প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
অর্থ আত্মসাতের মামলায় ৩ বছরের সাজা এড়াতে মুর্শেদ খাদেম (৪০) নামের একজন ব্যক্তি ১২ বছর পালিয়ে থাকার পর গত বুধবার রাতে নিজেদের বাড়ি থেকে গ্রেপ্তার হয়েছেন। মামলার বাদী বীর মুক্তিযোদ্ধা হরলাল দেবনাথ। মুর্শেদ ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইল উপজেলার শাহজাদাপুর গ্রামের কোনাপাড়ার প্রয়াত ফরিদ মিয়ার সন্তান। সরাইল থানার এ.এস.আই আমান উল্লাহর নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করে।
পুলিশ, মামলা এবং বাদী সূত্রে জানা যায়, ২০১২ সালে ইট দেওয়ার শর্তে হরলাল দেবনাথে কাছ থেকে ষ্ট্যাম্পে লিখিত দিয়ে মুর্শেদ খাদিম সাড়ে ৩ লাখ টাকা গ্রহণ করেছিলেন। টাকা গ্রহণ করার পর মুর্শেদ রূপ বদলে ফেলেন। ইট না দিয়ে দীর্ঘদিন ধরে হরলালকে ঘুরিয়ে ফিরিয়ে নানা তালবাহানা করতে শুরু করেন। এক পর্যায়ে মুর্শেদ লাপাত্তা হয়ে যান। মুর্শেদের অবস্থান জানার জন্য হরলালকে বিভিন্ন জায়গায় ধরণা দিতে হয়। বাধ্য হয়ে হরলাল দেবনাথ ২০১৩ সালে মুর্শেদের স্বাক্ষর করা ষ্ট্যাম্প দিয়ে তার বিরুদ্ধে অর্থ আত্মসাতের মামলা করেন। ২০১৪ সালে এই মামলায় বিজ্ঞ আদালত মুর্শেদ খাদেমকে ৩ বছরের সাজা প্রদান করেন। গ্রেপ্তারি পরোয়ানা ও সাজাকে এড়াতে মুর্শেদ পালিয়ে থাকেন। ৩ বছরের সাজা থেকে নিজেকে বাঁচাতে মুর্শেদ ১২ বছর ধরে পালিয়ে ছিলেন। অবশেষে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে গত বুধবার রাত ১০টার দিকে সরাইল থানার এ.এস.আই আমান উল্লাহ সঙ্গীয় ফোর্স নিয়ে শাহজাদাপুর গ্রামে অভিযান চালান। অভিযানকালে তারা সাজাপ্রাপ্ত আসামী মুর্শেদকে গ্রেপ্তার করেন। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় একাধিক ব্যক্তি বলেন, মুর্শেদ উল্লেখযোগ্য কোন কর্ম না করলেও খুব দাপুটে চলাফেরা করেন। তাঁর কাছে অনেক লোকজন টাকা পাবেন এবং পাওনাদাররা তাকে খুঁজে গ্রামে আসেন। তার শ্বশুড়বাড়ি দেওড়ায় গিয়েও মুর্শেদকে খুঁজছিলেন। এ.এস.আই আমান উল্লাহ মুর্শেদকে গ্রেপ্তারের সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, ১২ বছর আগে তিনি একটি মামলায় সাজাপ্রাপ্ত হয়ে আত্মগোপনে ছিলেন। উনার নামে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা ছিল। পুলিশ দীর্ঘদিন ধরে তাকে খুঁজছিলেন। বুধবার রাতে কৌশলে মুর্শেদকে গ্রেপ্তার করে গতকাল আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন