলোর সঙ্গে ক্লাস্টার ওয়ারহেড যুক্ত ছিল। যুদ্ধের শুরুর দিকে ইসরায়েলে আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে ফাঁকি দিতে ও পরাস্ত করতে এ ধরনের ক্ষেপণাস্ত্র প্রায়ই নিক্ষেপ করা হতো।
সূত্র: দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন